খেলারদেশ

মোহাম্মদ আলি ট্রিবিউট

‘দ্য গ্রেটেস্ট’ মোহাম্মদ আলি

তিনি শুধু মোহাম্মদ আলি নন, তিনি ‘দ্য গ্রেটেস্ট’

‘দ্য গ্রেটেস্ট’ মোহাম্মদ আলি

মোহাম্মদ আলি

রনক জামান
By রনক জামান

‘আমি সর্বকালের সেরা,’ খেলাধুলার ইতিহাসে এমন ঘোষণা অনেকেই দিয়েছেন। কিন্তু খুব কম মানুষই আছেন, যাদের ক্ষেত্রে এই দাবিকে ইতিহাস সত্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। মুহাম্মদ আলি সেই বিরল ব্যতিক্রম। ১৯৮৭ সালের আজকের এই দিনে 'দ্য রিং' ম্যাগাজিনের বক্সিং হল অফ ফেমে মোহাম্মদ আলি অন্তর্ভুক্ত হন। ম্যাগাজিনের অক্টোবর ১৯৮৭ সংখ্যা তাকে উৎসর্গ করে বিশেষ ‘হল অফ ফেম’ সংখ্যা হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছিল।

'দ্য রিং' ম্যাগাজিনের বক্সিং হল অফ ফেমে মোহাম্মদ আলী

'দ্য রিং' ম্যাগাজিনের বক্সিং হল অফ ফেমে মোহাম্মদ আলী

ক্রীড়া ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা বক্সার মোহাম্মদ আলি অবশ্য একাধিক হল অফ ফেমে স্থান পেয়েছেন। ১৯৯০ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল বক্সিং হল অফ ফেম’—বক্সিং জগতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হল অফ ফেম এই সংস্থা। তারা প্রথম ক্লাসের তালিকা প্রকাশকালে মোহাম্মদ আলিকে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। এর আগে ১৯৮৩ সালে ‘ইউ.এস. অলিম্পিক অ্যান্ড প্যারালিম্পিক হল অফ ফেম’ আলিকে ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে লাইট হেভিওয়েট বিভাগে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে স্বর্ণপদক জেতার জন্য এই সম্মান প্রদান করে। আর সর্বশেষ, ২০২৪ সাল মরণোত্তর সম্মাননা হিসেবে ডাব্লিউডাব্লিউই হল অফ ফেমে স্থান পান তিনি।

কিন্তু এতেই মোহাম্মদ আলির গ্রেটনেস নির্ধারণ শেষ হয় না। আলি শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সার ছিলেন না, ছিলেন একাধারে ক্রীড়াবিদ, কবিসুলভ বক্তা, প্রতিবাদী কণ্ঠ, মানবাধিকারকর্মী এবং বিশ্বসংস্কৃতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। এ কারণেই তাকে কেবল বক্সিংয়ের কিংবদন্তি বললে কম বলা হয়। তিনি ছিলেন সময়ের প্রতীক। ২০১৬ সালের ৩ জুন তাঁর মৃত্যু শুধু একজন ক্রীড়াবিদের বিদায় ছিল না, একটা যুগের সমাপ্তি হয়েছিল।

ক্যাসিয়াস ক্লে থেকে মোহাম্মদ আলি

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে লাইট-হেভিওয়েট বিভাগে স্বর্ণপদকজয়ী আলি (মাঝে)

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে লাইট-হেভিওয়েট বিভাগে স্বর্ণপদকজয়ী আলি (মাঝে)

১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির লুইসভিলে জন্মগ্রহণ করেন ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে জুনিয়র। মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বক্সিংয়ের শুরু। মজার ব্যাপার হলো, একটা চুরি হওয়া সাইকেলই তার জীবন বদলে দিয়েছিল। সাইকেল হারানোর পর এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে তিনি অভিযোগ করেছিলেন। সেই কর্মকর্তাই ছিলেন বক্সিং প্রশিক্ষক জো মার্টিন। তার পরামর্শেই বক্সিংয়ে হাতেখড়ি হয় আলির।

মাত্র ২২ বছর বয়সে তৎকালীন হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন সনি লিস্টনকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন

মাত্র ২২ বছর বয়সে তৎকালীন হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন সনি লিস্টনকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে লাইট-হেভিওয়েট বিভাগে স্বর্ণপদক জিতে তিনি বিশ্বকে জানান দেন নিজের আগমনের কথা। এর চার বছর পর, মাত্র ২২ বছর বয়সে, তৎকালীন হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন সনি লিস্টনকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন তিনি। অথচ লড়াইয়ের আগে সবাই ধরেই নিয়েছিল একপেশে ম্যাচ হবে। সনি লিস্টনের সামনে এই ছোকড়া শুরুতেই মারা পড়বে। আর সেখান থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। শুরু হয় নতুন এক যুগ, ক্যসিয়াস ক্লে থেকে মোহাম্মদ আলির।

