খেলারদেশ

ইয়াসির-সাইফুদ্দিনে টি২০ ধাঁধার উত্তর

দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে। এই ম্যাচে জয় ছাড়াও একটা টি২০ ধাঁধার উত্তর মিলিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

ইয়াসির-সাইফুদ্দিনে টি২০ ধাঁধার উত্তর

টি২০ ক্রিকেটে কীভাবে ইনিংস শেষ করতে হয়, সেই ধাঁধার উত্তর দিয়েছেন ইয়াসির ও সাইফুদ্দিন

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

জিম্বাবুয়ে সফরে টি২০ দলে ইয়াসির আলী রাব্বিকে দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। তিন বছর পর ইয়াসিরকে জাতীয় দলে ফেরানোর ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেছিলেন, ইয়াসির নিয়মিত বড় শট খেলতে পারে এবং সহজে বল বাউন্ডারি সীমানা পার করতে পারেন। এই সিরিজে তিনি ৬ নম্বরে ব্যাট করছেন। টি২০ ক্রিকেটে এই পজিশনে সাধারণত ফিনিশারের ভূমিকায় হার্ডহিটাররা খেলেন। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচেই প্রধান নির্বাচকের কথার যুক্তি প্রমাণ করেছের ইয়াসির রাব্বি।হেরে যাওয়া প্রথম ম্যাচে ঝড়ো ফিফটির পর জয় দয়ে সমতা ফেরানো খেলায় প্রায় দুইশ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন।

রাব্বির সঙ্গে ধাঁধার উত্তর দিয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনও। ব্যাটে-বলে নিজের সামর্থের প্রমাণ খুব বেশি দিতে না পারলেও নির্বাচকরা বারবারই তাঁর প্রতি আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার প্রতিদান কিছুটা হলেও দিলেন তিনি। ব্র‍্যাড ইভান্সের করা শেষ ওভারে চার ছক্কা ও দুটি ডাবলসে ২৮ রান তোলেন তিনি, ১০ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন।

শেষ দিকে, পেনাল্টিমেট ওভারগুলিতে কীভাবে ব্যাট করতে হয়, এতদিন বাংলাদেশের ব্যাটারদের কাছে তা ধাঁধা হয়েই ছিলো। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি২০-তে সাইফুদ্দিন আর রাব্বি সেই ধাঁধার উত্তর খোলাসা করে দিয়েছেন। দুই ওপেনারের ১২০ রানের জুটির পরেও মাত্র ১৪ বলে ২১ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল টাইগার দল, এর মাঝেও রানের চাকা সচল রেখেছিলেন ইয়াসির, তবে শেষ ওভারে সাইফুদ্দিন টর্নেডোর মতো ব্যাট না চালালে রান ১৮৬ হয় না।আরো অনেক ম্যাচের।মতোই শক্ত ভিত্তি পেয়েও স্লগ ওভারগুলিতে রান তুলতে না পারায় মামুলি সংগ্রহের দিকেই যাচ্ছিল বাংলাদেশের ইনিংস। কিন্তু সাইফুদ্দিন ও ইয়াসির রাব্বি শেষ তিন ওভারে প্রকৃত টি২০ ব্যাটিং করার কারণেই জয়ের স্কোর পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানেই গুটিয়ে যায়। ম্যাচের শুরুতে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। এই জুটি থেকে আসে ১২০ রান। সাইফ ৪৫ বলে ৫৫ রান করে সিকান্দার রাজার বলে বোল্ড হন। এর কিছুক্ষণ পর তানজিদ হাসানও ৪৪ বলে ৫৮ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে রিচার্ড এনগারাভার শিকার হন। এরপরে ধস ও ইয়াসির-সাইফুদ্দিনের ঝড়ো ইতি টানা।

ফিফটির পর তানজিদ তামিমকে বাহবা দিচ্ছেন সাইফ হাসান

ফিফটির পর তানজিদ তামিমকে বাহবা দিচ্ছেন সাইফ হাসান

১৮৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। দলীয় ২১ রানের মধ্যেই জিম্বাবুয়ে তাদের শীর্ষ ৩ ব্যাটারকে হারায়। ব্রায়ান বেনেটকে বিদায় করেন নাহিদ রানা এবং তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও ডিওন মেয়ার্সকে সাজঘরে ফেরান শেখ মেহেদী হাসান। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও মিল্টন শুম্বা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা বেশিক্ষণ টেকেনি। মাত্র ১২ বলে ২৮ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে রিশাদ হোসেনের বলে নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাজা। শুম্বাও রিশাদের শিকার হন। এরপর রায়ান বার্ল ১৯ বলে ২৯ এবং শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্স ১৪ বলে ২৫ রান করে জিম্বাবুয়ের পরাজয়ের ব্যবধানটাই কেবল কমিয়েছেন। ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। জয় পেলেও অস্বস্তিতে আছে বাংলাদেশ। এই।ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নাহিদ রানা। আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। মাত্র এক মাস আগে দলের সেরা বোলারের ইনজুরি বড় দুঃশ্চিন্তার বিষয়। সংক্ষিপ্ত স্কোর: • বাংলাদেশ: ১৮৬/৫ (২০ ওভার); তানজিদ ৫৮, সাইফ ৫৫, সাইফুদ্দিন ৩১*, ইয়াসির ২২*; এনগারাভা ২/২৩, ইভান্স ২/৬৫। • জিম্বাবুয়ে: ১৫২/১০ (১৯.৪ ওভার); বার্ল ২৯, রাজা ২৮, ইভান্স ২৫; রিশাদ ৪/২৬, মেহেদী ৩/২৪। • ফল: বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়ী।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।