আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করা গোলের পর ফেরান তোরেস
নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে মেট লাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন একাদশ অপরিবর্তিত, আর্জেন্টিনা নামে দুটি পরিবর্তন নিয়ে। আগের ম্যাচগুলিতে বদলি হিসাবে নেমে দারুণ পারফর্ম করা নিকো গঞ্জালেস রাইট উইংয়ে লা আলবেসিলেস্তে দলে একাদশে জায়গা করে নেন। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একাদশ সাজান ৪-১-২-৩ ছকে, আরর

মেসি ও লামিন ইয়ামাল
ম্যাচে প্রথম বিপদজনক আক্রমণ করে স্পেন। চার মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে লা রোহা দল। দানি ওলমোর পাস থেকে গোলমুখে কোনাকুনি শট নেন লামিন ইয়ামাল। বল নিজের তালুবন্দী করে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন এমি মার্তিনেস।দ্বিতীয় সুযোগটিও তৈরি করে স্পেন, ৩৯ মিনিটে। চমৎকার বিল্ডাপ থেকে ওয়ারজাবালের নেওয়া শট রুখে দেন মার্তিনেস।৪৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার জন্য দুঃসংবাদ হয়ে আসে টুর্নামেন্টে দলের সেন্টারব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ইঞ্জুরি। তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে ৩৮ বছর বয়সী নিকোলাস ওতামেন্দিকে নামাতে বাধ্য হন স্কালোনি।গোলশূন্য প্রথমার্ধে পুরোপুরি দাপট দেখায় স্পেন। ৬৫ শতাংশ বল দখলে রাখে ও গোলের দুটি সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। আর্জেন্টিনা অন বা অফটার্গেট কোনো শটই নিতে পারেনি।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কারণে বিরতি ছিলো সাতাশ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। নিকো গঞ্জালেসকে উঠিয়ে শুরুতেই লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামান স্কালোনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্পেন এগিয়ে যেতে পারতো। ডিবক্সের সামান্য বাইরে থেকে নেওয়া আলেক্স বায়েনার শট ঠেকান মার্তিনেস। দৃষ্টিনন্দন ডিফেন্সচেড়া পাসে আর্জেন্টিনা ডিফেন্স ভাঙলেও মার্তিনেস বাধা অতিক্রম করতে পারছিলো না স্পেন।পুরো নব্বই মিনিটের খেলায় গোলমুখে একটিই শট নেয় আর্জেন্টিনা, দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে সেই শট সহজেই দুই হাতে লুফে নেন উনাই সিমন। এর এক মিনিট পরই পাউ কুবারসিকে ফাউল করে ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেস। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে লামিন ইয়ামালের বাঁকানো ফ্রিকিক অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে গোল বাঁচান এমি মার্তিনেস।নির্ধারিত সময়ের খেলায় স্পেনের ১০টি অনটার্গেট শটের বিপরীতে আর্জেন্টিনার শট শূন্য। তবু গোলশূন্য! বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন ঘটনা অবিশ্বাস্য, যা আগে কখনো ঘটেনি।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরের দৃশ্য
৯৩ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেডার ঝাঁপিয়ে পড়ে ডান হাতে সেভ করে গোলবঞ্চিত করেন এমি। মিনিট তিনেক পরে ডেডলক ভাঙেন নিকো, কিন্তু বিল্ডাপে আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়কে মিকেল মেরিনো ফাউল করায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।তবে শেষ রক্ষা হয়নি আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামসের কাছ থেকে বল পেয়ে জোরালো শটে স্পেনকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস।
শেষ পাঁচ মিনিট খেলায় ফিরতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। ১২১ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ নষ্ট করেন সিমিওনে। তাঁর শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়।তাই আগের তিন ম্যাচের মতো অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা হয়নি। ১-০ গোলে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে বিশ্বকাপের দুই নম্বর শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। আর নিজেদের সাত নম্বর ফাইনালে ৪র্থ পরাজয়ের বেদনায় পোড়ে আর্জেন্টিনা।পরাজিত দলে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করেন লিওনেল।মেসি।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।