ফুটবল, ব্রাজিল, নরওয়ে, হালান্ড, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, বিশ্বকাপ
গ্যাব্রিয়েল-হালান্ড দ্বৈরথ : ঝগড়া ও প্রতিশোধ
গ্যাব্রিয়েল-হালান্ড দ্বৈরথ : ঝগড়া ও প্রতিশোধ এবার প্রিমিয়ার লিগ ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে।

গ্যাব্রিয়েল-হালান্ড দ্বৈরথ : ঝগড়া ও প্রতিশোধ
ব্রাজিল ও নরওয়ে যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হবে, তখন ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি হবে ব্রাজিলিয়ান সেন্টার-ব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস ও নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের দ্বৈরথ।
প্রিমিয়ার লিগে যথাক্রমে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত কয়েক বছরে তাদের লড়াই শুধু ট্যাকটিক্যাল ছিল না; ছিল উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা, খোঁচা, প্রতিশোধ আর বিতর্কে ভরা। তবে মাঠের লড়াই যতই তীব্র হোক, ম্যাচ শেষে একে অপরের প্রতি সম্মান দেখাতেও কখনও কার্পণ্য করেননি দুজন।

২০২৪: আলোচিত দ্বন্দ্বের শুরু
যদিও তারা চার মৌসুম ধরে প্রিমিয়ার লিগে একে অপরের বিপক্ষে খেলছেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আলোচনায় আসে ২০২৪ সালে।
মার্চে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে যে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলাকে এগিয়ে এসে দুজনকে আলাদা করতে হয়। তবে ম্যাচ শেষে তারা হাত মিলিয়ে বিষয়টির ইতি টানেন।

মাথায় বল ছুড়ে নতুন বিতর্ক
কয়েক মাস পর, সেপ্টেম্বরের পুনর্মিলনী ম্যাচে ঘটে আরও নাটকীয় ঘটনা। যোগ করা সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি ২-২ সমতায় ফেরার পর হালান্ড গোলের ভেতর থেকে বল তুলে নিয়ে গ্যাব্রিয়েলের মাথায় ছুড়ে মারেন। তখন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গোল হজমের হতাশায় প্রতিপক্ষের দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। হালান্ডের ছোড়া বল সরাসরি গিয়ে লাগে তার মাথায়।
ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হলেও রেফারি মাইকেল অলিভার কোনো ব্যবস্থা নেননি। ভিএআরও এটিকে "সহিংস আচরণ" হিসেবে বিবেচনা করেনি। ফলে হালান্ড কোনো শাস্তি পাননি। কয়েক সপ্তাহ পর এ প্রসঙ্গে নরওয়েজিয়ান তারকা বলেন,

গ্যাব্রিয়েলের প্রতিশোধ
হালান্ডের সেই আচরণের জবাব আসে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। লন্ডনে আর্সেনাল যখন ম্যানচেস্টার সিটিকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেয়, তখন পুরো ম্যাচজুড়েই হালান্ডকে খোঁচা দিতে থাকেন গ্যাব্রিয়েল। এক গোলের পর নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের মুখের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উদযাপন করেন। এমনকি এক পর্যায়ে হালান্ডকে নিজের বুট তুলে দিতে বলেও ব্যঙ্গ করেন।
পরে ব্রাজিলের জনপ্রিয় পডকাস্ট Podpah-এ গ্যাব্রিয়েল বলেন,
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, "শুরুর দিকে আমি ওর মুখের সামনে উদযাপন করছিলাম। পরে সে হেডে গোল করে ১-১ করল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা ৫-১ জিতলাম।"
নতুন মৌসুমেও থামেনি উত্তেজনা
২০২৫-২৬ মৌসুমেও তাদের দ্বৈরথ একইভাবে উত্তপ্ত ছিল। এক ম্যাচে বল দখলের লড়াই, একের পর এক ফাউল, জার্সি টানা, ধাক্কাধাক্কি—সবকিছুই দেখা যায়। এমনকি এক পর্যায়ে মুখোমুখি অবস্থানে গ্যাব্রিয়েল মাথা দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন, যদিও হালান্ডকে স্পর্শ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দুজনই হলুদ কার্ড দেখেন।

ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, "আমি যদি পড়ে যেতাম, তাহলে ওর লাল কার্ড হতো। আমি কখনও এমন কিছু করতাম না।"
তিনি আরও মজা করে বলেন,
প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও পারস্পরিক সম্মান

মাঠে দুজনের মধ্যে যতই উত্তেজনা থাকুক, ম্যাচ শেষে একাধিকবার তাদের হাসিমুখে কথা বলতে, শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এবং পরস্পরকে সম্মান জানাতে দেখা গেছে। হালান্ড বলেন, "ওর বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই দারুণ এক চ্যালেঞ্জ।" অন্যদিকে গ্যাব্রিয়েল স্বীকার করেছেন, প্রিমিয়ার লিগে হালান্ডই তার সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ।
তিনি বলেন, "অবশ্যই। সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমার মনে হয়, সেও আমার বিপক্ষে খেলতে উপভোগ করে। আমিও করি। আমরা দুজনই এই লড়াইটা উপভোগ করি।"
এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে
প্রিমিয়ার লিগে বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হলেও, বিশ্বকাপে এই প্রথম দেখা হবে গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস ও আর্লিং হালান্ডের।
আজ রাত ২টায়, ব্রাজিল ও নরওয়ের শেষ ষোলোর ম্যাচে আবারও মুখোমুখি হবেন এই দুই তারকা। এবার তাদের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ শুধু প্রিমিয়ার লিগের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না—বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো ম্যাচের ভাগ্যেই।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
ফুটবলপ্রিমিয়ার লিগের আগস্ট সেরা ‘বেনজেমার প্রতিচ্ছায়া’
ফুটবলমেসির সম্মানে আর্জেন্টিনার সব ম্যাচ থামবে ১০ মিনিটে
ফুটবলফুটবলে হাই প্রেস কী, কীভাবে কাজ করে, ভাঙার উপায়
ফুটবলমেসির অবসরে আবেগঘন বিদায় সতীর্থদের
ফুটবলঅবসরের ঘোষণা দিলেন মেসি
ফুটবল
মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।