খেলারদেশ

নেইমারের ফুটবল ক্যারিয়ারে যেসব ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসের প্রথম দলে অভিষেক হয় নেইমারের।

নেইমারের ফুটবল ক্যারিয়ারে যেসব ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ

২০১৩ সালে ব্রাজিলের হয়ে কনফেডারেশন্স কাপ জিতেছিলেন নেইমার

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বুধবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বর্ণিল ও প্রভাবশালী চরিত্র নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলের ‘জোগো বোনিতো' বা সুন্দর ফুটবলের ঐতিহ্য ধারণ করে দুর্দান্ত ড্রিবলিং, অসাধারণ গোল এবং বৈচিত্র্যময় খেলার শৈলী দিয়ে তিনি ফুটবল বিশ্বকে মাত করে রেখেছেন। তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারেও ছিলো উত্থান ও পতন। নেইমারের সুদীর্ঘ ও সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের স্মরণীয় ১০টি মুহূর্ত নিচে তুলে ধরা হলো-

২০০৯ সান্তোসের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক: মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসের প্রথম দলে অভিষেক হয় নেইমারের। অভিষেকের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নজরে আসেন তিনি।

২০১১ সালে ফ্ল্যামেঙ্গোর বিরুদ্ধে সান্তোসের হয়ে একটি ম্যাচে মাঝমাঠ থেকে একাই ৪-৫ জন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে লক্ষ্যভেদ করেন নেইমার। অসাধারণ এই একক নৈপুণ্যের গোলটি ২০১১ সালে ফিফা পুসকাস পুরস্কার জয় করে।

একই বছরে সান্তোসকে প্রায় ৪৮ বছর পর লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট কোপা লিবার্তাদোরেস জেতান নেইমার। ফাইনালে পেনিয়ারোলের বিরুদ্ধে গোল করে ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়কে পরিণত হন তরুণ ফুটবলার।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নেইমারের প্রথম বড় সাফল্য আসে ২০১৩ সালে। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত কনফেডারেশনস কাপের ফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়ে ‘গোল্ডেন বল' অর্জন করেন তিনি। আর সে বছরই সান্তোস ছেড়ে বার্সেলোনায় পারি জমান এই পোস্টার বয়।

২০১ থেকেই মেসি এবং সুয়ারেজের সঙ্গে বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ী গড়ে তোলেন নেইমার। ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা, কোপা দেল রে এবং ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ—তিনটিই জেতেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে জুভেন্টাসের বিপক্ষে শেষ গোলটি করে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন এবং টুর্নামেন্টের যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাস থেকে অধরা একমাত্র ট্রফিটি ছিল অলিম্পিক স্বর্ণপদক। ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে রিও অলিম্পিকে অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেন নেইমার। ফাইনালে জার্মানির বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ফ্রি-কিক এবং টাইব্রেকারে জয়সূচক শটটি নিয়ে ব্রাজিলকে প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক এনে দেন তিনি।

২০১৭ সালে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে পিএসজির কাছে প্রথম লেগে ৪-০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে ৬-১ ব্যবধানে জিতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন (রেমোনটাডা) করে বার্সা। ম্যাচের শেষ চার মিনিটে দুই গোল ও একটি জয়সূচক অ্যাসিস্ট করে পুরো ম্যাচের চিত্র একাই বদলে দিয়েছিলেন নেইমার।

একই বছরে রেকর্ড ট্রান্সফার ফি ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে পিএসজিতে যোগ দেন নেইমার। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ট্রান্সফারটি নেইমারকে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে চর্চিত ও দামি তারকাতে রূপান্তর করে।

পিএসজিতে নেইমার থাকাকালীন সবচেয়ে বড় সাফল্য বলা যায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে যাওয়। ২০১৯-২০ মৌসুমে পিএসজিকে তাদের ইতিহাসের প্রথম ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে নিয়ে যান নেইমার। যদিও ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে পরাজিত হতে হয়, তবুও পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।

২০২৩ সালে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে ব্রাজিলের হয়ে কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড ৭৭ গোলের মাইলফলক অতিক্রম করেন নেইমার। ৮০টি গোল নিয়ে তিনি ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এই ল্যাটিন ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।