নিয়মিত খেলতে না পেরে অপরিণত ব্রাজিলিয়ান তরুণরা

প্রতিভার অভাব নেই ব্রাজিলে, অভাব নিয়মিত খেলার। তরুণ ফুটবলাররা দেশে যেমন পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না, তেমনি ১৮-১৯ বছর বয়সে ইউরোপের বড় ক্লাবে পাড়ি দিয়েও নিয়মিত মাঠে নামতে পারছেন না। এতে তাঁদের প্রত্যাশিত গতিতে পরিণত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ব্রাজিলের জাতীয় দলের কারিগরি মহলে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিও একই সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ব্রাজিল জাতীয় দলের কারিগরি স্টাফ মনে করছে, দলের তরুণ খেলোয়াড়দের সমস্যা হলো, তারা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলছে না বলে পরিণত হতে পারছে না। তারা এখানে (ব্রাজিল জাতীয় দলেও) খেলে না, আবার বিদেশেও (নিজেদের ক্লাবেও) খেলে না। আনচেলত্তি উদাহরণ হিসেবে এন্ড্রিক ও এস্তেভাওয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এন্ড্রিক বা এস্তেভাওয়ের কথাই ধরুন। তারা ১৮ বা ১৯ বছর বয়সে চলে যায়, ইউরোপের শীর্ষ কোনো ক্লাবে যোগ দেয়, কিন্তু সেখানে খেলার সময় পায় না।
এ সমস্যার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ এন্ড্রিক। ১৬ বছর বয়সেই রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে যোগ দেন তিনি। রিয়ালের পরিকল্পনায় এন্দ্রিক ছিলেন ভবিষ্যতের তারকা। কিন্তু তারকা-সমৃদ্ধ আক্রমণভাগে নিয়মিত জায়গা করে নেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

গত মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতে ধারে ফরাসি ক্লাব লিওঁতে যান এন্দ্রিক। সেখানে ২১ ম্যাচে ৮ গোল ও ৮টি গোলে সহায়তা করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। তবে রিয়ালে ফিরে চলতি মৌসুমেও তাঁর খেলার সুযোগ সীমিত।
এস্তেভাওয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পথ দেখা গেছে। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পালমেইরাসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আগেই ১৮ বছর বয়সে চেলসিতে যোগ দেন তিনি। ইংলিশ ক্লাবটিও তাঁকে ভবিষ্যতের জন্য বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখেছে। ফলে ইউরোপে গিয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়া এবং দ্রুত পরিণত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সমস্যাটি অবশ্য শুধু ইউরোপে পাড়ি জমানো তরুণদের নয়। ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলেও অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়দের খেলার সময় কমছে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়েরা মোট ম্যাচ-মিনিটের মাত্র ১৩.৮ শতাংশ পেয়েছেন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এই হার ফ্রান্সে ৩৮, ইংল্যান্ডে ৩২, স্পেনে ৩১, জার্মানিতে ২৮ ও ইতালিতে ২৮ শতাংশ।
বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা বৃদ্ধিকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে সিবিএফ। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ব্রাজিলের সিরি আ-তে ২৩ বছরের বেশি বয়সী বিদেশি খেলোয়াড়দের ম্যাচ-মিনিটের অংশ ৭.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে ব্রাজিলিয়ান অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়দের অংশ ২৮.৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১১.৫ শতাংশে।
পরিস্থিতি বদলাতে ২০২৭ সাল থেকে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা ধাপে ধাপে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিবিএফ। একই সঙ্গে ক্লাবগুলোর নিবন্ধন তালিকায় তরুণ ব্রাজিলিয়ানদের জন্য আলাদা জায়গা রাখার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
আন্তর্জাতিক ফুটবলক্লপের জার্মানির প্রথম জয়
আন্তর্জাতিক ফুটবলবড় জয় দিয়ে ‘নতুন পর্তুগালে’র শুরু
আন্তর্জাতিক ফুটবলইতিহাসের অন্যতম পরাজয়ের সাক্ষী বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক ফুটবলমেসিকে ছাড়াই বলিভিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বড় জয়
আন্তর্জাতিক ফুটবলনরওয়ের বিপক্ষে না খেলানোয় ক্ষুব্ধ রোনালদো, বৈঠকে কোচ-ফেডারেশন
আন্তর্জাতিক ফুটবল
মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।