খেলারদেশ

মার্কো ফন বাস্তেন

মার্কো ফন বাস্তেন: উট্রেখটের রাজহাঁস

মাত্র ২৮ বছর বয়সে ক্যারিয়ার থেমে যায় ডাচ কিংবদন্তি ফুটবলার মার্কো ফন বাস্তেনের। এই ছোট ক্যারিয়ারেও তিনি দীর্ঘ আঁচড় রেখে যান ফুটবল ইতিহাসে। সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকারদের নামের পাশে ফন বাস্তেনের অবস্থান। অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহুর্তের জন্ম দেওয়ার নায়ক ফন বাস্তেন।

মার্কো ফন বাস্তেন: উট্রেখটের রাজহাঁস

মার্কো ফন বাস্তেন

রনক জামান
By রনক জামান

১৯৯৫ সালের আজকের এই দিনে ফুটবল থেকে অবসর নেন ডাচ কিংবদন্তি মার্কো ফন বাস্তেন। মার্কো ফন বাস্তেন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৪ সালের ৩১ অক্টোবর, নেদারল্যান্ডসের উট্রেখটে।

তিনি ছিলেন ইউরোপীয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম পরিশীলিত স্ট্রাইকার। গোল করার জন্য তার কাছে ছিল অসাধারণ সব অস্ত্র: ডান পা, বাম পা, মাথা, ভলি, বাইসাইকেল কিক, দূরপাল্লার শট, ফ্রি-কিক। কিন্তু শুধু গোল করার ক্ষমতাই তাকে মহান করেনি। তাকে অন্যদের চাইতে আলাদা করেছিল তার সময়জ্ঞান, বুদ্ধি, সৌন্দর্য ও নিখুঁত কৌশলের দক্ষতা। তার খেলা ছিল ফুটবল আর শিল্পের মাঝামাঝি এক ‘তূরীয়’ জায়গা।

আর তার ডাকনাম? ‘দ্য সোয়ান অব উট্রেখট’ বা, উট্রেখটের রাজহাঁস। রাজহাঁসের মতো তার চলনে ছিল সৌন্দর্য। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ংকর এক গোলশিকারি।

আয়াক্সের হয়ে অভিষেক ম্যাচে ফন বাস্তেন

আয়াক্সের হয়ে অভিষেক ম্যাচে ফন বাস্তেন

ছয় বছরের এক ছোট্ট ছেলে। টেলিভিশনের সামনে বসে মুগ্ধ হয়ে দেখছে জিমন্যাস্টদের অবিশ্বাস্য সব কসরত। পমেল হর্স, রিং, বার কিংবা ভল্ট, প্রতিটি প্রদর্শনীই তাকে সম্মোহিত করে ফেলেছিল। সেই ছেলের স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে সেও একদিন জিমন্যাস্ট হবে। ছেলেটার নাম মার্কো ফন বাস্তেন।

কিন্তু ১৯৭১ সালে তার জীবন বদলে যায়। সেই বছর টেলিভিশনের পর্দায় সে দেখেছিল এক অন্য জাদু। জাদুর নাম ছিল ইউরোপিয়ান কাপজয়ী আয়াক্সের ‘টোটাল ফুটবল’। ইয়োহান ক্রুইফদের ফুটবল তার কল্পনার জগৎকে নতুন করে সাজিয়ে দিল। ওয়েম্বলির সেই ফাইনাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে গেল তার জিমন্যাস্ট হওয়ার স্বপ্নও। ফন বাস্তেন খুঁজে পেলেন নতুন নায়ক, নতুন স্বপ্ন। স্বপ্নের নাম ফুটবল।

