খেলারদেশ

রূপকথার গল্প লিখে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

২-০ গোলে পিছিয়ে পরেও ৩-২ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিন

রূপকথার গল্প লিখে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার হয়ে সমতাসূচক গোলটি আসে মেসির পা থেকে

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পরিষ্কার ফেভারিট বলে যে কোনো দল থাকে না এই কথা আবারও প্রমাণ করলো মিশর। ম্যাচের আর্জেন্টিনাকে বলা হচ্ছিলো পরিষ্কার ফেভারিট। প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের ম্যাচ খেলতে আসা মিশরকে তেমন গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছিলো না। ফুটবলের সৌন্দর্য নিশ্চিত করতে আবারও সেই ক্লাসিক পথেই হেঁটে গেলেন ফুটবল ঈশ্বর।

ম্যাচের ১৫তম মিনিটেই দেখা গেলো সেই জাদু। মারওয়ান আত্তিয়ার ক্রসে ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিমের হেড করা বল ততক্ষণে আর্জেন্টিনার গোলবারে। একশূন্য গোলে এগিয়ে মিশর। ফুটবলের নাটকীয়তা কি তখনই শেষ মোটেই নয়। চার মিনিট পরই মিশরের বক্সে নিকোলাস টালিফিয়াকোকে ফাউল করে পেনালটি আদায়। আর স্পটকিক থেকে দলকে এগিয়ে নিতে আসা বিশ্বকাপের টানা সাত ম্যাচে গোল করা মেসি এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো করলেন পেনালটি মিস। মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর হাতে যেন আজ ভর করেছিল পূর্বপুরুষদের শক্তি। যেন উত্থান পতনের সর্বোচ্চটা দিয়ে সিনেমার চিত্রনাট্যই লেখা। ৩১ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছিলো আর্জেন্টিনা। এমন দূরত্ব থেকেও মেসির ফ্রি কিক শট প্রায়ই গোলপোস্টেই যায়। কিন্তু এবার বারপোস্টে লেগে ফিরে আসলো। যেন দৈব চয়নে নির্ধারিত হয়েছিল আর্জেন্টিনার ভাগ্য। সেটাই দেখলোও ফুটবল বিশ্ব।

মেসি ও সালাহ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিলো দুই তারকা

মেসি ও সালাহ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিলো দুই তারকা

দ্বিতীয়ার্ধে নাটকীয়তায় আরও মুখর হয়ে উঠে আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্চ স্টেডিয়াম। ৫৮ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার, এটাকে ব্যবধান ২-০ করে বসে মিশর। কিন্তু ভিএআরের বদৌলতে এযাত্রায় বেঁচে যায় আর্জেন্টাইনরা। গোল বাতিল হয়ে উলটো প্রতিপক্ষের লেফট অ্যাটাকিং মিড পজিশনে ফ্রি কিক পায় ফাউলের জন্য। তবুও মিশরীয় রক্ষণদূর্গ ভাঙতে পারেনি মেসি, আলভারেজরা। এরপর আসে দ্বিতীয় সুযোগ। আগেরবারের বাতিল হওয়া গোলদাতা মোস্তফা জিকো, উচ্ছ্বাসে ভাসান মিশরীয় ভক্তদের। ২-০তে এগিয়ে যায় মিশর। আর স্বপ্ন দেখতে থাকে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে এসেই পঞ্চম আফ্রিকান দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার।

মিশরের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেছিলো জাকি আব্দেলরওফ

মিশরের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেছিলো জাকি আব্দেলরওফ

কিন্তু তখনও অনেক গল্প বাকি। যেন সিনেমার ক্লাইম্যাক্সই বাকি তখনও। ৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মেসির করা ক্রসে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো মাথা ছুঁয়ে আসে আর্জেন্টাইনদের প্রথম গোল। ম্যাচে ফিরতে পেরে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর ভাষ্যই ছিলো, এখনও সময় বাকি- আর সেটাই করে দেখালো আর্জেন্টিনা দল। তার আগে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ এসিস্টকারী হিসেবে রেকর্ডবুকে নাম তুললেন লিওনেল মেসি। এ ঘটনার চার মিনিট পরই মিশরের পেনালটি বক্সের জটলা থেকে পাওয়া বল দারুণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোল করে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন মেসি। যেন ক্যারিয়ারের প্রথম গোল করলেন। তারচেয়ে দ্বিগুণ উচ্ছ্বাসে ভেসে উঠে আকাশি সাদা ভক্তদের শিবির।

নির্ধারিত সময়ের শেষ বাঁশি বাজার আগে যেন অপেক্ষাও দীর্ঘ লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো এই ম্যাচও অতিরিক্ত সময়ের দিকেই গড়াবে। কিন্তু না, চিত্রনাট্যের নাটকীয়তার চূড়ান্ত যেন ফুরিয়ে এসেছিল। তাই ইনজ্যুরি টাইমে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লাউতারো মার্তিনেজের কাছ থেকে পাওয়া বলে হেডে বল জালে জড়িয়ে জয়সূচক গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ। আর অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় শেষ হয় রাউন্ড অব সিক্সটিনের এই ম্যাচ।

আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি আসে এনজোর হেড থেকে

আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি আসে এনজোর হেড থেকে

টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার সাথে মেসির আবারও বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা তালিকার শীর্ষস্থান দখল যেন এক দুর্দান্ত ও দর্দমনীয় আর্জেন্টিনা দলের কথাই উঠে আসে টুর্নামেন্টে।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।