বাংলাদেশের মাটিতেও রেখে গেছেন স্মৃতি

বাংলাদেশে আলি

বাংলাদেশে আলি

১৯৭৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে পা রাখেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ মুহাম্মদ আলি। তার এই সফর ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার, কিন্তু সেটাই বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনায় পরিণত হয়। তখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। সরকারি আমন্ত্রণে ঢাকায় এসেছিলেন আলি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানানোর জন্য হাজারো মানুষ ভিড় করেছিলেন। ঢাকায় এসে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমও পরিদর্শন করেন। তাঁর সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঢাকার স্টেডিয়ামে (বর্তমান শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়াম এলাকাসংলগ্ন পুরোনো ক্রীড়া কমপ্লেক্স) আয়োজিত অনুষ্ঠান।

আলিকে দেখতে বাংলাদেশের মানুষের ঢল

আলিকে দেখতে বাংলাদেশের মানুষের ঢল

বাংলাদেশ সফরের সময় আলি স্থানীয় বক্সারদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তরুণদের খেলাধুলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তার উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। সে সময় আলি শুধু একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সারই ছিলেন না; তিনি ছিলেন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। ফলে বাংলাদেশে তার সফর ক্রীড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও পেয়েছিল। অনেকের কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় বিষয় ছিল তার আন্তরিকতা। সফরের সময় তিনি ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেন, অটোগ্রাফ দেন এবং স্বভাবসুলভ হাস্যরসের মাধ্যমে সবাইকে মুগ্ধ করেন।

বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে আলিকে প্রতীকী পাসপোর্ট দেওয়া হয়

বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে আলিকে প্রতীকী পাসপোর্ট দেওয়া হয়

সফরের একপর্যায়ে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে তাকে একটা প্রতীকী পাসপোর্ট দেওয়া হলে, আলি মজা করে প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি এখন থেকে বাংলাদেশের নাগরিক?’ কর্মকর্তার উত্তর, ‘জি, ঠিক।’ আলি আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘আমি কি এটা সারা বিশ্বে ব্যবহার করতে পারব?’ কর্মকর্তা হ্যাঁ-সূচক সম্মতি জানালে নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় আলি বলেন, ‘অনেক ধন্যবাদ। আমাকে আমেরিকা থেকে বের করে দিলে আমি এখানে থাকতে পারব।’

সেই সফরে বাংলাদেশ সরকার তাকে সম্মান সূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে। পল্টনের বক্সিং স্টেডিয়ামকে তার নামে নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশে তার অবস্থান ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু প্রভাব ছিল দীর্ঘস্থায়ী। আজও দেশের প্রবীণ ক্রীড়াপ্রেমীরা সেই সফরের কথা স্মরণ করেন।

বক্সিংয়ের ব্যাকরণ বদলে দেওয়া যোদ্ধা

একসময় হেভিওয়েট বক্সার বলতে বোঝানো হতো শক্তিশালী, ভারী ও তুলনামূলক ধীরগতির একজন লড়াকুকে। মুহাম্মদ আলি সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দেন। তার পায়ের গতি ছিল অবিশ্বাস্য। প্রতিপক্ষের আঘাত এড়িয়ে যাওয়া, দ্রুত জায়গা পরিবর্তন করা এবং মুহূর্তের মধ্যে পাল্টা আক্রমণ করা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তার বিখ্যাত উক্তি, ‘Float like a butterfly, sting like a bee’ বা ‘প্রজাপতির মতো ভাসো, মৌমাছির মতো হুল ফোটাও’ শুধু জনপ্রিয় বাক্য নয়; এটাই ছিল তার বক্সিং-দর্শন।

কথাতেও ছিলেন কবি

মুহাম্মদ আলির সবচেয়ে বড় গুণগুলোর একটি তার ভাষার ব্যবহার। লড়াইয়ের আগে প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে চাপে ফেলতেন তিনি এভাবে। ছন্দ মিলিয়ে কথা বলতেন, নিজের জয় সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতেন আর এমন সব মন্তব্য করতেন, যা পরদিন সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে যেত। ‘I am the greatest’—কথাটি শুরুতে অনেকের কাছে অহংকার মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটাই তার পরিচয়ে পরিণত হয়। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘যে মানুষ ঝুঁকি নেওয়ার সাহস রাখে না, সে জীবনে কিছুই অর্জন করতে পারে না।’ তার আরেকটা বিখ্যাত উক্তি ছিল, ‘দিন গুনে যেও না, প্রতিটা দিনকেই অর্থপূর্ণ করে তোলো।’

ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং রিংয়ের বাইরের সবচেয়ে বড় লড়াই

