খেলারদেশ

ব্যালন ডি'অর

কে পাচ্ছেন ২০২৬ ব্যালন ডি'অর?

২০২৬ ব্যালন ডি'অর: এগিয়ে কেইন ও ইয়ামাল, আলোচনায় ফিরেছেন মেসি-এমবাপ্পেও

কে পাচ্ছেন ২০২৬ ব্যালন ডি'অর?

কে পাচ্ছেন ২০২৬ ব্যালন ডি'অর?

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

২০২৫-২৬ মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি'অর নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর এবার লড়াই জমে উঠেছে হ্যারি কেইন, লামিন ইয়ামাল, লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, রদ্রি ও বর্তমান ব্যালন ডি'অরজয়ী উসমান দেম্বেলের মধ্যে।

আগামী ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে এবারের ব্যালন ডি'অর অনুষ্ঠান। সেখানে ২০২৫ সালের বিজয়ী উসমান দেম্বেলের উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করা হবে। কিন্তু এই পুরষ্কারের দৌড়ে কারা এগিয়ে আছেন?

Image

১. রদ্রি — স্পেনের সাফল্যের প্রাণভোমরা

স্পেনকে ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতানোর পথে অধিনায়ক হিসেবে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন রদ্রি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ, ম্যাচের গতি নির্ধারণ এবং দলের ভারসাম্য রক্ষায় তিনি ছিলেন অনন্য। তার ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতেছেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল। ক্লাব ফুটবলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখায় রদ্রি ২০২৬ ব্যালন ডি'অরের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। দ্বিতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতার সম্ভাবনায় রদ্রির নাম প্রথমেই আনতে হয়।

২. হ্যারি কেইন — গোলের বন্যায় শীর্ষ দাবিদার

২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫৫ গোলের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের জার্সিতেও বিশ্বকাপে ৬ গোলসহ মোট ১৮ গোল করেন তিনি। বায়ার্নকে জেতান দুটি শিরোপা, আর ইংল্যান্ডকে এনে দেন বিশ্বকাপের ৩য় স্থান। পুরো মৌসুমে তার দুর্দান্ত গোলসংখ্যা ও ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স তাকে ২০২৬ ব্যালন ডি'অরের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করেছে।

লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘার বলেছেন, "গত ১২ মাসের পারফরম্যান্স বিচার করলে ব্যালন ডি'অর হ্যারি কেইনেরই প্রাপ্য।" তবে তিনি এটাও মনে করেন, বিশ্বকাপের বছর হওয়ায় ভোটাররা হয়তো বিশ্বকাপজয়ী দলের কোনো খেলোয়াড়কে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন।

৩. উসমান দেম্বেলে — শিরোপাধারীর মুকুট ধরে রাখার লড়াই

২০২৫ সালের ব্যালন ডি'অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবারও অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে বিশ্বকাপ শুরুর আগ পর্যন্ত অনেক বিশ্লেষকের চোখে তিনিই ছিলেন ব্যালন ডি'অরের প্রধান ফেভারিট। যদিও ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, তবুও পুরো মৌসুমে তার প্রভাব, সৃজনশীলতা এবং বড় ম্যাচে অবদান তাকে টানা দ্বিতীয়বার ব্যালন ডি'অর জয়ের আলোচনায় রেখেছে। তবে বিশ্বকাপজয়ী লামিন ইয়ামাল, গোলমেশিন হ্যারি কেইন এবং স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির উত্থানে তার পথ এখন আগের চেয়ে অনেক কঠিন।

৪. লামিন ইয়ামাল — বিশ্বকাপ জয়েই পাল্টে গেছে সমীকরণ

স্পেনকে ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতানোর অন্যতম নায়ক লামিন ইয়ামাল এখন কেইনের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি'অরজয়ী রদ্রি বিশ্বকাপের আগেই বলেছিলেন, ইয়ামালের মধ্যে ভবিষ্যতের ব্যালন ডি'অরজয়ীর সব গুণ রয়েছে। বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই দাবিই আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার উইলিয়াম গালাসও মনে করেন, ইয়ামালের বিশ্বকাপজয়ী অবদান কেইনের ব্যক্তিগত গোলসংখ্যার চেয়েও বেশি মূল্যবান। এছাড়া ২৮ গোলে অবদান রেখে বার্সেলোনাকে লালিগা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার মধ্য দিয়ে তার সম্ভাবনা কেইনের চাইতে জোরালো বলে দাবি অনেকের।

