বিশ্বকাপ ২০২৬: ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে
বেলিংহাম ঘোড়ায় চেপে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
বেলিংহাম ঘোড়ায় চেপে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

বেলিংহাম ঘোড়ায় চেপে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
ফুটবল মাঠে যখন দুই দল সমানতালে লড়ে, তখন পার্থক্য গড়ে দেওয়ার জন্য একজন মহানায়কের দরকার হয়। মায়ামিতে ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনালে সেই মহানায়ক ইংল্যান্ডের নাম্বার টেন জুড বেলিংহাম। পেন্ডুলামের মতো ঘুরতে থাকা ম্যাচে ইংল্যান্ডকে জিতিয়েছেন এই তারকা মিডফিল্ডার।

নব্বই মিনিট ইংল্যান্ড ও নরওয়ে প্রায় সমানতালে লড়েছে। বরং প্রথমবারের মতন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নামা আন্ডারডগ নরওয়ে খেলার সবদিক বিবেচনায় ১৯৬৬-এর চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের চেয়ে এগিয়েই ছিলো। ম্যাচের শুরুটা দুই দলই করে অতিসাবধানী ভঙ্গিতে। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকে যাওয়ার আগে কোনো দলই গোলমুখে শট নেয়নি! ৩৬ মিনিটে ট্রানজিশনাল আক্রমণে মার্টিন ওদেগার্ডের পাস থেকে বাম প্রান্ত দিয়ে কোনাকুনি শটে হার্ড রক স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে দেন নরওয়েজিয়ান উইঙ্গার আন্দ্রেয়াস শেইলডেরাপ। ব্রাজিলের বিপক্ষে বদলি হিসাবে নেমে আর্লিং হালান্ডকে দিয়ে দুটি গোল করিয়ে এই ম্যাচে শুরুতেই খেলার সুযোগ পান শেইলডেরাপ। কোচ স্টালে সলবাক্কেনের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিনি।

গোল হজম করার পর খোলস থেকে বেরোয় ইংল্যান্ড। দুই প্রান্ত দিয়েই আক্রমণ সাজাতে থাকে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্রায় একক নৈপুণ্যে নরওয়ে গোলকিপার ওরিয়ান নিল্যান্ডকে পরাস্ত করে সমতা আনেন ইংল্যান্ড নাম্বার টেন। বিল্ডাপে স্পাইডার ক্যামে লেগে বলের গতিপথ পরিবর্তিত হলেও রেফারি খেলা থামাননি, ভিএআর-এর সহায়তাও নেননি।
৫৫ মিনিটে কর্নারের জটলা থেকে গোল করেন টোরবিয়ন হেগেম। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। নরওয়েজিয়ানদের এই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় এই গোল বাতিল করেন রেফারি ক্লেমেন্ত তুরপিন। রিপ্লেতে দেখা যায় এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে হালকা ফাউল করেছেন আর্লিং হালান্ড। সারা ম্যাচে আক্রমণভাগে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি, এই ফাউল হয়ত বহুদিন পোড়াবে নরওয়ে সুপারস্টারকে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের বাকি সময়ে ইংল্যান্ডের চেয়ে নরওয়েই বল বেশি দখলে রাখে, গোলের চেষ্টাও তাদেরই বেশি। একবার বল পোস্টে লেগেও ফিরে আসে। উল্টোদিকে বুকায়ো সাকার শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। খেলার নির্ধারিত সময় ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়।
অতিরিক্ত সময়ের আগে বিরতিতে ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ থমাস টুখেল জুড বেলিংহামের সাথে আলাদাভাবে কথা বলেন। তিনি জানতেন, বেলিংহামই তাঁর তুরুপের তাস। পুরো ইংল্যান্ড দলই যেন অতিরিক্ত সময়ে উজ্জ্বীবিত হয়ে মাঠে নামে। তার ছাপ দেখা যায় থ্রি লায়ন্স ফুটবলারদের শরীরীভাষা ও খেলায়। তার ফলও হাতেনাতে পেয়ে যায় তারা। বক্সের বাইরে থেকে মরগান রজার্সের নেওয়া জোরালো শট নরওয়ে গোলরক্ষক ওরিয়ান নিল্যান্ড দুই হাতে জমাতে না পারায়, হাত ফসকে বেলিংহামের পায়ের সামনে চলে আসে। সহজ সুযোগটি মিস করেননি তিনি। বিশ্বকাপের সেরা মিডফিল্ডার তো বটেই, অন্যতম সেরা পারফরমারও বেলিংহাম। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার ছয় নম্বর গোল। অ্যাসিস্টও করেছেন একটি।
ইংল্যান্ডের জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো। ১০১ মিনিটে জেড স্পেন্সের কল্যাণে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় কন্টাক্টের সময় স্পেন্সের পা নরওয়ের ডিফেন্ডারের পায়ের সামনে ছিলো। এতে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়। আর্লিং হালান্ডের বিশ্বকাপ শেষ হয় বেদনায়। অতিরিক্ত সময়ের বিরতিতে তাঁকে তুলে নেন কোচ। নরওয়ে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও গোল শোধ করে খেলা পেনাল্টি শুটআউটে নিতে পারেনি।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ড। ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপ খেলতে এসে নিজেদের সেরা আসর কাটিয়ে মাথা উঁচু করেই বিদায় নিলো নরওয়ে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
ফুটবলওয়েলসের বিপক্ষে ড্র বাংলাদেশের
ফুটবলস্পেনের সম্মানজনক পুরস্কার জিতলেন মেসি
ফুটবলমিশরীয় ফুটবলার ও কোচ নিষিদ্ধ
ফুটবলদ্বিতীয় ম্যাচেও অনিশ্চিত মিরাজ!
ফুটবল‘লামিন ইয়ামালই বিশ্বসেরা’
ফুটবল
মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।