পরের রাউন্ডে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ
বিশ্বকাপ ২০২৬, শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াই — আইভরি কোস্ট বনাম নরওয়ে: আফ্রিকার নতুন ইতিহাস, নাকি হালান্ডের গোলঝড়?

বিশ্বকাপ ২০২৬, শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াই — আইভরি কোস্ট বনাম নরওয়ে: আফ্রিকার নতুন ইতিহাস, নাকি হালান্ডের গোলঝড়?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট ও নরওয়ে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়াম, আরলিংটনে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। নকআউট পর্বের এই লড়াইয়ে জয়ী দল শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে।
আইভরি কোস্ট এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে। তিনটি আসর ধরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। আফ্রিকার রেকর্ড নয়টি দলের মধ্যে একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠা আইভরি কোস্ট এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখছে।
গ্রুপ পর্বে জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হারলেও বাকি ম্যাচগুলোতে দারুণ লড়াই করে নকআউট নিশ্চিত করেছে তারা। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—যে কীর্তি একসময় দিদিয়ের দ্রগবা ও দুই তোরে ভাই করতে পারেননি, সেটিই করে দেখিয়েছে বর্তমান প্রজন্মের এই দল।
আক্রমণভাগে আইভরি কোস্টের অন্যতম ভরসা নিকোলাস পেপে, যিনি গ্রুপ পর্বে দুটি গোল করেছেন। এছাড়া আমাদ দিয়ালো ও ফ্রাঙ্ক কেসি একটি করে গোল করেছেন। তরুণ ইয়ান দিয়োমান্দেও নজর কেড়েছেন নিজের পারফরম্যান্সে।

নিকোলাস পেপে
অন্যদিকে নরওয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফিরেছে। গ্রুপ পর্বে ইরাককে ৪-১ ও সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করে তারা। শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগও পেয়েছিল নরওয়ে।

মার্টিন ওডেগার্ড
নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আর্লিং হালান্ড। প্রথম দুই ম্যাচেই চার গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন। তার সঙ্গে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড দুইটি অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণকে আরও ধারালো করেছেন।

এই ম্যাচে আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে হালান্ডকে থামানো। লম্বা এই স্ট্রাইকারকে সামলানোর দায়িত্ব থাকবে প্রতিভাবান সেন্টার-ব্যাক উসমান দিয়োমান্দের কাঁধে।

উসমান দিয়োমান্দে
পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপের দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে আইভরি কোস্ট তাদের শেষ পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছে (১ জয়, ১ ড্র, ৩ হার)। অন্যদিকে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে নরওয়ের রেকর্ড বেশ ভালো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ ম্যাচে তাদের হার মাত্র দুটি (৯ জয়, ৮ ড্র, ২ হার)।
দুই দলের শক্তির জায়গা ভিন্ন। আইভরি কোস্ট সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ভরসা রাখে। অন্যদিকে নরওয়ে নির্ভর করে হালান্ডের গোল করার ক্ষমতা, ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা এবং দলগত আক্রমণভাগের ওপর। তাই ম্যাচটি হতে পারে শেষ ৩২-এর সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি।
সম্ভাব্য একাদশ—
আইভরি কোস্ট (৪-৪-২): ইয়াহিয়া ফোফানা; গেলা দুয়ে, ওদিলোঁ কোসোনু, এমমানুয়েল আগবাদু, ঘিসলাঁ কোনো; আমাদ দিয়ালো, ইব্রাহিম সাঙ্গারে, ফ্রাঙ্ক কেসি, ইয়ান দিয়োমান্দে; নিকোলা পেপে, ইভান বনি।
নরওয়ে (৪-৩-৩): অরিয়ান নিল্যান্ড; মার্কুস পেডারসেন, ক্রিস্তোফার আয়ের, টরবিয়র্ন হেগেম, ডেভিড মোলার উলফ; মার্টিন ওডেগার্ড, সান্দের বের্গে, ফ্রেডরিক আউর্সনেস; আলেক্সান্ডার সরলথ, আলিং হালান্ড, আন্তোনিও নুসা
নজরে থাকবে—
ম্যাচের সবচেয়ে বড় লড়াই হবে উসমান দিয়োমান্দে বনাম এরলিং হালান্ড। আইভরি কোস্ট যদি হালান্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তাহলে নরওয়ের আক্রমণের ধার অনেকটাই কমে যাবে। অন্যদিকে হালান্ড নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারলে আফ্রিকান দলটির জন্য ম্যাচটি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই দলই নতুন ইতিহাস লিখতে চায়। একদিকে প্রথমবার শেষ ষোলোতে ওঠার স্বপ্নে বিভোর আইভরি কোস্ট, অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের পর আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে মরিয়া নরওয়ে। তাই উত্তেজনাপূর্ণ একটি লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।