বিশ্বকাপ ২০২৬, কেপ ভার্দে
বিশ্বকাপের পর বদলে গেছে ভোজিনিয়ার জীবন
বিশ্বকাপের পর বদলে গেছে ভোজিনিয়ার জীবন। নিজেই বলেন, "এখন আর আগের মতো সবকিছু করতে পারি না।"

বিশ্বকাপের পর বদলে গেছে ভোজিনিয়ার জীবন
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে জোসিমার দিয়াস—যিনি সবার কাছে ভোজিনিয়া নামে পরিচিত, ছিলেন কেপ ভার্দের পরিচিত একজন গোলরক্ষক।
এক দশকেরও বেশি সময় জাতীয় দলের হয়ে খেললেও নিজের এলাকায় তিনি স্বাভাবিক জীবনই কাটাতেন। বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির সামনে রান্না করা, রাস্তায় বসে একসঙ্গে খাওয়া কিংবা নিরিবিলি ঘুরে বেড়ানো—এসবই ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ সবকিছু বদলে দিয়েছে। হয়ে উঠেছেন বিশ্বকাপের অপ্রত্যাশিত নায়ক। ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়া টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একজন হয়ে ওঠেন। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে সবাইকে অবাক করে দেয় কেপ ভার্দে। সেই ম্যাচে অসাধারণ গোলকিপিং করে ক্লিন শিট রাখেন ভোজিনিয়া। এরপর উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষেও দারুণ পারফরম্যান্স করেন তিনি।
নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই করে কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত বিদায় নিলেও, ভোজিনিয়ার বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়।

"এত কিছু কখনও কল্পনাও করিনি" বিশ্বকাপ শেষে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ভোজিনিয়া বলেন, "আমার জীবনে যা ঘটেছে, তার জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত। আমি কখনও ভাবিনি এমন কিছু ঘটবে। সবকিছুই অবিশ্বাস্য, একেবারে পাগলামি।"
তিনি জানান, ফুটবল সবসময়ই তাকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্বকাপের পর যে পরিমাণ পরিচিতি পেয়েছেন, তা তার কল্পনারও বাইরে ছিল।
বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার। টুর্নামেন্ট শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে কোটি ছাড়িয়ে যায়। রাতারাতি তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত মুখে পরিণত হন।
তবে ভোজিনিয়ার মতে, সবচেয়ে বড় অর্জন তার ব্যক্তিগত খ্যাতি নয়; বরং বিশ্ববাসী এখন কেপ ভার্দেকে চিনতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, "আগে আমরা বলতাম আমরা কেপ ভার্দে থেকে এসেছি, তখন মানুষ জিজ্ঞেস করত—'সেটা কোথায়?' এখন তারা আমাদের দেশকে চেনে। আমার কাছে এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।"
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক যাত্রার পর দেশটিতে পর্যটকদের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন পর্যটন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশ্বকাপের পর পর্তুগিজ ক্লাব চাভেস-এর সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবুও তিনি এখনই অবসরের কথা ভাবছেন না।
ভোজিনিয়া বলেন, "শরীর যদি সাড়া দেয়, তাহলে আরও এক বা দুই বছর খেলতে চাই।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমি আশা করি এমন একটি ক্লাব পাব, যারা আমাকে একজন ফুটবলার হিসেবে দলে নেবে, মার্কেটিংয়ের জন্য নয়।"
বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে স্প্যানিশ সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী হেসুস অর্তেয়া সম্প্রতি আবিষ্কৃত এক নতুন প্রজাতির সি স্লাগ (সমুদ্রের নরমদেহী প্রাণী)-এর নাম রাখেন Aldisa vozinha।
স্পেন ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভোজিনিয়ার বীরত্বপূর্ণ গোলকিপিং থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই নামকরণ করা হয়েছে। ফুটবলারদের মধ্যে এমন বৈজ্ঞানিক সম্মান পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
ভোজিনিয়ার বিশ্বাস, এই বিশ্বকাপ শুধু একটি সফল টুর্নামেন্ট ছিল না; এটা কেপ ভার্দের তরুণ ফুটবলারদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তার আশা, ভবিষ্যতে ছোট এই দ্বীপরাষ্ট্রের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা আরও বেশি আন্তর্জাতিক সুযোগ পাবে এবং বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার মঞ্চ খুঁজে পাবে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।