খেলারদেশ

আজ ব্রাজিলের স্কটল্যান্ড পরীক্ষা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ : গ্রুপ সি-এর শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড। ব্রাজিলের জন্য সুখবর, নেইমার ইঞ্জুরি কাটিয়ে আজ মাঠে ফিরবেন। অন্যদিকে, ব্রাজিলের বিপক্ষে ১০ ম্যাচে কোনো জয় না থাকলেও ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে স্কটল্যান্ড। মরক্কো, ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড—তিন দলেরই সম্ভাবনা আছে নকআউট পর্বে যাওয়ার। ফলে সাম্বা বনাম সাহস—কাগজে কলমে লড়াই অসম হলেও, শেষ হাসি কার ফুটবে তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আজ ভোর পর্যন্ত।

আজ ব্রাজিলের স্কটল্যান্ড পরীক্ষা
রনক জামান
By রনক জামান

বিশ্বকাপ ২০২৬, গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ সময় ২৫ জুন, ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড।

গ্রুপটিতে, শেষ ম্যাচের আগে পরিস্থিতি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। হাইতি ইতোমধ্যে বিদায় নিলেও ব্রাজিল, মরক্কো ও স্কটল্যান্ড—তিন দলেরই নক-আউটে যাওয়ার সুযোগ আছে।

স্কটল্যান্ডের সামনে রয়েছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ, ব্রাজিলের গ্রুপ সেরা হওয়ার লক্ষ্য। দুই ম্যাচ শেষে স্কটল্যান্ডের ৩ পয়েন্ট, ব্রাজিলের ৪ পয়েন্ট। ফলে স্কটল্যান্ড জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বা রানারআপ হয়ে নকআউট পর্বে যাবে। ড্র করতে পারলেও সেরা তৃতীয় আট দলের মধ্যে থেকেও রাউন্ড অব ৩২-এ যাওয়ার সুযোগ হবে স্কটিশদের। অন্যদিকে, ব্রাজিল জয় পেলে—গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর রানারআপ নির্ধারিত হবে মরক্কো বনাম হাইতি ম্যাচের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে।

ব্রাজিল ও মরক্কো নিজেদের ম্যাচে জয় পেলে দুই দলেরই পয়েন্ট সমান (৭) হবে, তখন গোল ব্যবধানে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ নির্ধারণ হবে।

ব্রাজিলের জন্য সুখবর হলো ইঞ্জুরি কাটিয়ে আজ মাঠে নামবেন নেইমার। ফলে ব্রাজিলের জন্য আক্রমণভাগে আজ বাড়তি সৃজনশীলতার সাথে জয়ের সম্ভাবনা আরো বাড়বে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপসেরা হবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের বিপক্ষে ১০ ম্যাচে কোনো জয় না থাকলেও ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে স্কটল্যান্ড।

সাম্বা বনাম সাহস—কাগজে কলমে লড়াই অসম হলেও, ম্যাচের নব্বই মিনিটই নির্ধারণ করবে, শেষ হাসিটা কে হাসবে!

গ্রুপ সি-এর বর্তমান অবস্থা

গ্রুপ সি-এর বর্তমান অবস্থা

স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল : মূল পর্যবেক্ষণ

• সুপারকম্পিউটারের মতে, ব্রাজিল অনায়াসে নকআউট পর্বে পৌঁছে যাবে—তাঁদের জয়ের সম্ভাবনা ৬৯.৬%।

• অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডকে স্পষ্ট আন্ডারডগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১২.২%, তবে চাপমুক্ত অবস্থানে থেকে চমক দেখানোর সুযোগও তাদের রয়েছে।

• ইতিহাসও স্কটল্যান্ডের পক্ষে কথা বলে না। ব্রাজিলের বিপক্ষে তারা কখনো জিততে পারেনি। স্কটিশরা ১০বার ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু জয় পায়নি একটিও। ১০ ম্যাচে স্কটল্যান্ড ৮ বার পরাজিত হয়। অর্জন বলতে ২টি ড্র।

তবে পরিসংখ্যান, ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক ফর্ম—সবকিছু বিবেচনায়র ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখলেও, বিশ্বকাপ মঞ্চে স্কটল্যান্ডের জন্য একটি অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

গ্রুপসেরা হবার লক্ষ্য নিয়ে নামছে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল

