খেলারদেশ

কেন আগে হয়নি আলিসের ‘সঠিক’ অ্যাকশন সংশোধন!

বাংলাদেশে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা হয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুরোপুরি অনুমাননির্ভর ।

কেন আগে হয়নি আলিসের ‘সঠিক’ অ্যাকশন সংশোধন!
ক্রিকেট প্রতিবেদক
By ক্রিকেট প্রতিবেদক

বোলিং অ্যাকশন ক্রুটিপূর্ণ কিনা খালি চোখে দেখে, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই। এর জন্য দরকার বায়োমেকানিক্যাল ল্যাব। সেখানে বায়োমেকানিক্স ব্যবহার করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়। সেই বায়োমেকানিক্যাল ল্যাবই নেই বাংলাদেশে। তবুও, ঘরোয়া ক্রিকেটে একাধিকবার বোলিং অ্যাকশন ক্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হওয়ার পর তা শুধরে ফেরত এসেছেন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। সেই শোধরানো যে সঠিক ছিল না, তার প্রমাণ মিলেছে তার ওয়ানডে অভিষেকে!

এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, বোলিং অ্যাকশনে কী পরিবর্তন আনলেন যে আবারও তা নিয়ে সন্দেহ জাগলো! অনেকে দায় দিচ্ছেন তার সঙ্গে কাজ করা কোচকে। তবে, সেই দায়টা পুরোটাই অমূলক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এর বিশদ উত্তর পেতে হলে বাংলাদেশে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা যেভাবে নেওয়া হয়, তা নিয়ে আলোচনা করলেই পাঠকরা সহজেই বুঝে যাবেন।

একটু পেছনে ফিরি! গত বছর নারী ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অফ স্পিনার আয়েশা রহমান শুকতারা বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। তার বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা হয়েছিল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে।

সেখানে থাকা সেন্টার উইকেটে চারদিকে চার ক্যামেরা বসিয়ে তার বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা নেওয়া হয়। অর্থাৎ, চারপাশ থেকে তার বোলিংয়ের ভিডিও ফুটেজ নেওয়া হয়েছিল। সেই ফুটেজে বোলিংয়ের সময় শুকতারার বায়োমেকানিক্স কিভাবে কাজ করে, সে ধরনের কোনো তথ্য ছিল না।

আপনাদের মনে একটু প্রশ্ন জাগতে পারে! কিভাবে বোঝা গেল, বায়োমেকানিক্যাল কোনো তথ্য সেখানে ছিল না। এর উত্তর খুবই সহজ! আপনি যখন ক্যামেরায় কোনো ভিডিও করেন, যা ভিডিও করছেন তাই দেখা যায় এবং নড়াচড়া বোঝা যায়। যা ভিডিও করছেন তা কত ডিগ্রি কোণে নড়াচড়া করল তা বোঝার সামান্যতম সুযোগ নেই। বরং, কিছুটা অনুমান করা সম্ভব, তাও একাধিক ফুটেজ বিশ্লেষণের পর।

এই তথ্যগুলো পেতে, ল্যাবে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি শরীরের সঙ্গে সংযোগ করে ভিডিও নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে কোনোভাবেই পাওয়া যাবে বায়োমেকানিক্যাল কোনো তথ্য।

যেহেতু শুকতারার ক্ষেত্রে এই বায়োমেকানিক্যাল তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি, তাই বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে কিছুটা অনুমান করে তার বোলিং অ্যাকশন বৈধ না অবৈধ সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল।

ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল চলতি বছর আজিজুল হাকিম তামিমের ক্ষেত্রেও। ২০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। একইভাবে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে সবুজ সংকেত পেয়েছিলেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে গত ৭ বছরে তিনবার আলিস আল ইসলামের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। দুইবার বিপিএলে আর একবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। তিনবারই তার বোলিং অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হয়েছিল। পরে তা শুধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরেন তিনি।

তার ক্ষেত্রেও বোলিং অ্যাকশনের সব পরীক্ষা হয়েছিল একই পদ্ধতিতে। এই অনুমান নির্ভর বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা যে কাজে আসেনি তা এবার প্রমাণিত। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই জানলেন অবৈধ বোলিং অ্যাকশনে বোলিং করছেন তিনি।

এই সমস্যার সমাধানে বিসিবি নিজস্ব একটি ল্যাব তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। গত জুনে বেশ ঘটা করে সেমি-বায়োমেকানিক্স ল্যাব তৈরির ঘোষণা দেয় দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।

তবে মজার ব্যাপার হল, নামে সেমি-বায়োমেকানিক্স ল্যাব হলেও তার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি কিছু নেই। চার ক্যামেরা আর কিছু সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধীনে এই সেমি-বায়োমেকানিক্স ল্যাব চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি।

এখানে একটিই বাড়তি জিনিস পাওয়া যাচ্ছে, সকল ক্রিকেটারের তথ্য। বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে বিসিবির অধীনে থাকা সকল ক্রিকেটারের সকল ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ থাকবে বিসিবির কাছে। আর সেসব বিশ্লেষণ করে ক্রিকেটারদের দেওয়া হবে উন্নতি করার টোটকা।

তবে বায়োমেকানিক্স না থাকায় এটা ঠিক কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ঠিকই থেকে যাচ্ছে। এবং এই অনুমাননির্ভরতার জন্য পরবর্তীতে আলিসের মতো অন্য ক্রিকেটাররাও যে ভুগবেন, সেটাও বলা যায় স্পষ্ট করে।

ক্রিকেট প্রতিবেদক

ক্রিকেট প্রতিবেদক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।