বরুসিয়া ডর্টমুন্ড
ডর্টমুন্ড অভিষেকের তিন মিনিটেই লাল কার্ড
লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর ক্লাবের ব্যাজে বোতল ছুড়ে আরো বিতর্কের মুখে ডর্টমুন্ডের তরুণ

সামুয়েলে ইনাসিও
বুন্দেসলিগার নতুন মৌসুমের শুরুটা জয়ের হলেও শেষদিকে অস্বস্তিকর এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। হামবুর্গের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন ১৮ বছর বয়সী সামুয়েলে ইনাসিও। মাঠ ছাড়ার সময় হতাশায় বোতল ছুড়ে মেরে আরও বিতর্কে জড়িয়েছেন এই তরুণ।
ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ছিল ডর্টমুন্ডের হাতে। নবম মিনিটে সেরহু গিরাসির গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নতুন সাইনিং ইয়ানিস কনস্তেলাস। ২-০ গোলে এগিয়ে থাকায় মনে হচ্ছিল, সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে ডর্টমুন্ড।
কিন্তু ৭৪ মিনিটে ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। কনস্তেলাসের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ইনাসিও। তিন মিনিট না যেতেই মাঝমাঠে আলবার্ট গ্রোনবেককে থামাতে গিয়ে মারাত্মক ভুল করে বসেন তিনি। ট্যাকলের সময় স্টাডস সরাসরি প্রতিপক্ষের গোড়ালিতে লাগে। রেফারি ফেলিক্স জভেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। পরে ভিএআর পর্যালোচনার পরও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।



মাত্র কয়েক মিনিটের এই হতাশাজনক উপস্থিতির পর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি ইনাসিও। ড্রেসিংরুমের দিকে যাওয়ার সময় তিনি একাধিকবার পানির বোতল ছুড়ে মারেন। এর মধ্যে একটি বোতল টানেলের দেয়ালে থাকা ডর্টমুন্ডের ক্লাব ব্যাজে গিয়ে আঘাত করে। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে পুরো ঘটনাটি।

তবে ম্যাচ শেষে তরুণ সতীর্থের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডর্টমুন্ড অধিনায়ক ভালদেমার আন্তন। তার মতে, ঘটনাটি ছিল মুহূর্তের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। “এটা আবেগ, আর আবেগ ফুটবলেরই অংশ। আমার মনে হয় না সে ইচ্ছা করে এমন করেছে। দেখতে খারাপ লাগলেও কখনো কখনো আবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আমি এমন খেলোয়াড়ই দলে চাই, যে রাগ প্রকাশ করে; এমন কেউ নয়, যে কোনো কিছুরই পরোয়া করে না,” বলেন আন্তন।
তবে জার্মান ফুটবলের কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস বিষয়টি এতটা সহজভাবে দেখছেন না। তার মতে, ফাউলের চেয়েও ক্লাবের ব্যাজে বোতল ছোড়ার ঘটনাটি বেশি গুরুতর। “আমার মনে হয়, এটা ফাউলের চেয়েও খারাপ। শেষ পর্যন্ত এটা ক্লাবের ব্যাজ… এভাবে আচরণ করা যায় না,” বলেন ম্যাথাউস।
ডর্টমুন্ড কোচ নিকো কোভাচও অবশ্য ইনাসিওর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, লাল কার্ড দেখার পর ড্রেসিংরুমে কাঁদছিলেন এই তরুণ। দলকে হতাশ করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না বলেও জানান কোচ। “জীবন চলতে থাকবে। এ ধরনের ঘটনা ইচ্ছা করে করা হয় না। তাকে এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ছেলেটি ম্যাচের সঙ্গে আবেগগতভাবে খুব গভীরভাবে জড়িত,” বলেন কোভাচ।
ডর্টমুন্ড শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ইনাসিওর তিন মিনিটের সেই ক্যামিওই হয়ে থাকল ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
ক্লাব ফুটবলবায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়
ক্লাব ফুটবলঅভিষেকেই কোমোর বড় জয়
ক্লাব ফুটবলমেসি-লেওয়ানডফস্কির ম্যাচে নেই জয় পরাজয়
ক্লাব ফুটবলবার্সেলোনার গোলবন্যায় বিধ্বস্ত ফেইনুর্দ
ক্লাব ফুটবললিভারপুলের প্রত্যাবর্তন, পিএসজির গোলবন্যার রাতে আর্সেনালের কষ্টার্জিত জয়
ক্লাব ফুটবল


মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।