গ্রুপসেরা হবার লক্ষ্য নিয়ে নামছে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের ৩য় ম্যাচে মায়ামিতে গ্রুপসেরা হবার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ব্রাজিল। আনচেলত্তির ব্রাজিলের সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুমান করলে, বল দখলে রেখে পজেশনাল ফুটবল খেলার চেষ্টা করবেন। নেইমার ফিট থাকলেও শুরুর একাদশে খেলবেন কিনা তা নিশ্চিত না। তবে মাঝমাঠে হাই প্রেস করে খেলার প্রবণতা থাকতে পারে।

স্কটিশদের রক্ষণাত্মক খেলা ও রাফিনিয়ার অনুপস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে দিয়েই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রাখবেন। এবং রাইট উইং-এ রায়ানকে খেলানোর সম্ভাবনাই বেশি। রায়ান আক্রমণে প্রভাব বিস্তার না করতে পারলে সুপার-সাব হিসেবে নামবেন ১৯ বছর বয়সী এন্ড্রিক।

নেইমার প্রস্তুত, শুরুর একাদশে না থাকলেও মাঠে নামার অপেক্ষায়

নেইমার প্রস্তুত, শুরুর একাদশে না থাকলেও মাঠে নামার অপেক্ষায়

রাফিনিয়ার চোটের পর ব্রাজিলের আক্রমণভাগের কেন্দ্রবিন্দু এখন ভিনিসিয়াস। ভিনি তাঁর শেষ পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ছয়টি গোলে অবদান রেখেছেন (তিনটি গোল, তিনটি অ্যাসিস্ট)।

টার্টান আর্মিরা ভিনি জুনিয়রকে কড়া মার্কিং-এ রেখে আক্রমণ দুর্বল করতে চাইলে, নেইমারকে মাঠে নামানো হবে ডন কার্লোর পরিকল্পনা। এতে আক্রমণভাগে স্কটিশ রক্ষণভাগ আরো কঠিন পরীক্ষার সম্মুখে পড়বে। নেইমারও মাঝমাঠে প্রভাব রাখার পাশাপাশি অবস্থা বিশেষে লেফট উইং দিয়ে আক্রমণ শাণিত করতে ও ভিনির উপর চাপ কমাতে পারবেন।

ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে স্টিভ ক্লার্কের স্কটল্যান্ড

ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে স্টিভ ক্লার্কের স্কটল্যান্ড

অন্যদিকে, স্কটল্যান্ড মাঠে নামবে নতুন ইতিহাস লিখতে।

প্রতিপক্ষ যেখানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সেখানে স্কটিশরা বড় টুর্নামেন্টগুলোতে গ্রুপ পর্ব পেরোতেই ব্যর্থ হয়ে আসছে। তবে সেলেকাওদের বিপক্ষে জয় পেলে, তাঁদের দুটো রেকর্ড হবে আজ।

গ্রুপ সি-তে অন্তত তৃতীয় স্থান নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায়, আর মাত্র এক পয়েন্ট পেলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের যাত্রা নিশ্চিত হবে—এমনকি অল্প ব্যবধানে হারলেও তা যথেষ্ট হতে পারে।

অন্যদিকে ব্রাজিলের বিপক্ষে এটিই হবে তাঁদের প্রথম জয়। তাই, হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় ও মরক্কোর কাছে ১-০ গোলে হেরে গেলেও সরাসরি রাউন্ড অব ৩২-এ যেতে আজ তারা আবার জয়ের চেষ্টাই করবে।

সেই লক্ষ্যে স্টিভ ক্লার্কের স্কটল্যান্ড দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কমতি নেই। মরক্কোর বিপক্ষে শুরুর একাদশে এমন খেলোয়াড়দের রেখেছিলেন যাঁদের সম্মিলিতভাবে সিনিয়র পর্যায়ে ৬০৯টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড রয়েছে। যা স্কটিশ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ।

তবে, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের পরিসংখ্যান পক্ষে নেই, তা আবারও বলতে হচ্ছে। সেলেকাওদের বিপক্ষে টার্টান আর্মি প্রথম মাঠে নামে ১৯৭৪ সালে। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। এরপর ব্রাজিল জিতেছে তিনবার—১৯৮২, ১৯৯০ এবং ১৯৯৮-এ। বিশ্বকাপে আজ তাঁরা চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

ব্রাজিলের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের পরিকল্পনা কেমন হবে?

