খেলারদেশ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

রেকর্ডময় এক বিশ্বকাপ

রেকর্ডময় এক বিশ্বকাপ
রুহুল মাহফুজ জয়
By রুহুল মাহফুজ জয়

গত রোববার শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে নতুন অনেক রেকর্ড হয়েছে। কিছু রেকর্ড অনুমিতই ছিলো। যেমন প্রথমবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও গোলের রেকর্ড ভাঙা সময়ের ব্যাপার ছিলো মাত্র। ১৬টি শহরে হওয়া ১০৪ ম্যাচে ৩০৮ গোল দেখেছে বিশ্বকাপ।

এক বিশ্বকাপে কোনো দলের সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডটি এবার নতুনভাবে হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড ২০টি করে গোল করেছে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ডটি ছিল ব্রাজিলের, ২০০২ আসরে তারা ১৭টি গোল করেছিল। ব্রাজিলের এই রেকর্ড এখন তিন নম্বরে চলে গেছে। ২৬ বিশ্বকাপে ১৯ গোল করে আর্জেন্টিনা দুই নম্বরে অবস্থান করছে।

এমবাপ্পে

এমবাপ্পে

ফ্রান্স দলের ফরোয়ার্ড ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে অবিনশ্বর দুটি রেকর্ড করে ফেলেছেন! টানা দুটি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতে নিয়েছেন। এর আগে কোনো খেলোয়াড় একের অধিকবার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারেননি। সেখানে এমবাপ্পে ২০২২ আসরে ৮টি ও এবার ১০টি গোল করে টানা দুবার এই পুরস্কার জিতেছেন। মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ খেলে ২২ ম্যাচে ২২ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটিও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডের বয়স এখন ২৭; বড় কোনো ইঞ্জুরি না হলে অন্তত আরো দুটি বিশ্বকাপ খেলবেন তিনি। সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটাকে কত গোলে নিয়ে যান, সেটাই এখন দেখার বিষয়!

্মেসি

্মেসি

একজন লিওনেল মেসি তাঁর নামের পাশে কয়েকটি বিশ্বকাপ রেকর্ড রেখে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি ২৩টি জয়ও রয়েছে মেসির নামের পাশে। স্বাভাবিকভাবেই নকআউট ম্যাচও অন্যদের চেয়ে বেশি খেলেছেন তিনিই, সংখ্যায় যা ১৭! টানা ৯ ম্যাচে গোল করার প্রায় অবিশ্বাস্য রেকর্ডটিও মেসির দখলে। ডিবক্সের বাইরে থেকে সবচেয়ে বেশি ৭ গোল করার রেকর্ডও আর্জেন্টাইন মেজিশিয়ান লিওনেল আন্দ্রেস মেসির দখলে।

এক বিশ্বকাপে একই দলের একাধিক খেলোয়াড় ছয় বা ততোধিক গোল করার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটেছে। ফ্রান্স দলের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমান দেম্বেলে এবং ইংল্যান্ড দলের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এমবাপ্পে ১০, দেম্বেলে ৬, বেলিংহাম ৭ ও কেইন ৬টি করে গোল করেছেন। এতে এক বিশ্বকাপে মিডফিল্ডার হিসাবে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটি এখন বেলিংহামের দখলে। এর এক আসরে একই দলের দুজন ৫ বা ততোধিক গোল করার রেকর্ড ছিলো ব্রাজিলের রোনালদো ও রিভালদোর। ২০০২ আসরে তাঁরা এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।

বেলিংহাম

বেলিংহাম

এক বিশ্বকাপে কোনো প্লেমেকারের সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করার রেকর্ডও ২০২৬ বিশ্বকাপেই হয়েছে। ফ্রান্সের রাইট উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে ৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তিনি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী পেলের রেকর্ড ভেঙেছেন। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ৬টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন সেলেসাও নাম্বার টেন পেলে। তবে তিনি ওলিসের চেয়ে তিনি দুটি ম্যাচ কম খেলেছেন।

রদ্রি

রদ্রি

এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল পাস সম্পন্ন করার নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। কাতার বিশ্বকাপে ৬৩৮টি সফল পাস দিয়েছিলেন তিনি। সেই সংখ্যাটা এবার ৭৯০-এ নিয়ে গেছেন রদ্রি। রদ্রির আগে এই রেকর্ডটি একজন স্প্যানিয়ার্ডেরই ছিলো; ২০১০ বিশ্বকাপে ৫৯৯টি সফল পাস দিয়ে সেসময়ের রেকর্ডটি করেছিলেন জাভি হার্নান্দেস।

রোনালদো

রোনালদো

পর্তুগাল বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতে ফিরলেও একটা রেকর্ড নিজের নামের পাশে নিয়ে ফিরেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। একমাত্র ফুটবলার হিসাবে ৬টি আলাদা বিশ্বকাপ আসরে গোল করেছেন তিনি।

এলয় রোম

এলয় রোম

বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি সেইভ করার রেকর্ড এখন কুরাসাও-এর গোলরক্ষক এলয় রোমের দখলে। একুয়েডরের বিপক্ষে ৯০ মিনিটে ১৬টি সেইভ করেন মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার দেশ কুরাসাওয়ের কিপার! আগের রেকর্ডটি ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে। ২০১৪ আসরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনিও ১৬টি সেইভ করেছিলেন, কিন্তু রোমের চেয়ে ৩০ মিনিট বেশি খেলেছিলেন তিনি।

উনাই সিমন

উনাই সিমন

এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম গোল হজম করা ও বেশি ক্লিনশিট পাওয়ার রেকর্ড করেছেন চ্যাম্পিয়ন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। তিনি গোল হজম করেছেন মাত্র একটি, ৮ ম্যাচের ৭টিই ক্লিনশিট নিয়ে শেষ করেছেন।

দিদিয়ের দেশম

দিদিয়ের দেশম

জার্মানির কিংবদন্তী কোচ এলমুট স্কোন চারটি বিশ্বকাপে ২৫টি ম্যাচে দলের ডাগআউটে থেকে কোচ হিসাবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলানোর রেকর্ডের মালিক ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর জন্য নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ মিস করার পরেও ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম স্কোনকে ছাড়িয়ে গেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৬টি ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করে ফ্রান্স দলের চাকরি ছেড়েছেন অধিনায়ক ও কোচ হিসাবে বিশ্বজয়ী দেশম। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচজয়ী কোচ হতেও জার্মান স্কোনকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

দিক আদভোকাত

দিক আদভোকাত

নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তী ফুটবল কোচ দিক আদভোকাত এবার কুরাসাও দলের দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিলেন। ৭৮ বছর বয়সে এই দায়িত্ব পালন করায় তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ।

Image

বদলি হিসাবে নেমে বিশ্বকাপ ম্যাচে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসাবে জোড়া গোল করার রেকর্ড করেছেন সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজামবি। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যখন তাঁর দল গোল পাচ্ছিলো না, বদলি হিসাবে নামার ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মানজাম্বি। এরপর আরও একটি গোল করে প্যারাগুয়ের নেলসন কেভাসকে ইতিহাসের পাতায় দুই নম্বরে ঠেলে দেন ২০ বছর বয়সী মানজামবি।

সবচেয়ে ছোট দেশ হিসাবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার রেকর্ড এখন কেপ ভার্দের; আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটির জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে ৫ লাখ।

রুহুল মাহফুজ জয়

রুহুল মাহফুজ জয়

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।