ফিফা বিশ্বকাপ২০২৬, রোনালদো, পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান, মেসি, গোল
মেসির রেকর্ড ২৪ ঘণ্টাও টিকতে দিলেন না রোনালদো
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আসরে, ফুটবল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান ম্যাচে জোড়াগোলের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়লেন। গর্জন তুলে যেন ভক্তদের হৃদয়ে জানান দিলেন—রোনালদো এখনো অফুরন্ত, অদম্য ও নাছোড়বান্দা। পর্তুগিজ মহাতারকার এই রেকর্ডের মধ্য দিয়ে গত দশকের মতো এই বিশ্বকাপ মঞ্চে জমজমাট হয়ে ফিরে আসছে 'মেসি বনাম রোনালদো'—তর্কের সুযোগ।

ম্যাচের ৬ মিনিটেই রোনালদোর প্রথম গোল ও বিশ্বরেকর্ড তৈরি | (Photo by Francois Nel/Getty Images)
বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে প্রতিক্ষণে নতুন রঙ, সৌন্দর্য ও কীর্তি স্থাপনের ঋতু চলছে এখন।
তাই ভক্তদের আড্ডায়, আলাপে, ট্রেন্ডে যখন বিশ্বকাপে মেসির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হবার রেকর্ড; মেসি-ভক্তরা যখন সোৎসাহে বলে উঠছেন, ‘এ যেন সেই আনস্টপেবল বার্সা সুপারস্টার মেসি!’ আর বলতে বলতে চকচক করে উঠছে তাঁদের চোখ, ঝিলিক দিচ্ছে পুরনো দিনের স্মৃতি।
কিন্তু ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির নীতিতে এক সময়ের মেসি-রোনালদো তর্কও যে আবার উঠে আসতে পারে, তা কঙ্গো ডিআরের বিপক্ষে পর্তুগালের খেলা ও ফলাফল দেখে কেউ হয়ত কল্পনাও করেননি।
অথচ চিরায়ত নাছোড়বান্দা-স্বভাব পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজেই যেন ভক্তদেরকে সেই তর্ক উস্কে দিতে সাহায্য করলেন।
প্রথম ম্যাচের হোঁচট ভুলিয়ে দিয়ে, গ্রুপ 'কে'-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া-গোল করে তিনি চলমান আসরে রবার্তো মার্তিনেজের দলকে ছন্দ ফিরে পেতেও সাহায্য করলেন। ৫-০ গোলের বিশাল জয় সমর্থকদের নতুন আশা দেখালো, যার নেপথ্যে এখন রোনালদোর নামই সবার মুখে। শুধু কি তাই?
ম্যাচটির ছয় মিনিট গড়াতে না গড়াতেই, বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও অনন্য কীর্তি স্থাপন করলেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হয়ে উঠলেন বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি ফিফা বিশ্বকাপ আসরে গোল করার ঐতিহাসিক রেকর্ডধারী।

আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা) তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এই অনন্য অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, ২০০৬ (১ গোল), ২০১০ (১), ২০১৪ (১), ২০১৮ (৪) এবং ২০২২ (১) সালের বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড ছিল তাঁর।
এবার ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চেও, ৪১ বছর বয়সেও অক্লান্ত ও প্রাণশক্তি ভরপুর রোনালদো—উজবেকিস্তানের বিপক্ষে নেমে, প্রথমার্ধের ৬ ও ৩৯ মিনিটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন। আর এতে ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম আরও একবার স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে মেসি কোনো গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায়, এই রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ তাঁর আপাতত হচ্ছে না। অন্যদিকে, রোনালদোর জোড়াগোলের মধ্য দিয়ে তাঁর বিশ্বকাপ গোলসংখ্য বর্তমানে ১০টি। যা মেসির ১৮ গোলের রেকর্ড থেকে যথেষ্ট দূরে।
তবুও এবারের বিশ্বকাপ আসরে ভক্তদের মেসি-রোনালদো তর্ক বা ইতিহাসের চাকার পুনরাবৃত্তির সুযোগ স্পষ্ট হচ্ছে।
গত দশকের সেই মেসির বিপরীতে আরেকটি বিশাল যে নাম—ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসে ছয়টি আসরে অংশ নেয়া ফুটবলার হিসেবে দুজনের ভাগাভাগি করে নেয়া রেকর্ডের মধ্য দিয়ে নাম দুটি আবার পাশাপাশি উচ্চারিত হয়ে ওঠে এবারের আসরের শুরুতেই।
এছাড়াও, বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেসির রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৮ গোলের মালিক হবার পরদিনই রোনালদোর এই রেকর্ডটি—ভক্তদের স্মৃতিতে সেই আত্মবিশ্বাসী, জেদি, অক্লান্ত, শ্রম ও নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতায় যার আস্থা—সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেখা মিলেছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের সেই প্রাইম সিআর সেভেন—ভক্তদের স্মৃতির পাতা থেকে উঠে এসে জোড়াগোলের ঝলক দেখিয়ে কি শুধু স্মৃতিকাতরই করলেন? বা কেবল গর্বিত করলেন? নাকি পর্তুগাল সমর্থকদেরকে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস ও প্রতিশ্রুতিরও ইঙ্গিত দিলেন?
আগামী ২৮ জুন ভোর ৫টায় (বাংলাদেশ সময়), পর্তুগাল গ্রুপে শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে কলম্বিয়ার।

আপনি জানেন কী?
• বর্তমানে রোনালদোর ক্যারিয়ারে মোট গোলসংখ্যা ৯৭৩টি • যার ১৪৩টি গোল করেন পর্তুগালের হয়ে • এটিই নিজ দেশের হয়ে কোনো পুরুষ ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড।
বিপরীতে,
• বর্তমানে মেসির মোট গোলসংখ্যা ৯১৬টি • যার মাঝে আর্জেন্টিনার হয়ে করেছেন ১২২টি গোল • এটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলোর কোনো পুরুষ ফুটবলারের রেকর্ড সর্বোচ্চ।

রনক জামান
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।