কেননা, বাবার রক্তে ছিল ফুটবল। নেদারল্যান্ডসের উট্রেখটে জন্ম নেওয়া ফন বাস্তেনের পরিবারে ফুটবল ছিল এক পরিচিত বিষয়। তার বাবা জুপ ফন বাস্তেন ১৯৫০-এর দশকে সেমি-প্রফেশনাল ফুটবল খেলেছিলেন। বড় ভাই স্ট্যানলির নাম রাখা হয়েছিল ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের নাম অনুসারে। স্বাভাবিকভাবেই ফুটবল তার জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। প্রথমে স্থানীয় ক্লাব ইডিও, পরে ইউভিভি উট্রেখট এবং শেষ পর্যন্ত ইউএসভি এলিংকউইজকে নিজের ফুটবলের ঠিকানা বানান তিনি।

তবে শুরুতে ফুটবলকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি ফন বাস্তেন। তার ভাষায়, ‘আমি আসলে ফুটবল নিয়ে খুব বেশি ভাবতাম না। শুধু উপভোগ করতাম।’ কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে শুরু করেন, ফুটবলে তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। একজন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন জন্ম নেয় ফুটবলের প্রতি এত গভীরে ভালোবাসা থেকে। আর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেন তখনই, আয়াক্সে যোগ দেবেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে ভাই স্ট্যানলিকে নিয়ে আয়াক্সের ট্রায়ালে অংশ নেন ফন বাস্তেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে নির্বাচিত হন একজন, মার্কো ফন বাস্তেন। আয়াক্সের বিখ্যাত একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর যেন আরও দ্রুত বিকশিত হতে থাকেন তিনি। যুব, রিজার্ভ ও সিনিয়র দল মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচে করেন ৬৮ গোল।

১৯৮২ সালে আয়াক্সের মূল দলে অভিষেক। কাকতালীয়ভাবে তাকে মাঠে নামানো হয়েছিল তার শৈশবের নায়ক ইয়োহান ক্রুইফের বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। তারপর? প্রথম পেশাদার ম্যাচেই গোল। মাঠে নামার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই গোলটা করেন। মনে হচ্ছিল, নতুন এক কিংবদন্তির জন্ম হচ্ছে। গোল করা যেন তার জন্মগত অধিকার।

তিনি যে কিংবদন্তির জায়গায় নেমেছিলেন, পরবর্তীতে সেই ক্রুইফই হয়ে উঠলেন তার কোচ ও পরামর্শদাতা। ক্রুইফ তাকে শুধু গোল করাটাই শেখাননি, শিখিয়েছেন মোক্ষম ‘গেম রিডিং’। ডিফেন্ডারের পজিশনিং, কখন ডিফেন্ডার কোথায় থাকবে বা সরবে, বল কখন কোথায় আসবে, কখন স্পেস ছাড়তে হবে, কখন এক সেকেন্ড আগে ছুটতে হবে... এসবের মধ্যেই ফন বাস্তেনের ফুটবল-দর্শন গড়ে উঠেছিল।

১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭, চার বছর ছিল আয়াক্সে ফন বাস্তেনের রাজত্বের সময়। এই সময়ে ১১২ লিগ ম্যাচে করেন ১১৮ গোল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪৫ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৩৮। ১৯৮৫/৮৬ মৌসুমে মাত্র ২৬ ম্যাচে ৩৭ গোল করে জয় করেন ইউরোপীয় গোল্ডেন বুট। পরের মৌসুমে ৪৩ ম্যাচে করেন ৪৩ গোল। স্পার্টা রটারডামের বিপক্ষে এক ম্যাচে তিনি একাই করেছিলেন ৬ গোল। হেরাক্লেসের বিপক্ষে করেছিলেন ৫ গোল। গোলের খাতা যেন ছিল তার জন্যই পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ওলটাতে প্রস্তুত। ফন বাস্তেনের গোলের তালিকা এত বৈচিত্র্যময় যে তাকে নির্দিষ্ট ধরনের স্ট্রাইকারের প্রফাইলে আটকে রাখা কঠিন। আর তার গোলগুলোও ছিল শিল্পের মতো।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, তিনি নিজের গোলগুলো নোটবুকে লিখে রাখতেন। বাবা জুপ তাকে এই অভ্যাস শিখিয়েছিলেন ছোটবেলাতেই। কৈশোর থেকে প্রতিটা ম্যাচের হিসাব লিখে রাখতেন। খেলেছেন কিনা, গোল করেছেন কিনা, ইনজুরিতে ছিলেন কিনা সবকিছুই খাতায় লিপিবদ্ধ করতেন। শুধু নিজের পারফরম্যান্সই না, পুরো লিগের পয়েন্ট তালিকাও লিখে রাখতেন তিনি। ক্যারিয়ারে তার গোলসংখ্যা ৩১৪। এর মধ্যে ক্লাব পর্যায়ে ২৭৭। কিন্তু সব গোলের মধ্যে একটা গোল তাকে অমর করে রেখেছে।