ব্রাজিল দলে ব্যক্তিগত মেধা ও নৈপুণ্য, আক্রমণভাগের গভীরতা বেশি থাকলেও তা প্রতিহত করতে স্টিভ ক্লার্কের স্কটল্যান্ড দল হিসেবে বেশ সুসংগঠিত। বিশেষ করে রক্ষণভাগে। ক্লার্ক রক্ষণভাগকে যথাসম্ভব নিচে এবং আটোসাঁটো করে রেখে মরক্কোর মতোই ট্রানজিশন ফেইজে কাউন্টার এটাকে যাবার পরিকল্পনা করবেন। কিন্তু দুই ম্যাচে মাত্র ১ গোল পাওয়া স্কটল্যান্ডের দুর্বলতা হচ্ছে সীমিত শক্তির আক্রমণভাগ। তাঁদের আক্রমণ কতটা পরিকল্পনামাফিক কার্যকর হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার জায়গা আছে। এছাড়া বিশ্বমানের কোনো খেলোয়াড় না থাকায় আক্রমণে খেই হারানোর সম্ভাবনা আছে। বল দখলে ও পজেশন ধরে রাখতেও তাঁরা হিমশিম খায় এবং বল হারায়। ফলে বেশিরভাগ সময় রক্ষণভাগেই নেমে প্রতিপক্ষকে ঠেকানোর কাজ করতে হয় স্কটিশ খেলোয়াড়দের।

এখানে ক্লার্কের একমাত্র তুরুপের তাস হতে পারেন দলের দ্রুতগতির উইঙ্গার জন ম্যাকগিন। হাইতির বিপক্ষে করা একমাত্র গোলটি তাঁরই করা। মাঝমাঠে স্কট ম্যাকটোমিনে কাউন্টার এটাকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

লুইস ফার্গুসন

লুইস ফার্গুসন

এছাড়াও, গ্যানন-ডোক স্কটল্যান্ডের জন্য অপ্রত্যাশিত চমক হিসেবে অবদান রাখতে পারেন। আর রক্ষণভাগে তাদের মূল ভরসা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লুইস ফার্গুসন—যিনি এখন পর্যন্ত ৪টি সফল ট্যাকল, ৪টি ইন্টারসেপশন এবং ২০টি ডুয়েলে জিতে দলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।

গ্যানন-ডোক

গ্যানন-ডোক

স্কটিশদের আরেকটি দুর্বল জায়গা হচ্ছে ফুলব্যাক। সুতরাং ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে কতটা প্রতিহত করতে পারবেন তাঁরা, নেইমার মাঠে নামলে রক্ষণভাগকে কীভাবে সুসংহত রাখতে পারবেন—তা নিয়ে ক্লার্কের ভাবার আছে।

খেলার আগেই আরো দুশ্চিন্তার কারণ রয়েছে। চোটের কারণে স্কট ম্যাককিনা এবং অ্যারন হিকি অনিশ্চিত। এমনকি রক্ষণভাগে সবচেয়ে বেশি যিনি অবদান রাখতে পারেন, সেই ফার্গুসনও কিছুদিন দলের অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন।

তবে টার্টান আর্মিদের সেরা একাদশ নিশ্চিত করতে ক্লার্ক তাঁকে খেলাবেন বলেই ধরে নেয়া যায়।

সম্ভাব্য শুরুর একাদশ

ব্রাজিল (৪-৩-৩) : অ্যালিসন; ডগলাস সান্তোস, মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল, দানিলো; ব্রুনো গিমারেস, কাসেমিরো, লুকাস পাকেতা; রায়ান, ম্যাথিউস কুনিয়া, ভিনিসিয়াস জুনিয়র

স্কটল্যান্ড (৩-৪-২-১) : অ্যাঙ্গাস গান; অ্যান্ড্রু রবার্টসন, গ্রান্ট হ্যানলি, জ্যাক হেনড্রি; নাথান প্যাটারসন, লুইস ফার্গুসন, স্কট ম্যাকটমিনে, জন ম্যাকগিন, বেন গ্যানন-ডোক, রায়ান ক্রিস্টি; চে অ্যাডামস

Image

মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে হতাশাজনক ড্রয়ের পর হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেলেসাও গ্রুপ সি-এর শীর্ষে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ম্যাথিউস কুনিয়ার জোড়াগোল এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোলের সুবাদে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মানিকে ছাড়িয়ে যায় এবং তাদের মোট গোলসংখ্যা ২৪১-এ পৌঁছায়।

যদিও জার্মানি এরপর আইভরি কোস্টের বিপক্ষে দুটি গোল করে ব্রাজিলের রেকর্ডের আবার সমতা ফেরায়।

রনক জামান

রনক জামান

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।