খেলারদেশ

বেলিংহ্যাম

ইনিয়েস্তাকে পেছনে ফেললেন বেলিংহ্যাম

জুড বেলিংহ্যাম ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পজিশন এক (প্রায়) হলেও দুজনের ফুটবল দর্শন ভিন্ন, তবে ইনিয়েস্তাকে লা লিগা গোলসংখ্যায় পেছনে ফেলেছেন বেলিংহ্যাম, ৩৫ গোল করতে কার কতটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে সেই পরিসংখ্যানও বিস্ময়কর

ইনিয়েস্তাকে পেছনে ফেললেন বেলিংহ্যাম

জুড বেলিংহ্যাম ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগায় জুড বেলিংহ্যামের গোলের ধার বা খিদে যেন থামছেই না। মালাগার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে এক গোল করে নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছেন ইংলিশ এই মিডফিল্ডার। পেছনে ফেলেছেন বিশ্বকাপজয়ী স্পেন এবং বার্সেলোনা কিংবদন্তি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে।

বেলিংহ্যামের গোলের খিদে কমছেই না

বেলিংহ্যামের গোলের খিদে কমছেই না

মালাগার বিপক্ষে ম্যাচের ১৯ মিনিটে গোল করেন বেলিংহাম। চলতি মৌসুমে লা লিগায় তার দ্বিতীয় গোল এটা। তিন ম্যাচেই দুই গোলের সঙ্গে দুই অ্যাসিস্টও করেছেন। অর্থাৎ নতুন মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই রিয়ালের হয়ে চার গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এই মিডফিল্ডার। জোসে মরিনিওর অধীনে বেলিংহ্যাম আরও বেশি ফ্রি রোলে খেলছেন। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে আসা, বক্সে ঢুকে গোলের সুযোগ তৈরি করা, সবকিছুতেই তার ভূমিকা আরও আক্রমণাত্মক। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়েও দুর্দান্ত গোল-ফর্মে ছিলেন তিনি। রিয়ালে ফিরেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন।

মালাগার বিপক্ষে গোলটি ছিল লা লিগায় রিয়ালের হয়ে বেলিংহ্যামের ৩৬তম। আর এই গোলের মাধ্যমেই তিনি ছাড়িয়ে গেলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় ৩৫ গোল করেছিলেন ইনিয়েস্তা। বেলিংহ্যাম সেই সংখ্যায় পৌঁছেছেন মাত্র ৯০ ম্যাচে।

এখানেই সবচেয়ে বড় পার্থক্য। লা লিগায় ইনিয়েস্তার ৩৫ গোল করতে লেগেছিল ৪৪৩ ম্যাচ। সেখানে বেলিংহাম ৩৬ গোল করেছেন মাত্র ৯০ ম্যাচে। অর্থাৎ গোল করার গতিতে দুই মিডফিল্ডারের মধ্যে ব্যবধান বিশাল। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই এমন পরিসংখ্যান বেলিংহামের আক্রমণাত্মক দক্ষতা ও মানসিকতার প্রমাণ। রিয়ালে তিন মৌসুমের একটু বেশি সময় কাটিয়েই তিনি লা লিগার অন্যতম কিংবদন্তি মিডফিল্ডারের গোলসংখ্যা পেরিয়ে গেছেন।

ইনিয়েস্তা

ইনিয়েস্তা

অবশ্য দুজনের খেলার ধরন ও ফুটবল দর্শন এক রকম না। ইনিয়েস্তা ছিলেন মূলত টেকনিক্যাল, আইকিউ নির্ভর, পজিশন ভিত্তিক, ছোট এরিয়া কভার করে খেলা, প্রয়োজনে বল হোল্ড করা, গতি ধীর করে ফাইনাল থার্ডে স্পেস খোঁজা (স্ক্যানিং) ও নিজ দলের ফরোয়ার্ডদের পজিশন ও মুভমেন্টের সুযোগ ও সময় দেওয়া, সেই অনুযায়ী প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে স্পেস তৈরি হওয়ার অপেক্ষা করা, সেই সুযোগ না হলে, ছোট ছোট পাসে ত্রিভুজাকৃতির কম্বিনেশন তৈরি করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করা ও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের পজিশনিং কৌশলের কার্যকারিতা কমানো বা ব্যাঘাত করা, প্রেস ভাঙা। ইনিয়েস্তা প্রেস রেসিস্ট্যান্ট হওয়ায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার প্রেস করতে এলে উলটো পেছনে রেখে আসা বা তৈরি হওয়া স্পেসে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়া অথবা কী-পাস দেওয়া।

ত্রিভুজাকৃতির কম্বিনেশন তৈরি করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করা ও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের পজিশনিং কৌশলের কার্যকারিতা কমানো বা ব্যাঘাত করা, প্রেস ভাঙা, ইনিয়েস্তা প্রেস রেসিস্ট্যান্ট হওয়ায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার প্রেস করতে এলে উলটো পেছনে রেখে আসা বা তৈরি হওয়া স্পেসে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়া অথবা কী-পাস দেওয়া

ত্রিভুজাকৃতির কম্বিনেশন তৈরি করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করা ও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের পজিশনিং কৌশলের কার্যকারিতা কমানো বা ব্যাঘাত করা, প্রেস ভাঙা, ইনিয়েস্তা প্রেস রেসিস্ট্যান্ট হওয়ায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার প্রেস করতে এলে উলটো পেছনে রেখে আসা বা তৈরি হওয়া স্পেসে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়া অথবা কী-পাস দেওয়া