Image

১৯৮৮ সালের সেই ভলি। যে ভলিতে পুরো পৃথিবী অবাক হয়েছিল। ম্যাচটা ছিল ১৯৮৮ সালের ইউরো ফাইনাল। প্রতিপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়ন। ইয়োহান ক্রুইফের মতো খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডস তখনও বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে পারেনি। তাদের সামনে তাই ইতিহাস তৈরির সুযোগ। রুড খুলিতের গোলে ডাচরা এগিয়ে যায়। তারপর ৫৪তম মিনিট। আর্নল্ড মুরেন বাঁ দিক থেকে বল পাঠালেন বক্সের দিকে। মাঝখানে থাকা খুলিতকে ছাড়িয়ে বল পৌঁছে গেল ফন বাস্তেনের কাছে। অন্য কোনো স্ট্রাইকার হয়তো বলটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরের একশন কী হবে সিদ্ধান্ত নিতেন। হয়তো মাঝখানে ক্রস করতেন। কিন্তু ফন বাস্তেন অন্য কিছু ভাবলেন। অসাধারণ এক ভলি। অসম্ভব কঠিন এঙ্গেল থেকে তার ডান পায়ের শট ছুটে গেল প্রতিপক্ষের ফার পোস্টে।

সোভিয়েত গোলরক্ষক রিনাত দাসায়েভের কিছুই করার ছিল না। গোল! আজও সেই গোলকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর সেই গোলের মাধ্যমেই নেদারল্যান্ডস জিতে নেয় তাদের ইতিহাসের প্রথম এবং এখনো একমাত্র ইউরো শিরোপা। ফন বাস্তেন তখন শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না। তিনি হয়ে গেলেন ইতিহাসের একটি ছবি।

Image

এরপর সেই বাইসাইকেল কিক। একটা ওভারহেড শট কতটা সুন্দর হতে পারে তা ইউটিউব, ইন্সটা, টিকটকের ক্লিপস দেখে এখনো মানুষ মুগ্ধ মনে প্রশংসা করে। ১৯৮৬ সালে আয়াক্সের হয়ে তরুণ ফন বাস্তেন যে গোলটা করেছিলেন, সেটাও তার প্রতিভার অসাধারণ উদাহরণ হয়ে থেকে গেল। একটা ক্রস তার দিকে আসছিল। বলটা সামনের দিকে না নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন বাইসাইকেল কিক নেবেন। নিলেন, বলটাও প্রতিপক্ষের জালে।

Image

ফন বাস্তেন পরে নিজের আত্মজীবনী ‘ফ্র্যাজাইল’-এ সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে বুঝিয়েছিলেন, এমন গোল করার সময় কতটা সূক্ষ্ম ভারসাম্য, গতি ও শরীরের কম্বিনেশন প্রয়োজন। সেখানে ঝুঁকিও ছিল, গোল করা অথবা পড়ে গিয়ে নিজেকে মারাত্মকভাবে আহত করা। এটাই ছিলেন ফন বাস্তেন। তিনি ফুটবল খেলতেন, কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হতো তিনি যেন মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে লড়াই করছেন।

