খেলারদেশ

নিউজিল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের রুদ্ধশ্বাস জয়

হেটমায়ার–রাদারফোর্ডের ব্যাটে রুদ্ধশ্বাস জয়, ৩-২ এ সিরিজ শেষ করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের রুদ্ধশ্বাস জয়

শিমরন হেটমায়ার ৬৪ বলে ৬৯* রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয় এনে দেন

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

সিরিজের প্রথম চার ম্যাচের ৩ ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে শেষ ম্যাচে শিমরন হেটমায়ার ও শেরফেন রাদারফোর্ডের দারুণ ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ২ উইকেটে হারিয়ে অন্তত স্বস্তির একটি জয় নিয়ে সিরিজ শেষ করেছে ক্যারিবীয়রা। ব্রিজটাউনে আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে ২৬৮ রান তোলে। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে ২৬৯ রান (হেটমায়ার ৬৯*, রাদারফোর্ড ৬১, লেনক্স ৩-৩৫, ডাফি ৩-৬৭) নিউজিল্যান্ডকে ৯ উইকেটে ২৬৮ রান (ল্যাথাম ৬৯, কেলি ৬৪, ইয়াং ৫৬, জোসেফ ২-৩৮, লয়েস ২-৬৩)

২৬৯ রানের লক্ষ্য খুব বড় না হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য সেটি কঠিন হয়ে ওঠে। নিউজিল্যান্ডের স্পিনাররা মাঝের ওভারগুলোতে দারুণ নিয়ন্ত্রণে বোলিং করেন। ১০ম ওভারেই আক্রমণে আসেন মিচেল স্যান্টনার। এরপর ১৬তম ওভারের মধ্যে পেসারদের সরিয়ে একসঙ্গে দুই প্রান্ত থেকে স্পিন আক্রমণ চালায় নিউজিল্যান্ড। ১৩ ওভারে তারা খরচ করেন মাত্র ৩৭ রান। এরই মধ্যে কিসি কার্টি ৫৪ বলে মাত্র ২০ রান করে আউট হন। এটি ছিল ২০১৩ সালে মার্লন স্যামুয়েলসের ৬৫ বলে ২৫ রানের পর ২০ বা তার বেশি রানের সবচেয়ে ধীর ইনিংস কোনো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটারের।

জেডেন লেনক্সের চমৎকার ধারাবাহিকটি অব্যাহত রয়েছে

জেডেন লেনক্সের চমৎকার ধারাবাহিকটি অব্যাহত রয়েছে

তরুণ স্পিনার জেডেন লেনক্স আবারও ছিলেন দুর্দান্ত। তিনি শাই হোপকে ফিরিয়ে দেন একটি লং-হপ ডেলিভারিতে। তখনও জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ১৫১ রান। কার্টির ধীরগতির ইনিংসের কারণে চাপে পড়ে হোপ ঝুঁকি নিতে গিয়ে উইকেট হারান। সাজঘরে ফেরার সময় তার হতাশা স্পষ্ট ছিল। এই ম্যাচে তিন উইকেট নিয়ে লেনক্স পুরো সিরিজে নিজের উইকেট সংখ্যা দাঁড় করান ১৪-তে, যা তাকে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে সর্বাধিক উইকেট নেওয়া স্পিনারদের তালিকায় শেন ওয়ার্ন, অনিল কুম্বলে, সুনীল নারিন ও শহীদ আফ্রিদির মতো কিংবদন্তিদেরও ওপরে নিয়ে যায়।

হোপ ও কার্টি আউট হওয়ার পর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শেরফেন রাদারফোর্ড ও শিমরন হেটমায়ার। রাদারফোর্ড নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ফিরে যান। স্পিনারদের বিপক্ষে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে বড় শট খেলেন, সুইপ করেন এবং নিয়মিত বাউন্ডারি আদায় করেন। অবশ্য ১৭ বলে ৭ রানে থাকা অবস্থায় তিনি জীবন পান। ডিপ স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ ফেলে দেন উইল ইয়ং। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। পঞ্চম উইকেটে হেটমায়ারকে নিয়ে ৯০ বলে ৯৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। এই জুটিই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফিরিয়ে আনে। রাদারফোর্ড ৬১ রান করে আউট হলেও হেটমায়ার শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান।

৪৫তম ওভারে জ্যাকব ডাফি টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা ফিরিয়ে আনেন। সেই সময় জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ৩২ বলে ২১ রান, হাতে মাত্র দুই উইকেট। হেটমায়ার তখন ফিজিওর কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। জাতীয় দলে কখনও ফিটনেস, কখনও শৃঙ্খলা, আবার কখনও অনুপস্থিতির কারণে নিয়মিত নন তিনি। কিন্তু এই ম্যাচে ছিলেন পুরোপুরি মনোযোগী। ডাফির পরের ওভারেই টানা দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকান হেটমায়ার। একটি ইয়র্কারের চেষ্টা ফুলটসে পরিণত হলে সেটি গ্যালারিতে পাঠান। আরেকটি ধীরগতির বল এত জোরে মারেন যে সেটি স্টেডিয়ামের ছাদে আটকে যায়। ৬৪ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন তিনি।

উইল ইয়ং তাঁর দ্বাদশ ওডিআই অর্ধশতক করেন

উইল ইয়ং তাঁর দ্বাদশ ওডিআই অর্ধশতক করেন

এর আগে নিউজিল্যান্ডের হয়ে টম ল্যাথাম করেন ৬৯ রান, নিক কেলি ৬৪ এবং উইল ইয়ং ৫৬ রান। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করায় তিনজনের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। আলজারি জোসেফ দারুণ বোলিং করে ২ উইকেট নেন। শেষ দিকে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ধারাবাহিক বোলিং করে নিউজিল্যান্ডকে দ্রুত রান তুলতে দেননি। ১৯ বছর বয়সী লেগস্পিনার ভিটেল লজও নজর কেড়েছেন। তিনি উইল ইয়ং ও আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মার্ক চ্যাপম্যানকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে হারলেও এই জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে না পারলে তাদের কঠিন বাছাইপর্ব খেলতে হবে, যেখানে ১০ দলের মধ্যে মাত্র চারটি মূল আসরে উঠতে পারবে। শেষ ম্যাচের এই রুদ্ধশ্বাস জয় তাই শুধু সান্ত্বনার নয়, সামনে অপেক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জের আগে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিল ক্যারিবীয়দের।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।