হার দিয়ে স্টোকসকে বিদায় দিলো ইংল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়, ইংল্যান্ডকে ১৬০ রানে হার। নিউজিল্যান্ড- ৪৩৮ ও ২৮৮/৯ (ঘোষিত) (মিচেল অপরাজিত ১০০, রাচিন রবীন্দ্র ৯৪); ইংল্যান্ড - ৩৫৪ ও ২১২ (জেমি স্মিথ ৬০, জ্যাক ফোকস ৩-৫২)। ফল: নিউজিল্যান্ড ১৬০ রানে জয়ী।

নিউজিল্যান্ড ১৬০ রানে জয়ী
ইংল্যান্ডকে ১৬০ রানে পরাজিত করে নিউজিল্যান্ডের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়
নিউজিল্যান্ড - ৪৩৮ ও ২৮৮/৯ (ঘোষিত); (মিচেল অপরাজিত ১০০, রাচিন রবীন্দ্র ৯৪) ইংল্যান্ড - ৩৫৪ ও ২১২; (জেমি স্মিথ ৬০, জ্যাক ফোকস ৩-৫২)
ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ১৬০ রানে জয়ী।

বেন স্টোকস
ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বেন স্টোকসের অর্জন অনেক। তবু চার বছরের নেতৃত্ব শেষে একটি আক্ষেপ থেকেই গেল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকে অবসর নেবার শেষ ম্যাচ হলো না মনের মতো।
তাঁর দলের প্রধান লক্ষ্য ছিল ক্রিকেটের ‘বিগ থ্রি’র কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়—হোক দেশে কিংবা বিদেশে। কিন্তু ট্রেন্ট ব্রিজের বিষণ্ন দিনে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রইল। উচ্ছ্বাসে ভাসল নিউজিল্যান্ড। পেশাদার ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে কিউইরা গত ১৮ মাসে দ্বিতীয়বারের মতো বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে স্মরণীয় সিরিজ জয় তুলে নিল।

রাচিন রবীন্দ্র
২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারতকে তাদের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল নিউজিল্যান্ড। এবার টম ল্যাথামের দল গড়ল আরও বড় ইতিহাস। তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম টেস্ট হেরে ফিরে এসে ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জেতা প্রথম দল তারা। একই সঙ্গে এই হার কার্যত ‘বাজবল’ যুগের ইতি টেনে দিল। ২০২২ সালের জুনে এই ট্রেন্ট ব্রিজেই জনি বেয়ারস্টো ও বেন স্টোকসের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে যে দর্শনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, চার বছর পর সেই মাঠেই তার সমাপ্তি হলো।
জয়ের শেষ মুহূর্তটিও ছিল প্রতীকী। সিরিজে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফর্মার নাথান স্মিথ ছিলেন দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি, ১৫ উইকেট নিয়ে। চোটে জর্জরিত বোলিং আক্রমণে তিনিই ছিলেন একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি সব ম্যাচ খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর অসাধারণ এক ক্যাচেই নিশ্চিত হয় সিরিজ জয়। লং-অনে ঝাঁপিয়ে পড়ে তিনি দুর্দান্ত ক্যাচ নেন। মিচেল স্যান্টনারের বাঁহাতি স্পিনে সেটিই ছিল দ্বিতীয় উইকেট। আউট হন ইংল্যান্ডের শেষ ভরসা জেমি স্মিথ, ৬০ রান করে।

জো রুট ১৮ রানে রান আউট হন
মধ্যাহ্ন বিরতিতে ম্যাচের চিত্র
মধ্যাহ্ন বিরতিতে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ১৯১ রান। জয়ের জন্য তখনও দরকার ছিল আরও ১৮২ রান। নিউজিল্যান্ড পঞ্চম দিনের সকালেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। তাদের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল জো রুটকে ১৮ রানে ফিরিয়ে দেওয়া। এতে ইংল্যান্ড ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হারার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।
জেমি স্মিথ ৭৮ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু ফাটল ধরা, রোদে পোড়া উইকেটে অসমান বাউন্স ও সীমারদের মুভমেন্টে ৩৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করা তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এমনকি ম্যাচ ড্র করার সম্ভাবনাও ক্ষীণ ছিল। যদিও বেন স্টোকসের চার বছরের অধিনায়কত্বে ইংল্যান্ড কখনোই ড্রয়ের জন্য ব্যাট করার কৌশল নেয়নি।
অবশ্য নিউজিল্যান্ডও চোটের সমস্যায় ভুগছিল। ব্যাটিংয়ের সময় আঙুল ভেঙে যায় বেন সিয়ার্সের। আর উইল ও'রুর্কে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঝ ওভারেই মাঠ ছাড়েন। তাঁর জায়গায় বোলিংয়ে আসেন জ্যাক ফোকস।
তবু ইংল্যান্ড এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। আগের সন্ধ্যায় মাত্র ২০ বলে ৩০ রানের বিদায়ী ইনিংস খেলেও স্টোকস চার উইকেটের পতন ঠেকাতে পারেননি। পঞ্চম দিনের সকালে এমিলিও গে ও জো রুটের ওপর ভরসা ছিল বড় জুটি গড়ার। কিন্তু সেটিও ভেঙে যায় দ্রুত।
নাথান স্মিথের নিখুঁত সুইংয়ে গে স্লিপে ক্যাচ দেন। এরপর জেমি স্মিথ নিজের চতুর্থ বলেই পয়েন্টে ঠেলে এক রান নিতে গিয়ে জো রুটকে রানআউট করান। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে হেনরি নিকোলস ভারসাম্য হারিয়েও সরাসরি থ্রো করে রুটকে এক ফুটের ব্যবধানে রানআউট করেন।
১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড তখন বড় পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে। তবে পরে জেমি স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি স্যান্টনারকে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। কিন্তু স্যান্টনার ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পান। মধ্যাহ্ন বিরতির পাঁচ মিনিট আগে তাঁর নিখুঁত স্লাইডারে গাস অ্যাটকিনসন এলবিডব্লিউ হন ১৯ রান করে। বিরতিতে জফরা আর্চারকে ঘিরে পাঁচজন ফিল্ডার দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর গ্যালারির দর্শকেরাও যেন অনিবার্য পরিণতির অপেক্ষায় ছিলেন।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।