বালোগুন ইস্যুতে উয়েফার 'ভণ্ডামি'র অভিযোগ ফিফার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে তিনি ফোন করে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন।

বালোগুন ইস্যুতে উয়েফার 'ভণ্ডামি'র অভিযোগ ফিফার
যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘিরে চলমান বাকযুদ্ধে এবার উয়েফার বিরুদ্ধে 'ভণ্ডামি'র অভিযোগ তুলেছে ফিফা।
যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হারের আগে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল-কামালির বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, "লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহার উয়েফাভুক্ত বিভিন্ন লিগে একটি সাধারণ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা। অথচ এতদিন এটিকে কখনোই 'নিয়মের সীমারেখা অতিক্রম' হিসেবে দেখা হয়নি।"
ফিফা তাদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা ছিল "ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ", যেটা "আধুনিক ফুটবলে নতুন কিছু নয়।"
এর আগে সোমবার এক কড়া ভাষার বিবৃতিতে উয়েফা অভিযোগ করেছিল, ফিফা এমন এক "সীমারেখা" পার করে ফেলে, যা বিশ্বকাপের শুদ্ধতা ও পরিবেশকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। কারণ, টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী লাল কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা। অথচ সেই নিয়ম উপেক্ষা করেই বালোগুনকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ৩২-এর ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর বালোগুনের একেবারে শেষ মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিশ্বকাপ ইতিহাসে নজিরবিহীন। এ সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ফিফার ওপর বারবার চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।

ফিফা বিবৃতিতে আরও বলে,
আল-কামালির বিবৃতিতে ট্রাম্পের ভূমিকার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তবে তিনি দাবি করেন, শৃঙ্খলা কমিটি ফিফার নির্বাহী বিভাগের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিফার নির্বাহী বিভাগের নেতৃত্বে আছেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করার আগে পর্যন্ত এ বিষয়ে নীরব ছিল ফিফা। ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, তিনি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বালোগুনের লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। এরপর ইনফান্তিনো এক বিবৃতিতে দাবি করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তার কোনো ভূমিকা ছিল না। পরে আল-কামালির মন্তব্য প্রকাশ করে পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে ফিফা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে তিনি ফোন করে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন
বিবৃতিতে বলা হয়, "ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি (ফিফার অন্যান্য বিচারিক সংস্থার মতোই) ফিফার সংবিধান ও শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বাধীন। চেয়ারম্যান, সহ-চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যরা ফিফার গভর্ন্যান্স বিধিমালায় নির্ধারিত স্বাধীনতার মানদণ্ড পূরণ করেন, যাতে তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়।"
ফিফা আরও ব্যাখ্যা করে, "শৃঙ্খলা কমিটি মাঠে রেফারির দেখানো লাল কার্ড বাতিল করেনি। বরং ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রদর্শিত লাল কার্ডের কারণে আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছিল।"
এরপর সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট নিয়মের উদ্ধৃতি দেয়। ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালার ৬৬.৪ ধারা অনুযায়ী, "লাল কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।" একইভাবে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রতিযোগিতা বিধিমালার ১০.৫ ধারা বলছে, "কোনো খেলোয়াড় বা টিম কর্মকর্তা সরাসরি বা দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের মাধ্যমে লাল কার্ড পেলে, তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলের পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকবেন। প্রয়োজনে এর সঙ্গে অতিরিক্ত শাস্তিও আরোপ করা যেতে পারে।"
তবে ফিফার দাবি, শৃঙ্খলা বিধিমালার ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, এক বছরের প্রবেশনকাল পর্যন্ত ওই স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার ক্ষমতা শৃঙ্খলা কমিটির রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "ঘটনার সব বিশেষ পরিস্থিতি এবং উপলব্ধ প্রমাণ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
ফিফা আরও জানায়, ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এমন যেকোনো শৃঙ্খলামূলক শাস্তির বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার ক্ষমতা শৃঙ্খলা কমিটির রয়েছে। "এ ধরনের সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
সংস্থাটি আরও দাবি করে, ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালা কিংবা বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা বিধিমালার কোথাও শৃঙ্খলা কমিটিকে ২৭ নম্বর ধারার ক্ষমতা প্রয়োগে বাধা দেওয়া হয়নি। বরং এটি শৃঙ্খলামূলক শাস্তি নির্ধারণসংক্রান্ত ২৫ নম্বর ধারার সাধারণ নীতিমালার সঙ্গেও সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এদিকে ইনফান্তিনো আগেই দাবি করেছিলেন, শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত প্রকাশের আগে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তার ভাষায়,
অন্যদিকে, ফিফার এই সিদ্ধান্তে এখনো ক্ষুব্ধ বেলজিয়াম। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (CAS)-এ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।