Image

এরপর আয়াক্সের গোলমেশিন থেকে কিংবদন্তি হয়ে উঠলেন এসি মিলানে গিয়ে। আয়াক্সের হয়ে ৩ লিগ শিরোপা, ৩ ডাচ কাপ এবং ১টা ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপ জয়ের পর ১৯৮৭ সালে মাত্র ১৫ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে ইতালির এসি মিলানে যোগ দেন তিনি। তখন ইতালির ফুটবলে বিপ্লব ঘটানোর পরিকল্পনা করছিলেন সিলভিও বেরলুসকোনি। আর সেই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন ফন বাস্তেন।

তখন ইতালির সিরি আ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন ও কৌশলনির্ভর লিগগুলোর একটা। সেখানে ডিফেন্ডাররা ছিলেন নির্মম, স্পেস কম দিতেন, তাই একজন স্ট্রাইকারের জন্য প্রত্যেকটা সুযোগ ছিল মূল্যবান। কিন্তু ফন বাস্তেন সেখানেও নিজেকে মানিয়ে নিলেন। আরিয়েগো সাক্কির অধীনে তিনি হয়ে উঠলেন মিলানের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। পরে ফাবিও কাপেলোর অধীনেও তার শ্রেষ্ঠত্ব অব্যাহত থাকে। মিলানের সেই দল ছিল ইউরোপের সবচেয়ে ভয়ংকর দলগুলোর একটা। আর সেই দলের অন্যতম প্রধান তারকা ছিলেন ফন বাস্তেন।

কিন্তু ফন বাস্তেনের মর্মান্তিক গল্প হলো, যে শরীরে তিনি ফুটবলের ইতিহাস রচয়িতা হয়েছেন, শেষ পর্যন্ত সেই শরীরই তার শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ডান গোড়ালি। বারবার চোট, অস্ত্রোপচার, ব্যথা, সবকিছু সত্ত্বেও তিনি খেলেছেন। মাঠে নামার আগে গোড়ালি ব্যান্ডেজ করা থাকত। ব্যথা ছিল। কিন্তু তিনি খেলতেন। ১৯৯২ সালে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি'অর জেতার পর তার গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচার সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। মাঠে ফিরে এসে বুঝতে পারলেন, শরীর আর তার মনের নির্দেশ শুনছে না। মাথা বলছে এক। পা করছে আরেক।

Image

১৯৯৩ সালে মাত্র ২৮ বছরেই মূলত শেষ হয় তার ক্যারিয়ার। সেদিনের পাঁচ মিনিটই ছিল তার বিদায়ের শেষ বাঁশি। ম্যাচটি ছিল ১৯৯৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল। মিলানের প্রতিপক্ষ মার্সেই। ফন বাস্তেন তখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। কিন্তু ৮৫তম মিনিটে কাপেলো তাকে মাঠে নামালেন। মাত্র পাঁচ মিনিট। এই পাঁচ মিনিটই হয়ে গেল তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ পাঁচ মিনিট। আর কোনো জাদু দেখাতে পারলেন না। মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি কার্যত ফুটবল থেকে ছিটকে গেলেন।

১৯৯৪ সালে মিলান আবার সিরি আ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতল। কিন্তু ফন বাস্তেন মাঠে ছিলেন না। তিনি ছিলেন দর্শক। একজন চ্যাম্পিয়ন, যে নিজের দলকে ট্রফি জিততে দেখছে, কিন্তু নিজে আর খেলতে পারছেন না।

Image

১৭ আগস্ট ১৯৯৫ সালে আনুষ্ঠানিক শেষকৃত্য

১৯৯৫ সালের ১৮ আগস্ট। সান সিরো। প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। মাঠে নামলেন ফন বাস্তেন। কিন্তু এবার খেলার জন্য নয়। বিদায়ের জন্য। সোয়েডের জ্যাকেট পরা ফন বাস্তেন মাঠ প্রদক্ষিণ করছিলেন। গ্যালারিতে তখন হাজারো মিলান সমর্থকের চোখে পানি। মাত্র ৩০ বছর বয়সে একজন কিংবদন্তি বিদায় নিচ্ছেন।