মুহাম্মদ আলির কিংবদন্তি শুধু তার বক্সিং ক্যারিয়ারের কারণে তৈরি হয়নি। বরং তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইটি হয়েছিল রিংয়ের বাইরে। ১৯৬৪ সালে ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে মুহাম্মদ আলি রাখেন। সেই সময়ের আমেরিকায় এরকম সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সাহসী। এর তিন বছর পর ভিয়েতনাম যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে সেনাবাহিনীতে ডাকা হয়। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন।

এর ফল ছিল ভয়াবহ। তার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয়, বক্সিং লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং কয়েক বছর তিনি পেশাদার বক্সিং থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হন। তার বিখ্যাত মন্তব্য ছিল, ‘ভিয়েতকংদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই।’ তৎকালীন সময়ে এই বক্তব্যের কারণে তাকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তার এই অবস্থান তাকে ক্রীড়াবিদের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতীকে পরিণত করে।

ফ্রেজিয়ার ও ফোরম্যানের বিপক্ষে মহাকাব্যিক লড়াই

মুহাম্মদ আলি ও জো ফ্রেজিয়ারের 'ফাইট অব দ্য সেঞ্চুরি'

মুহাম্মদ আলি ও জো ফ্রেজিয়ারের 'ফাইট অব দ্য সেঞ্চুরি'

বক্সিং ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটা ছিল মুহাম্মদ আলি ও জো ফ্রেজিয়ারের লড়াই। তাদের প্রথম লড়াই ‘ফাইট অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত। সেই লড়াইয়ে আলি পরাজিত হন। তবে দ্বিতীয় লড়াইয়ে তিনি প্রতিশোধ নেন। আর তৃতীয় লড়াই ‘থ্রিলা ইন ম্যানিলা’ আজও বক্সিং ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও নাটকীয় লড়াইগুলোর একটা হিসেবে বিবেচিত।

১৯৭৪ সালে জর্জ ফোরম্যানের বিপক্ষে ‘রাম্বল ইন দ্য জাঙ্গল’ ছিল আলির ক্যারিয়ারের আরেকটা স্মরণীয় অধ্যায়। অপরাজিত ফোরম্যানকে হারানোর জন্য তিনি ব্যবহার করেছিলেন ‘রোপ-আ-ডোপ’ কৌশল। প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত হতে দিয়ে সঠিক সময়ে আক্রমণ করার এই কৌশল তাকে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের আসনে ফিরিয়ে আনে।

‘রাম্বল ইন দ্য জাঙ্গল’, জর্জ ফোরম্যানের বিরুদ্ধে আলির বিজয়

‘রাম্বল ইন দ্য জাঙ্গল’, জর্জ ফোরম্যানের বিরুদ্ধে আলির বিজয়

সত্যিকারের লড়াকু চ্যাম্পিয়ন

Image

আজকের অনেক শীর্ষ বক্সারের তুলনায় আলি ছিলেন অনেক বেশি সক্রিয়। ১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে তিনি ২২ বার রিংয়ে নেমেছিলেন। এই সময়ে তিনি জো ফ্রেজিয়ার, কেন নর্টন, জর্জ ফোরম্যান, জেরি কোয়ারি, জিমি এলিস ও রন লাইলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছেন।

তার ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও ঈর্ষণীয়। পেশাদার ক্যারিয়ারে ৬১ লড়াইয়ের মধ্যে ৫৬টিতেই জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭টি জয় এসেছে নকআউটে। তিনি তিনবার বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, যা তার সময়ে ছিল অভূতপূর্ব অর্জন। তবে সংখ্যার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তিনি এমন এক সময়ের সেরা বক্সারদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, যখন হেভিওয়েট বিভাগই ছিল অসাধারণ প্রতিভায় সমৃদ্ধ।

Image

অবশ্য তিনি হল অব ফেমেরও ঊর্ধ্বে। হল অব ফেমে জায়গা পাওয়ার জন্য অসাধারণ ক্রীড়া-সাফল্যই যথেষ্ট। কিন্তু মুহাম্মদ আলির গুরুত্ব শুধু তার অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বক্সিংকে বদলে দিয়েছেন। হেভিওয়েট বক্সারের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন। একজন ক্রীড়াবিদ কীভাবে নিজের কণ্ঠকে সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, তাও দেখিয়ে দিয়েছেন।

পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ছিলেন। আজও নতুন প্রজন্ম তার ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়, তার বক্তব্য পড়ে সাহস পায়, তার জীবন থেকে শিক্ষা নেয়। রিংয়ে তিনি ছিলেন একজন চ্যাম্পিয়ন। কথায় ছিলেন কবি। বিশ্বাসে ছিলেন বিদ্রোহী। আর ইতিহাসে?

তিনি শুধু মোহাম্মদ আলি নন। তিনি ‘দ্য গ্রেটেস্ট’।

রনক জামান

রনক জামান

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।