কখনো খেয়াল করেছেন, লামিন ইয়ামালের হেডব্যান্ডে 'ইগো ইয়ামাল' কেন লেখা?
ইগো ম্যাটারস: ইয়ামাল থেকে রোনালদো
“এটাই তো ফুটবলের সৌন্দর্য,” বলেন ইয়ামাল। “রোনালদোকে বু-য়া করা হয়েছে, মেসিকেও; নেইমার, ভিনিসিয়াস, এমবাপ্পেকেও। আমিও এটা নিয়ে বাঁচব। সব জায়গায় হাততালি পেতে চাই না আমি।”

ফুটবল মাঠে ইগোর প্রকাশ প্রফেশনালিজমেরই অংশ
প্রথম দেখায় মনে হবে, এটা নিছকই একটা ফ্যাশন। লামিন ইয়ামালের ঘন কালো চুলের নিচে কালো হেডব্যান্ডটা প্রায় লুকিয়ে থাকে। কিন্তু ভালো করে খেয়াল করলে বা কোনো স্থির ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়—ওতে লেখা, ‘ইগো ইয়ামাল’।
টিকটকে যারা তাকে ট্রল করে, সমালোচনা করে, তারাই তাকে ‘ইগো ইয়ামাল’ বলে উপহাস করে। সেই ঘৃণার জবাবেই এই ব্যক্তিগত বার্তা। স্পেনের এই প্রতিভাবান সুপারকিডের কাছের সূত্র থেকে জানা যায়, লামিন ইয়ামাল তার ইগোকে লুকায় না, বরং আঁকড়ে রাখে। আর এই হেডব্যান্ড সেই মানসিকতারই প্রকাশ।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় তার প্রতিপক্ষ ছিলেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—যার ইগো নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে হয়তো সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। একজন ক্যারিয়ারের শুরুতে, অন্যজন শেষ প্রান্তে। কিন্তু দুজনের কাছেই ‘ইগো’ দরকারি বিষয়।
লামিন ইয়ামালের খেলা রাস্তার ফুটবলের মতোই

লামিন ইয়ামাল সেই ছেলেটা, যে সুপারস্টার হয়েও নিজেকে বদলায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় হয়েছে সে। টিকটক আর ইনস্টাগ্রামে ঘুরে বেড়ায়, বিরক্তি কাটাতে কিংবা মোটিভেশন খুঁজতে। ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানায়, নিজের জীবনের কথা শেয়ার করে। রাস্তার ফুটবলের যে মজা, ঝুঁকি আর আনন্দ—সেটাই তার ফুটবল।
সম্প্রতি কাদেনা কোপে রেডিওতে তিনি একটা গল্প বলেন। বার্সেলোনার হয়ে হেতাফের বিপক্ষে ম্যাচ। তিনি ইনজুরির কারণে খেলেননি। পেড্রিকে যখন উঠিয়ে নেওয়া হয়, হেতাফের দর্শক তাকে স্ট্যান্ডিং ওভেশন দেয়। ম্যাচের পর কোচ হান্সি ফ্লিক তাকে বলেন, “তুমি গোল করলে এমন সম্মান পেতে, কিন্তু তুমি তো উদযাপন করো প্রতিপক্ষের সামনে।”
লামিন ইয়ামালের জবাব ছিল স্পষ্ট:
“এটাই তো ফুটবলের সৌন্দর্য,” বলেন তিনি। “রোনালদোকে বু-য়া করা হয়েছে, মেসিকেও; নেইমার, ভিনিসিয়াস, এমবাপ্পেকেও। আমিও এটা নিয়ে বাঁচব। সব জায়গায় হাততালি পেতে চাই না আমি।”
ইয়ামাল-ম্যানিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শহরে যেখানে তিনি পা রাখছেন, সেখানেই ইয়ামাল-ম্যানিয়া। তার মুখ বিশাল বিজ্ঞাপনে, তার স্পেন জার্সি দর্শকদের মাঝে সবচেয়ে বেশি। বল ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে গর্জন ওঠে, তা অন্য মাত্রার। স্পেন কখনো এমন একক তারকাকে এভাবে দেখেনি।
টুর্নামেন্টের শুরুটা সহজ ছিল না। এপ্রিলে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে বার্সার শেষ ম্যাচগুলো মিস করেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু করেননি। পরে সৌদি আরবের বিপক্ষে নেমে মাত্র ১০ মিনিটে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেন। এরপর আর গোল না পেলেও তার ড্রিবলিং দেখে দর্শক মুগ্ধ।
“বিশ্বকাপ এখন শুরু,” অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর বলেছেন তিনি। “আমি এখন ১০০ শতাংশ ফিট। নিজের মতো খেলছি।”

স্পেনের সোনালি যুগ (২০০৮-১২) ছিল দলীয় সাফল্যের। জাভি, ইনিয়েস্তা, ভিয়া, রামোসরা দারুণ খেলোয়াড় ছিলেন, কিন্তু ইয়ামালের মতো একক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব ছিল না।
রোনালদোর অন্য দিক
অন্যদিকে রোনালদো ৪১ বছর বয়সে এখনো মাঠ ছাড়তে নারাজ। তার ইগো নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ২০১৫ সালে তিনি বলেছিলেন, “আমি সেরা হওয়ার জন্য জন্মেছি। এটাই আমি। এর জন্যই আমার সাফল্য।”

সমালোচকদের সঙ্গে সরাসরি লড়েন না তিনি। তার বোনেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তার হয়ে লড়েন। সম্প্রতি বোন এলমা এক সাংবাদিককে ‘দুর্বল, বোকা ও বৃদ্ধ’ বলে গালি দিয়েছেন। আরেক বোন কাটিয়া বলেছেন, এটাই হয়তো তার “লাস্ট ড্যান্স”।
মেসি, এমবাপ্পে, হাল্যান্ডরা এখন যেখানে আছেন, সেখান থেকে রোনালদোর স্কিল অনেক কমে গিয়েছে। কিন্তু তার লক্ষ্য, খ্যাতি ও গোলের নেশা একই আছে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।