৫. এমবাপ্পে — গোলের রেকর্ডে জোরালো দাবি

বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা কিলিয়ান এমবাপ্পেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন এবার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে লা লিগায় ২৪ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে পিচিচি ট্রফি জেতেন। এছাড়া উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ক্লাব পর্যায়ে এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের সঙ্গে বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতায়, ২০২৬ ব্যালন ডি'অরের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত হয়েছেন তিনি। ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক L'Équipe-এর ৩৫ হাজারের বেশি পাঠকের ভোটে এমবাপ্পেই সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন। প্রায় ৩২ শতাংশ ভোট তার ঝুলিতে যায়, যা ইয়ামাল ও কেইনের চেয়েও বেশি।

৬. ফাবিয়ান রুইজ — নীরব নায়ক, কিন্তু শক্তিশালী দাবিদার এবং মাইকেল ওলিসে

২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন ফাবিয়ান রুইজ। মিডফিল্ডে তার বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ-রক্ষণে সমান অবদান তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারে পরিণত করেছে। বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ের পথেও তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গোল বা অ্যাসিস্টে খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা এবং বড় ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের কারণে অনেক বিশ্লেষকের মতে, ৫০ ম্যাচ ধরে অপরাজিত এই মিডফিল্ডার ২০২৬ ব্যালন ডি'অরের "ডার্ক হর্স" হতে পারেন।

তার পাশেই অনেকে নাম তুলেছেন মাইকেল ওলিসের। ফ্রান্স ও আর্সেনালের সাবেক ডিফেন্ডার বাকারি সানিয়া মনে করেন, বায়ার্ন মিউনিখ যদি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতত, তাহলে মাইকেল ওলিসেও ব্যালন ডি'অরের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠতে পারতেন। তার ভাষায়, "ওলিসে মাঠের একজন শিল্পী।"

Image

৭. মেসি — নবম ব্যালন ডি'অরের স্বপ্ন কি সম্ভব?

৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আবারও ব্যালন ডি'অরের আলোচনায় ফিরেছেন। ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলা কি যথেষ্ট হবে মেসির জন্য? যদি হয়—মেসি যদি ২০২৬ সালে তার নবম ব্যালন ডি’অর জেতেন তবে অবাক হবার কিছু থাকবে না। এছাড়া L'Équipe মেসিকে সম্ভাব্য নবম ব্যালন ডি'অরের স্বাভাবিক দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই মত দিয়েছে CBS Sports-ও। যদিও মেসির সম্ভাবনা নিয়ে অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। সেইসূত্রে উঠে আসছে ব্যালন ডি’অরের অতীত বিতর্কও।

Image

ব্যালন ডি’অরের অতীত বিতর্ক

২০১০ সালে—ইন্টার মিলানের হয়ে ট্রেবল জয়ী ও নেদারল্যান্ডসকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলা ওয়েসলি স্নাইডার কিংবা জাভি-ইনিয়েস্তার বদলে মেসি এই পুরস্কার জেতায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।

২০২১ সালে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে রেকর্ড ভেঙেচুরে চুরমার করা রবার্ট লেভানদোভস্কির পরিবর্তে মেসিকে বিজয়ী করায় অনেকেই একে অবিচার ও হতাশাজনক হিসেবে দেখেন এখনো। বিশেষত, ২০২৩ সালের বিতর্কিত ব্যালন ডি’অর—২০২২ বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্য অবদান না থাকা সত্ত্বেও দেয়া হয় মেসিকে। অথচ ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সেবার ৬২ গোলে অবদান রাখা আর্লিং হালান্ড (৫০ গোল, ১২ অ্যাসিস্ট) ম্যান সিটিকে ট্রেবলজয়ী করেছিলেন। অবিশ্বাস্য সব গোলবন্যায় ইন্ডিভিজ্যুয়াল ব্রিলিয়ান্সের পরও ব্যালন ডি'অর পাননি।

এরপর থেকে ব্যালন ডি’অরের প্রতি ফুটবলপ্রেমী বড় অংশ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তাতে ঘি ঢালে ২০২৪ সালে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যালন ডি’অর না জেতা। এছাড়াও থিয়েরি অঁরির ২০০৩/০৪ মৌসুমের এবং ফ্র্যাংক রিবেরির ২০১৩ সালের ব্যালন ডি’অর না জেতার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। ফলে এই পুরস্কারের স্বচ্ছতা নিয়ে ফুটবলের নিয়মিত দর্শকদের মনে প্রশ্ন আছে।

তারপরও শেষমেশ কার হাতে উঠতে যাচ্ছে ব্যালন ডি'অর? ভোটাররা কি ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানকে বেশি গুরুত্ব দেবেন, নাকি বিশ্বকাপজয়ী অবদানকেই সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করবেন? সেই উত্তর মিলবে আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি'অর অনুষ্ঠানে।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।