ফিফা উয়েফা
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উয়েফার আইনি পদক্ষেপ!
বিশ্বকাপ ‘বিক্রির’ পরিকল্পনা ইস্যুতে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে উয়েফা

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উয়েফার আইনি পদক্ষেপ!
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি বাতিল হয়ে যাওয়া পরিকল্পনা ঘিরে এবার আরও বড় আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে বাইরের বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। সেই উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। এবার দ্য টাইমস ও দ্য মেইলের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, পরিকল্পনাটি নিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে উয়েফা।
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত পরিকল্পনার নাম ছিল ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)। এর আওতায় পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনার জন্য একটি নতুন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। পাশাপাশি এতে বাইরের বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ফিফার ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক বিরোধিতা শুরু হয়। দ্য টাইমস বিষয়টি প্রকাশ করার মাত্র তিন দিনের মধ্যে পরিকল্পনাটি স্থগিত করে ফিফা। পরে ১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবেও প্রকল্পটি বাতিল করা হয়। কিন্তু সেই বাতিল পরিকল্পনাই এখন ইনফান্তিনোর জন্য নতুন আইনি সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে।
কেন ফৌজদারি মামলার কথা ভাবছে উয়েফা? দ্য টাইমসের সাংবাদিক মার্টিন জিগলারের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, উয়েফা আদালতে এমন কিছু নথি জমা দিয়েছে, যেখানে ইনফান্তিনো এবং সম্ভবত ফিফার আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘ক্রিমিনাল মিসম্যানেজমেন্ট’ বা অপরাধমূলক অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এফএফইতে ফিফার টুর্নামেন্টগুলোর অংশীদারত্বের প্রস্তাবিত মূল্য। উয়েফার আইনজীবীদের দাবি, ফিফার টুর্নামেন্টগুলোর ২০ শতাংশ অংশীদারত্বের জন্য ৪.২ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম ছিল। তাদের অভিযোগ, এই মূল্য কোনো উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক নিলামের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়নি। এমনকি কোনো স্বাধীন মূল্যায়নকারীর মাধ্যমেও মূল্যটি যাচাই করা হয়নি। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড ‘ক্রিমিনাল মিসম্যানেজমেন্টের পর্যায়ে’ পৌঁছে থাকতে পারে। উয়েফা আরও দাবি করেছে, সুইস আইনে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করার আগে মামলায় সাফল্যের সম্ভাবনা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
থ্রাইভ ক্যাপিটালও তদন্তের আওতায়? এফএফই পরিকল্পনার সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী হিসেবে আলোচনায় এসেছিল মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটাল। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনার। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।
উয়েফা আদালতের কাছে থ্রাইভ ক্যাপিটাল এবং এফএফইর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে থাকা সব নথি ও তথ্য প্রকাশের নির্দেশ চেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। উয়েফা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে, এটা কোনো আদালতের রায়ে ইনফান্তিনোকে দোষী সাব্যস্ত করার অর্থও নয়।
এই ব্যাপারে ইনফান্তিনো কী বলেছেন? ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ইনফান্তিনো কিংবা ফিফার পক্ষ থেকে এই নতুন আইনি অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এফএফই প্রকল্প বাতিলের সময় ফিফা জানিয়েছিল, প্রকল্পটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত এর মূল উদ্দেশ্যের স্বার্থে আর ছিল না। পরবর্তীতে ইনফান্তিনোকে ঘিরে সমালোচনা বাড়তে থাকলে ফিফা আরও কঠোর ভাষায় নিজেদের অবস্থান জানায়। ফিফার বক্তব্য ছিল, তারা বৈধ নজরদারি ও সমালোচনাকে স্বাগত জানায়। তবে তথ্য বিকৃত করা, ভিত্তিহীন অভিযোগকে বড় করে তোলা কিংবা ফিফার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা মেনে নেওয়া হবে না।
ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। আইনি বিতর্কের মধ্যেও ইনফান্তিনো এখনো ফিফার সভাপতি। তবে সামনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ১৮ মার্চ ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে ৭৭তম ফিফা কংগ্রেস। সেখানেই পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। এখন ধারণা করা হচ্ছে, এবার ইনফান্তিনোকে অন্তত একজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হবে।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। ২০১৯ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। তার মেয়াদের সীমা নিয়েও আগে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ফিফা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সভাপতির প্রথম তিন বছর ১২ বছরের মেয়াদসীমার হিসাবে গণনা করা হয়নি। ফলে বর্তমান নিয়মের ব্যাখ্যায় ইনফান্তিনো ২০৩১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার সুযোগ পেতে পারেন। তবে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ও বাইরের বিনিয়োগ ঘিরে বিতর্ক এবার তার নেতৃত্বকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এফএফই প্রকল্প বাতিল হলেও রেশ যে শেষ হয়নি, উয়েফার সম্ভাব্য ফৌজদারি পদক্ষেপের খবরই তার বড় প্রমাণ। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগ শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা মামলায় গড়ায় কি না।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
ফুটবলমেসির সম্মানে আর্জেন্টিনার সব ম্যাচ থামবে ১০ মিনিটে
ফুটবলফুটবলে হাই প্রেস কী, কীভাবে কাজ করে, ভাঙার উপায়
ফুটবলমেসির অবসরে আবেগঘন বিদায় সতীর্থদের
ফুটবলঅবসরের ঘোষণা দিলেন মেসি
ফুটবলএমি মার্তিনেজকে কেন ‘দিবু’ বলা হয়?
ফুটবল




মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।