ইনিয়েস্তার খেলার বড় বৈশিষ্ট্য গোলের সুযোগ তৈরিতে বেশি সচেতনতা, বল নিয়ন্ত্রণ—বিশেষ করে টাইট স্পেসে, ড্রিবলিং, ছোট পাসে খেলা এবং টেম্পো কন্ট্রোল বা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিখ্যাত। অসাধারণ ফার্স্ট টাচ ও ৩৬০ ডিগ্রি মুভমেন্টে কারণে বল হারানোর প্রবণতা কম ও সহজেই ওয়ান ভার্সেস ওয়ান ডুয়েলে কাটিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। কখনও বাঁ পাশ দিয়ে ইন্টেরিওর হিসেবেও খেলা, হাফ-স্পেস ব্যবহার করা। বিশেষ করে খেলার শেষদিকে বা বড় ম্যাচে ইন্টেন্সিটি বাড়লে পজিশন, রোল ও গতি বদলে নিজেই গোল করা। ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালের গোলটি বিখ্যাত উদাহরণ। রিয়াল মাদ্রিদে একইরকম খেলোয়াড় ছিলেন স্প্যানিশ তারকা ইস্কো।

বেলিংহ্যাম

বেলিংহ্যাম

বেলিংহ্যাম ভার্সেটাইল, আধুনিক ও অল একশন মিডফিল্ডার, অর্থাৎ মূলত নাম্বার ১০ এটাকিং মিডফিল্ডার হলেও নাম্বার ৮ এর রোলও সমানভাবে পালন করা, পজিশন সুইচ করা ও একাধিক পজিশনে ফ্রি রোলে খেলা তার খেলায় অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বেলিংহ্যাম ফিজিক্যাল, ব্যালেন্সড, টেকনিক্যাল, এবং ভার্টিক্যাল—অর্থাৎ সরাসরি আক্রমণে যাওয়ার মানসিকতাসম্পন্ন। বড় এরিয়া কভার করা, গোল করা ও করানো, বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার, লেট রানে সময়মতো বক্সে ঢুকে ফাঁকা স্পেস ব্যবহার করা ও তৈরি করে নেওয়া এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানো উল্লেখযোগ্য শক্তি তার। দ্রুত বিল্ড-আপ, নিচ থেকে বল ক্যারি করা, রিকভার করা ও প্রেসিং দক্ষতা ও অবদান টিম প্লেয়ার হিসেবে স্কোয়াডে তাকে গুরুত্বপূর্ণ করে। বিশেষ করে বল ক্যারি করে নিজেই বলসহ ফাইনাল থার্ডে ঢুকে পড়া তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বৈশিষ্ট্য।

বেলিংহ্যাম ভার্সেটাইল, আধুনিক ও অল একশন মিডফিল্ডার, ভার্টিক্যাল—অর্থাৎ সরাসরি আক্রমণে যাওয়ার মানসিকতাসম্পন্ন, গোলের দিকে বেলিংহ্যামের ঝোঁক বেশি

বেলিংহ্যাম ভার্সেটাইল, আধুনিক ও অল একশন মিডফিল্ডার, ভার্টিক্যাল—অর্থাৎ সরাসরি আক্রমণে যাওয়ার মানসিকতাসম্পন্ন, গোলের দিকে বেলিংহ্যামের ঝোঁক বেশি

এছাড়া আক্রমণ ও রক্ষণের সংযোগ তৈরি, লাইন ব্রেকিং পাস, ক্রিয়েটিভিটি, ফাইনাল থার্ডে কী-পাস, গতি ও ড্রিবলিং দিয়ে প্রেস ভাঙা, ওয়ান ভার্সেস ওয়ান দক্ষতা, ট্যাকল, রক্ষণভাগে অবদান, এরিয়াল ও গ্রাউন্ড ডুয়েলে শারীরিক শক্তি ও উচ্চতার কার্যকারিতা, হাই স্ট্যামিনা, পজিশনিং ও টাইমিং সেন্স, হেডে পারদর্শীতা, গতিময় মুভমেন্টে খেলার ইন্টেন্সিটি বাড়ানো, দ্রুত ট্রানজিশনে কাউন্টার এটাকে যাওয়া তার হাই ওয়ার্করেটের কারণ। বার্সেলোনায় একইরকম খেলোয়াড় হলেন ফেরমিন লোপেজ ও দানি ওলমো।

যদিও আগে থেকেই গোলের দিকে বেলিংহ্যামের ঝোঁক বেশি। ফলে এটাকিং মিডফিল্ড (১০) বা সেন্ট্রাল মিডফিল্ড (৮) থেকে ফলস নাইন হিসেবেও কার্যকরী খেলোয়াড়। আক্রমণে প্রায়ই স্ট্রাইকারের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে বাড়তি চাপ তৈরি এবং পজিশনিং ও কৌশল দুর্বল করে স্পেস তৈরি করে দেওয়াতে কৌশলী। তার গোলমুখী খেলার ধরন রিয়ালে এসে আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বেলিংহ্যাম ইতোমধ্যে রিয়ালকে লা লিগা শিরোপা জিতিয়েছেন। এবার তার লক্ষ্য আরও বড়। ২০২৬/২৭ মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো স্পেনের লিগ শিরোপা জিতে রিয়ালকে আবারও স্প্যানিশ ফুটবলের শীর্ষে ফেরাতে চান তিনি। মৌসুমের শুরুতেই যেভাবে গোল ও অ্যাসিস্টে অবদান রাখছেন, তাতে বেলিংহ্যামের সামনে আরও কোনও বড় রেকর্ড অপেক্ষা করছে।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।