খেলারদেশ

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা
খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

আটলান্টায় হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে, ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হতে দুই দলই আক্রমাণাত্মক একাদশ সাজায়। ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ থমাস টুখেল ৪-৩-৩ ছকে দলকে সাজান, একাদশে আসেন অ্যাস্টন ভিলার উইঙ্গার মরগান রজারস।আর্জেন্টিনা একাদশে সুযোগ পান জিওভান্নি সিমিওনে। লা আলবেসিলেস্তে দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি ৪-৪-২ ফরম্যাশনে দল সাজান, যদিও মাঠে তা ৪-৩-৩ এ পরিণত হয়।

ইংল্যান্ডে এই ম্যাচে রেফারিং নিয়ে কদিন ধরেই ব্যাপক আলোচনা চলছে। সেই আলোচনা বোধহয় ইংল্যান্ড দল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। শুরু থেকেই ইংল্যান্ড দল রেফারিকে চাপে রাখে, তাদের খেলার অন্যতম কৌশল দেখা যায় রেফারিকে চাপে রাখা। তাতে শুরু থেকেই ম্যাচে ব্যাপক উত্তেজনা, বিশেষ করে রেফারির সিদ্ধান্তকে ঘিরে দুই দলের সবাই যুদ্ধংদেহী, রেফারির বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে দুই দলের অনেকে একসাথে রেফারির কাছে গেছেন।

৮ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় ইংল্যান্ড, স্টোনসকে ডিবক্সের ভেতরে ঝাপটে ধরে ফেলে দেন সিমিওনে, কোনো বাঁশি বাজেনি, ভিএআর-ও চেক করেনি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য তেমন বিতর্কের সুযোগ নেই।

১৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন রক্ষণসীমায় ঢোকেন, সতীর্থ কাউকে পাস না দেওয়ায় আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ সহজে সহজে বিপদ কাটায়। আর্জেন্টিনাও ছোট ছোট পাসে আক্রমণ সাজাতে থাকে। কিন্তু হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত তাদের প্রায় সব আক্রমণই অফসাইডের ফাঁদে পড়ে থামে। অতিরিক্ত ফাউলের কারণে প্রথম ২৫ মিনিটে খেলার বিল্ডাপ কোনো দলেরই ঠিকমত হয়নি। হাইড্রেশন ব্রেকের আগেই ১১টি ফাউল করে ফেলে দুই দল! হাইপ্রেস ফুটবল খেলার কারণেই এত ফাউলের পসরা! ৩৩ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রিকিক পায় ইংল্যান্ড। ডেক্লান রাইসের নেওয়া বাঁকানো ফ্রিকিকে জন স্টোনসের হেডার পোস্ট খুঁজে পায়নি। মিনিট দুয়েক পরে আরেকটি ফ্রিকিক, এবার এমি মার্তিনেসের সেইভ। মেসিকে এলিয়ট এন্ডারসনের ফাউলের কারণে দুই দলের ব্যাপক বাকযুদ্ধও মুহূর্ত পরেই; অই ফাউল থেকেই বিল্ডআপে এনজো ফার্নান্দেসের জোরালো শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। প্রথমার্ধে কোনো দলই অনটার্গেট শট নিতে পারেনি। গোলশূন্য প্রথমার্ধে ফাউল হয়েছে ১৯টি। এর ১২টি করেছে আর্জেন্টিনা, ৭টি ইংল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরতেই ইংল্যান্ডের ডান প্রান্তের রক্ষণ তছনছ করে বক্সে ঢুকে যান হুলিয়ান আলভারেজ। তাঁর শট সেইভ করেন জর্ডান পিকফোর্ড। ফিরতি সুযোগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় ইংল্যান্ড। ম্যাচে ডেডলাইন ভাঙে ৫৫ মিনিটে। রজারসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে এমি মার্তিনেসকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান অ্যান্থনি গর্ডন।

এর মিনিট দুয়েক পরেই গোল শোধ করতে পারতো আর্জেন্টিনা, কিন্তু নিজেদের বক্সে জেড স্পেন্সের অসাধারণ এক ট্যাকলে তা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের বাঁশি বাজার আগে নিকো গঞ্জালেসের হেডার অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়ের পায়ে বল থাকা অবস্থাতেই রেফারি হাইড্রেশন ব্রেকের বাঁশি বাজিয়ে দেন। এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ আছে। বিরতির পরপরই আর্জেন্টিনার আরও একটি দুর্বার আক্রমণ রুখে দেন পিকফোর্ড। ইংল্যান্ড গোল করে রক্ষণের দিকে বেশি মনযোগী হওয়ায় নিজেদের পায়ে বল বেশি রাখার সুযোগ পায়, তাতে লাগাতার আক্রমণও সাজাতে থাকে। বারবারই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন ইংরেজ গোলরক্ষক। কিন্তু আর্জেন্টিনাকে বল পায়ে রাখতে দিলে গোল আসবেই। সেই গোলটা আসে ৮৫ মিনিটে, লিওনেল মেসির পাস থেকে, এনজো ফারনান্দেসের বাম প্রান্তের পোস্টে নেওয়া কোনাকুনি শটে।

Image

গোল শোধ করার পরে আর্জেন্টিনা আরও উজ্জ্বীবিত হয়ে ওঠে। এই বিশ্বকাপের কামব্যাক কিংরা জয়সূচক গোলটি করে ফেলে যোগ করা সময়ের শুরুতেই। ইংল্যান্ডের গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসা বল নিজের পায়ে নিয়ে ইংল্যান্ডের গোলমুখে ক্রস দেন মেসি। বদলি স্ট্রাইকার লউতারো মার্তিনেস লাফিয়ে উঠে নির্ভুল হেডারে জয়সূচক গোলটি করে সারা দুনিয়ার আর্জেন্টিনা ফ্যানদের উল্লাসে মাতান। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।

লাতিন আমেরিকা বনাম ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।