খেলারদেশ

উচ্চতা সংকট কাটাতে ‘ভায়াগ্রা’ নিতে পারে ইংল্যান্ড

ম্যাচটি যে মাঠে হতে যাচ্ছে মানে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও বানোর্টে’ (যা অতীতে অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল), যেখানে চার দশক আগে ঘটেছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা।

উচ্চতা সংকট কাটাতে ‘ভায়াগ্রা’ নিতে পারে ইংল্যান্ড

কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতে আজ মুখোমুখি ইংল্যান্ড-মেক্সিকো

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের রাউন্ড অব সিক্সটিনের লড়াইয়ে আজটেকায় আজ মাঠে নামবে ইংল্যান্ড এবং তিন স্বাগতিকের অন্যতম মেক্সিকো। ম্যাচটি কেবলই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং থ্রি লায়ন্সদের জন্য দীর্ঘ ৪০ বছরের পুরোনো এক ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সুযোগ। কারণ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও বানোর্টে’ (যা অতীতে অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল), যেখানে চার দশক আগে ঘটেছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা।

ম্যারাডোনার সেই হ্যান্ড অব গড নামে বিখ্যাত গোল

ম্যারাডোনার সেই হ্যান্ড অব গড নামে বিখ্যাত গোল

পটভূমি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এই মাঠেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৫১ মিনিটে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই আলোচিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরবর্তীতে তাঁর চোখধাঁধানো একক নৈপুণ্যের দ্বিতীয় গোল ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ ৪০ বছর পর ইংল্যান্ড আবার সেই ঐতিহাসিক মাঠে ফিরছে, তবে এবার প্রতিপক্ষ খোদ স্বাগতিক মেক্সিকো। হাই-অল্টিটিউড বা অতিরিক্ত উচ্চতার চেনা কন্ডিশনে মেক্সিকোকে তাদের ঘরের মাঠে হারানো থমাস টুখেলের দলের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচু মাঠে খেলতে যাওয়ায় ইংলিশ ফুটবল দলের শক্তি বৃদ্ধির জন্য খেলোয়াড়দের ভায়াগ্রা গ্রহণের অনুমতিও দিয়েছে এফএ।

দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম ও রেকর্ড

গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে রাউন্ড অব থার্টি টুয়ের লড়াইয়ে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জিততে ইংল্যান্ডকে ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। অধিনায়ক হ্যারি কেইনের শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। কঙ্গোর বিপক্ষে কেইনের প্রথম গোলটি ছিল হেডার থেকে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর তৃতীয় এবং সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে চতুর্থ হেডারের গোল। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে কেইনের চেয়ে বেশি হেডার থেকে গোল করেছেন কেবল জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা (৭টি) ও জার্ড ম্যুলার (৫টি)। ২০১৮ সালে সেমিফাইনাল এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ইংল্যান্ডের সামনে সুযোগ রয়েছে টানা তৃতীয়বারের মতো শেষ আটে পৌঁছানোর। এর আগে ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালে তারা এই কীর্তি গড়েছিল। কঙ্গোর বিপক্ষে গোল খাওয়ার কারণে কিছুটা সমালোচনা সহ্য করতে হলেও, এভারটন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড এই ম্যাচে মাঠে নামলেই ছুঁয়ে ফেলবেন পিটার শিল্টনের রেকর্ড। ইংল্যান্ডের পুরুষ দলের হয়ে বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৭টি ম্যাচ খেলার গৌরব অর্জন করবেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে দারুন ফর্মে স্বাগতিক মেক্সিকো

এবারের বিশ্বকাপে দারুন ফর্মে স্বাগতিক মেক্সিকো

অপরাজেয় স্বাগতিক মেক্সিকো

হাভিয়ের আগিরেসের অধীনে মেক্সিকো এবার দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ জেতার পর নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে একুয়েডরকে ২-০ গোলে অনায়াসে হারিয়েছে তারা। বিশ্বকাপে এই মাঠে মেক্সিকো কখনো হারেনি (৮ জয়, ২ ড্র)। যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এখানে গত ২২ ম্যাচে তারা অপরাজিত। এই স্টেডিয়ামে এটি মেক্সিকোর ১১তম বিশ্বকাপ ম্যাচ হতে যাচ্ছে, যা নির্দিষ্ট কোনো ভেন্যুতে কোনো দলের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। একবিংশ শতকের ফুটবল ইতিহাসে জার্মানির (২০০৬) পর দ্বিতীয় স্বাগতিক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে মেক্সিকো। এবার যদি তারা ইংল্যান্ডকে গোল না খেয়ে হারাতে পারে, তবে ১৯৯০ সালের ইতালির পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম ৫ ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখার অনন্য কীর্তি গড়বে তারা।

আজটেকার উচ্চতা নিয়েই ভয় সবচেয়ে বেশি ইংলিশদের

আজটেকার উচ্চতা নিয়েই ভয় সবচেয়ে বেশি ইংলিশদের

নজরে থাকবেন যারা

মেক্সিকোর আক্রমণভাগের মূল ভরসা এখন জুলিয়ান কুইনোনেস। চলতি বিশ্বকাপে ৩টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্টসহ ৪টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। ১৯৯৮ সালে লুইস হার্নান্দেজের পর এক বিশ্বকাপে কোনো মেক্সিকান খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোল-অবদানের রেকর্ড এটি। পাশাপাশি মিডফিল্ডে রবার্তো আলভারাডো মেক্সিকোর জন্য বড় শক্তি। ৩টি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি তিনি মেক্সিকানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি (১০টি) ও ট্যাকল (৭টি) করেছেন।

মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো এর আগে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল, তা-ও ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে। সেই ম্যাচে ববি চার্লটন ও রজার হান্টের গোলে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল ইংলিশরা, এবং সেবারই তারা একমাত্র বিশ্বকাপটি ঘরে তোলে। তবে মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ চারটি প্রীতি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে ইংল্যান্ড।

অপ্টা সুপারকম্পিউটার প্রেডিকশন

অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ম্যাচটি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৪০.৬%, আর মেক্সিকোর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ৩১.৫%। ম্যাচটি ড্র হওয়ার বা অতিরিক্ত সময় ও পেনাল্টি শুটআউটে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৭.৯%। তবে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সামগ্রিক লড়াইয়ে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে রয়েছে (৫৫.৬%), যেখানে ঘরের মাঠের সুবিধা পাওয়া মেক্সিকোর সম্ভাবনা ৪৪.৪%। শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো তাদের ঘরের মাঠের অপরাজেয় ধারা বজায় রাখে, নাকি ইংল্যান্ড ৪০ বছরের পুরোনো ভেন্যুতে নতুন ইতিহাস লেখে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।