বাংলাদেশকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে জিম্বাবুয়ের সিরিজ জয়
চার বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতলো জিম্বাবুয়ে

তৌহিদ হৃদয় ও তানজিদ তামিমের জুটি আশা দেখালেও জয়ের দেখা পায়নি
বাংলাদেশকে ১৩ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো জিম্বাবুয়ে। হারারেতে ২৩৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের দেয়া ২৪৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৩ রানেই প্রথম ধাক্কা খায় টাইগাররা। ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে যখন বিপাকে সফরকারীরা তখনই তৃতীয় উইকেট জুটিতে তৌহিদ হৃদয় ও তানজিদ তামিম হাল ধরেন। তৃতীয় উইকেট জুটি ভাঙার পর আবারো বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারিরা। তৌহিদ হৃদয়, তানজিদ তামিম ফিফটি করলেও জয়ের জন্য তা পর্যাপ্ত হয় নি। শেষ পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লে সমীকরণ দাঁড়ায় ১২ বলে ১৪ রান। হাতে কোনো উইকেট না থাকায় দ্রুত ম্যাচ বের করতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এই জয়ে চার বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতলো জিম্বাবুয়ে। এর আগে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ২৪৮ রানের টার্গেট দেয় জিম্বাবুয়ে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। দলের বিপর্যয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন ওপেনার বেন কারান। শেষ দিকে তাকে দারুণ যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন ব্র্যাড ইভান্স। টস জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ইনিংসের শুরুতেই চেপে ধরে বাংলাদেশের বোলাররা। দলীয় মাত্র ৮ রানেই দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট (০) ও ইনোসেন্ট কাইয়াকে (৪) সাজঘরে ফেরত পাঠান পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর ক্রেইগ আরভিন (৯) ও ওয়েসলি মাধেভেরেকেও (১৫) দ্রুত হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের হাল ধরেন বেন কারান। ১৩৫ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ১১১ রানের এক অসাধারণ ও দায়িত্বশীল অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। মিডল অর্ডারে সিকান্দার রাজা তাকে কিছুটা সঙ্গ দিয়ে ৫৩ বলে ৩৩ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হন। দলীয় ১৪৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে যখন দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়, তখন উইকেটে আসেন ব্র্যাড ইভান্স। কারানের সাথে জুটি বেঁধে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। মাত্র ৩৮ বলে ২টি চার ও ৫টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ৫৮ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ইভান্স। সপ্তম উইকেটে এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রানের জুটির ওপর ভর করেই মূলত লড়াকু পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পরও শেষ দিকের খরুচে বোলিংয়ের কারণে লক্ষ্যটা কিছুটা কঠিন হয়ে গেল শান্ত-হৃদয়দের জন্য। ম্যাচটি জিততে হলে এখন ৫০ ওভারে ২৪৮ রান করতে হবে বাংলাদেশকে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।