খেলারদেশ

রিয়াল মাদ্রিদ, লা লিগা

শৈশবের ক্লাবে কুকুরেয়া, এবার রিয়ালের জার্সিতে

শৈশবের ক্লাবে ফিরছেন কুকুরেয়া, তবে এবার রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে

শৈশবের ক্লাবে কুকুরেয়া, এবার রিয়ালের জার্সিতে

শৈশবের ক্লাবে কুকুরেয়া, তবে রিয়ালের জার্সিতে

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

মার্ক কুকুরেয়ার ফুটবলজীবনের গল্প যেন আবার ফিরে এসেছে শুরুর ঠিকানায়। লা লিগার নতুন মৌসুমে এস্পানিওলের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আরসিডিই স্টেডিয়ামে নামতে পারেন স্প্যানিশ এই তারকা। যে ক্লাবের একাডেমিতে তার অভিজাত ফুটবলে পথচলা শুরু হয়েছিল, এবার সেই ক্লাবের বিপক্ষেই খেলবেন তিনি, তাও রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে এবং বিশ্বকাপজয়ী হিসেবে।

Image

১৯৯৮ সালের জুলাইয়ে বার্সেলোনার কাছে আলেয়ায় জন্ম কুকুরেয়ার। ছোটবেলায় ফুটসাল দিয়ে ফুটবলে হাতেখড়ি হয় তার। পরে এস্পানিওল তাদের সান্ত আদ্রিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ট্রায়ালের আয়োজন করলে সেখানে যোগ দেন তিনি। প্রায় এক মাস অনুশীলন ও কয়েকটি প্রীতি ম্যাচের পর ২০০৬ সালে এস্পানিওলের একাডেমিতে জায়গা করে নেন কুকুরেয়া। পরবর্তী ছয় বছর ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলগুলোতে কাটান। তার বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পুরো পরিবারও। মা পাত্রিসিয়া নিয়মিত আলেয়া থেকে সান্ত আদ্রিয়ায় ছেলেকে অনুশীলনে নিয়ে যেতেন। কখনো কখনো ছোট ভাই-বোনেরাও সঙ্গে যেত এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রেই বসে পড়াশোনা করত।

Image

কুকুরেয়ার পরিচিত লম্বা চুলের গল্পটিও সেই শৈশব থেকেই। মাঠে অনেক শিশুর মধ্যে যেন তাকে সহজে শনাক্ত করা যায়, সে জন্য তার মা চুল বড় রাখতে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই চুলই হয়ে ওঠে কুকুরেয়ার অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য। শৈশবে কিছুটা লাজুক হলেও মাঠে নামলেই তার চরিত্র বদলে যেত। প্রচণ্ড উদ্যম, প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানসিকতা এবং দুই পায়েই স্বচ্ছন্দ হওয়ার কারণে দ্রুত নজর কাড়েন তিনি। এস্পানিওলের একাডেমিতে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন এবং বয়সভিত্তিক দলের অধিনায়কও হন।

২০০৬/০৭ মৌসুমে এস্পানিওল যখন উয়েফা কাপের ফাইনালে সেভিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল, তখন কুকুরেয়া ছিলেন ক্লাবটির একাডেমি খেলোয়াড়। পেনাল্টি শুটআউটে এস্পানিওলের হার তাকে এতই কষ্ট দিয়েছিল যে ম্যাচ শেষে কেঁদেছিলেন। সেই দলের লেফট-ব্যাক ছিলেন হোয়ান কাপদেভিয়া, যিনি পরবর্তীতে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন। বহু বছর পর কুকুরেয়াও একই অর্জনের মালিক হন। ২০১২ সালে কুকুরেয়ার সামনে আসে বার্সেলোনায় যাওয়ার সুযোগ। তার পরিবার বরাবরই বার্সেলোনা সমর্থন করত এবং ছোটবেলায় দাদার সঙ্গে ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচ দেখতে যেতেন তিনি। ফলে প্রস্তাবটি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু এস্পানিওল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তার জন্য সহজ ছিল না।

Image

কারণ, ছয় বছর ধরে ক্লাবটির সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সেখানে ছিল বন্ধুত্ব, স্মৃতি এবং ফুটবলে প্রথম বড় সুযোগ পাওয়ার ঋণ। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বার্সেলোনায় যোগ দেন কুকুরেয়া। সেই সময় এস্পানিওলের একই প্রজন্মের কার্লেস পেরেজ ও কার্লেস তোরেন্তসও বার্সেলোনায় পাড়ি জমান। বার্সেলোনায় থাকার পর সিনিয়র ক্যারিয়ারের জন্য অন্য পথে এগিয়ে যান কুকুরেয়া। আইবার ও হেতাফের হয়ে খেলার পর তার ঠিকানা হয় ইংল্যান্ড। ব্রাইটনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর চেলসিতে যোগ দেন। স্পেন জাতীয় দলেও জায়গা করে নেন এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হন।

কুকুরেয়ার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর কাকতালীয় ঘটনাগুলোর একটা হলো, লা লিগায় তার অভিষেকও হয়েছিল এস্পানিওলের মাঠেই। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আইবারের হয়ে আরসিডিই স্টেডিয়ামে স্পেনের শীর্ষ লিগে প্রথমবার মাঠে নামেন। যে ক্লাব তাকে শৈশবে ফুটবলের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল, সেই ক্লাবের মাঠেই হয়েছিল তার পেশাদার লা লিগা অধ্যায়ের শুরু। এস্পানিওলের সঙ্গে তার সম্পর্ক পরবর্তীতেও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কুকুরেয়ার পরবর্তী দলবদলগুলো থেকেও ফিফার প্রশিক্ষণ ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার আওতায় ক্লাবটি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। ফলে সিনিয়র পর্যায়ে কখনো এস্পানিওলের হয়ে না খেললেও তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন ধাপে ক্লাবটির অবদান রয়ে গেছে।

Image

এবার আবার সেই আরসিডিই স্টেডিয়ামে ফিরছেন কুকুরেয়া। তবে এবার গল্পটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আর আলেয়া থেকে অনুশীলনে যাওয়া সেই কিশোর না, এখন বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ তারকা এবং রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়। তার ক্যারিয়ারে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবই এসেছে। কিন্তু শেকড়টা রয়ে গেছে এস্পানিওলে। কুকুরেয়া নিজেও সেই সম্পর্ক ভুলে যাননি। সাবেক স্প্যানিশ তারকা কাপদেভিয়া যখন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এস্পানিওলের প্রতি এখনও তার টান আছে কি না, কুকুরেয়ার উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ, সবসময়।’

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।