খেলারদেশ

ফিফা তদন্ত

শাস্তি এড়াতে আর্জেন্টিনার পরিকল্পনা

ফকল্যান্ডস দ্বীপ আর্জেন্টিনার লেখা ব্যানার প্রদর্শনে ফিফার তদন্তে আর্জেন্টিনা, শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল এসোসিয়েশন ও ফুটবলাররা?

শাস্তি এড়াতে আর্জেন্টিনার পরিকল্পনা
খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মাঠে ফকল্যান্ডস (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত একটা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও জাতীয় দলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ ব্যানারটি হাতে মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোকেও সমর্থকদের সামনে প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এরপরই বিষয়টি ফিফার নজরে আসে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি ইতোমধ্যে এএফএর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে, মাঠে ওই ব্যানার প্রদর্শন ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালার লঙ্ঘন কি না।

এদিকে শাস্তি এড়াতে আইনি প্রস্তুতি শুরু করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মূল যুক্তি হবে, ব্যানারটি দর্শকদের পক্ষ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবং এর প্রদর্শনে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ কোনো পূর্বপরিকল্পিত ব্যাপার ছিল না। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক প্রচারণার অংশও ছিল না।

ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে ক্রীড়া ইভেন্টকে রাজনৈতিক, ভূরাজনৈতিক বা খেলার বাইরের কোনো বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাঠে রাজনৈতিক স্লোগান, ব্যানার বা প্রতীক প্রদর্শন এই বিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এএফএর বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা থেকে শুরু করে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আর্থিক জরিমানা হতে পারে। শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে ঘটনার গুরুত্ব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ববর্তী রেকর্ডও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, শুধু ফুটবল সংস্থাই নয়, ব্যানার হাতে তোলা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। যদি ফিফা মনে করে খেলোয়াড়রা সচেতনভাবে রাজনৈতিক বার্তাটি প্রচার করেছেন, তাহলে তাঁদের ব্যক্তিগত শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে। যদিও ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর ব্যবস্থা সাধারণত গুরুতর ক্ষেত্রে নেওয়া হয়, তবু মাঠে রাজনৈতিক বার্তার ব্যাপারে ফিফার বর্তমান অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।

এই ঘটনায় অতীতের কয়েকটি নজিরও সামনে আসছে। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর উদ্‌যাপনের সময় ‘জিব্রাল্টার স্পেনের’ স্লোগান দেওয়ায় স্পেনের আলভারো মোরাতা ও রদ্রি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। আবার ২০১৮ বিশ্বকাপে সার্বিয়ার বিপক্ষে গোল উদ্‌যাপনের সময় আলবেনিয়ার দ্বিমুখী ঈগলের প্রতীক দেখানোর কারণে সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা ও জেরদান শাকিরিকে জরিমানা করেছিল ফিফা। এছাড়া ২০১৪ সালে সার্বিয়া–আলবেনিয়া ম্যাচে রাজনৈতিক প্রতীক বহনকারী ড্রোনের ঘটনাও আন্তর্জাতিক ফুটবলে কঠোর শাস্তির নজির হিসেবে বিবেচিত হয়।

এখন ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে আর্জেন্টিনা। তদন্ত শেষে শুধু আর্থিক জরিমানাতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি খেলোয়াড় বা ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তি আসবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।