খেলারদেশ

রোনালদো কি উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছেন?

পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১৬০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল এই খেলোয়াড়ের অপরাধের তুলনায় শাস্তির মাত্রা কি যথাযথ?

রোনালদো কি উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছেন?
খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১৬০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল এই খেলোয়াড়ের অপরাধের তুলনায় শাস্তির মাত্রা কি যথাযথ?

গত ১৯ অক্টোবর শাস্তির ঘোষণা দেয় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা পরিষদ। পরিষদের অপেশাদার বিভাগ মনে করেছে, রোনালদো ইচ্ছাকৃতভাবে শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তি ছিল এর দুই দিন আগে প্রকাশিত তথ্য।

কী বলছে ১৬০(১) অনুচ্ছেদ?

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির এই অনুচ্ছেদ জাতীয় দলের কার্যক্রম ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় প্রযোজ্য। অনুমতি ছাড়া জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করার ঘটনায় রোনালদোর বিরুদ্ধে এই বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নিয়মে এ ধরনের অপরাধের জন্য এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। তবে অপরাধ স্বীকার ও অন্যান্য প্রশমনকারী বিষয় বিবেচনায় শাস্তির সীমা কমতে পারে।

কেন ক্যাম্প ছেড়েছিলেন রোনালদো?

গত ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত খেলার সুযোগ পাননি রোনালদো। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে নিজের ভূমিকা নিয়ে মতবিরোধের কথাও সামনে আসে। রোনালদোর দাবি ছিল, তাঁকে খেলার সময় দেওয়ার বিষয়ে কোচের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল। তবে জেসুস এমন কোনো সমঝোতার কথা অস্বীকার করেন।

পরে নিজের আচরণের জন্য সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন রোনালদো। সতীর্থদের ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি। পাশাপাশি শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা জানান।

শাস্তি কি অপরাধের তুলনায় যথাযথ?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শাস্তির পরিমাণের পাশাপাশি তা নির্ধারণের প্রক্রিয়াও দেখতে হবে। রোনালদোর ক্ষেত্রে ফেডারেশন তাঁর অপরাধ স্বীকার, অনুশোচনা এবং ফুটবলে অবদানের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়েছে। এসব প্রশমনকারী কারণের ভিত্তিতে শাস্তির সীমা কমানো হয়। এরপর তাঁকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করা হয়। জরিমানাটি সংশোধিত সীমার সর্বোচ্চ অঙ্ক।

একদিকে, জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করা শৃঙ্খলার প্রশ্ন। দলের অন্য খেলোয়াড়দের জন্যও নিয়মের সমান প্রয়োগ জরুরি। সে বিবেচনায় রোনালদোর মতো তারকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ফেডারেশনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, রোনালদোর অপরাধ স্বীকার ও অনুশোচনার বিষয়টি শাস্তি নির্ধারণে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে তাঁকে সর্বোচ্চ মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। তবে জরিমানার অঙ্ক সংশোধিত সীমার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে।

সব দিক বিবেচনায় ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞাকে একেবারে লঘু শাস্তি বলা কঠিন। আবার জরিমানার অঙ্ক রোনালদোর মতো তারকার আর্থিক সামর্থ্যের তুলনায় কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে ব্যক্তিগত সম্পদের তুলনায় জরিমানার অঙ্ক দিয়ে শাস্তির ন্যায্যতা নির্ধারণ করা যায় না। শাস্তির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নিয়ম ভঙ্গের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকানো।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।