তিনি পরে আত্মজীবনীতে সেই মুহূর্তকে বর্ণনা করেছিলেন নিজের ‘নিজের শেষকৃত্যে অতিথি’ হওয়ার মতো অনুভূতি হিসেবে। কী নির্মম উপলব্ধি! তিনি জীবিত, সামনে হাজার হাজার মানুষ, সবাই তাকে ভালোবাসছেন, কিন্তু ফুটবলার মার্কো ফন বাস্তেন আর নেই।

উট্রেখটের রাজহাঁসটির ডানা ভেঙে গেছে। ২৪টি দলীয় শিরোপা, তিনটি ব্যালন ডি'অর। ফন বাস্তেনের ক্যারিয়ার ছোট ছিল। কিন্তু অর্জন ছিল অবিশ্বাস্য। তিনি জিতেছেন—৩ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ২ সিরি আ শিরোপা, ২ ইতালিয়ান সুপার কাপ, ২ ইউরোপিয়ান সুপার কাপ, ২ ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ, আয়াক্সের হয়ে ডাচ লিগ ও কাপসহ একাধিক শিরোপা এবং জাতীয় দলের হয়ে ১৯৮৮ সালের ইউরো শিরোপা। আর ব্যক্তিগত পুরস্কারের মধ্যে ব্যালন ডি'অর ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯২।

তিনি শুধু গোলস্কোরার ছিলেন না। ফন বাস্তেনকে শুধু ‘স্ট্রাইকার’ বললে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি একজন প্লেমেকারও ছিলেন। বল ধরে রাখা, সতীর্থকে সুযোগ তৈরি করে দেওয়া কী পাস, ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে এনে কৌশলে অন্যকে স্পেস করে দেওয়াতেও তিনি অসাধারণ ছিলেন। মিলানের হয়ে ২০১ ম্যাচে তাঁর গোল ছিল ১২৫টি, সঙ্গে ৪৯টি অ্যাসিস্ট। নিজে গোল করা, অন্যদের দিয়েও গোল করানোর ক্ষমতা তাকে তার সময়ের অন্য স্ট্রাইকারের চেয়ে আলাদা করেছিল।

Image

‘বাস্তেন চোটে না পড়তেন যদি?’

এই প্রশ্নের উত্তর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আজও বেঁচে আছে। কিন্তু উত্তর কোনোদিনই মিলবে না। ফন বাস্তেন যদি সুস্থ থাকতেন, তার ক্যারিয়ার কোথায় গিয়ে থামত? আরও কতগুলো গোল করতেন? কতগুলো ব্যালন ডি'অর? চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা? আরও কত অবিশ্বাস্য মুহূর্ত?

এইটুকু ক্যারিয়ারেও ফন বাস্তেন কেন এত বিশেষ? কারণ তিনি ছিলেন একই সঙ্গে শক্তিশালী ও কোমল, কার্যকরী ও নান্দনিক, ভয়ংকর ও মার্জিত। গোল করতেন শিকারির মতো। দৌড়াতেন একজন নৃত্যশিল্পীর মতো। বল নিয়ন্ত্রণ করতেন জাদুকরের মতো। তার ফুটবল ছিল নিখুঁত। তার ক্যারিয়ার দীর্ঘ না হলেও তার স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। তার নাম উচ্চারিত হয় সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকারদের নামের পাশে। উট্রেখটের রাজহাঁসের ডানা ভেঙেছিল। কিন্তু তার আকাশে ওড়ার স্মৃতি আজও ফুটবল সমর্থকদের মুগ্ধ করে।

রনক জামান

রনক জামান

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।