খেলারদেশ

সিরিজ সমতা ফেরালো অস্ট্রেলিয়া

স্টার্কের আগুনে দুই দিনেই শেষ বাংলাদেশ

দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

স্টার্কের আগুনে দুই দিনেই শেষ বাংলাদেশ

সিরিজে সমতায় ফেরালো অস্ট্রেলিয়া

ক্রিকেট প্রতিবেদক
By ক্রিকেট প্রতিবেদক

ম্যাকেতে প্রথমবারের মতো টেস্ট আয়োজনের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে মিচেল স্টার্কের জন্য, আর বাংলাদেশের জন্য হয়ে থাকবে ভুলে যাওয়ার মতো। আগের টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে ঐতিহাসিকভাবে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে সেই আত্মবিশ্বাসের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ধসে পড়ল বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত মাত্র দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। স্টার্কের ৬ উইকেটের তাণ্ডবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ৬৪ রানে। জবাবে অস্ট্রেলিয়াও বড় সংগ্রহ করতে পারেনি। শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ১৬৫ রানে ৮ উইকেট ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল ম্যাচে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে।

কিন্তু সকালের সেশনে অস্ট্রেলিয়ার টেল এন্ডার ব্যাটাররা বাংলাদেশকে সেই সুযোগ দেয়নি। আগের দিনের অপরাজিত ক্যামেরন গ্রিন শেষ পর্যন্ত ৬৭ রান করেন। নাথান লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত থেকে জশ হ্যাজলউডকে সঙ্গে নিয়ে আরও ২৪ রান যোগ করেন। শেষ উইকেটের জুটিটি ভাঙার পর ২১০ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। শরিফুল ইসলাম ৭ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা এবং বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন।

তাতে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে হয় ১৪৬ রানের ঘাটতি নিয়ে। কিন্তু শুরুতেই আবারও হাজির স্টার্ক। শাদমান ইসলামকে ১ রানে ফেরানোর পরের বলেই মুমিনুল হককে বোল্ড করেন তিনি। এরপর তানজিদ হাসান ৯ রান করে বিদায় নিলে ৩৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে মধ্যাহ্নভোজে যায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তখন ২৩ রানে অপরাজিত, সঙ্গে মুশফিকুর রহিম ৪ রানে।

লাঞ্চের পরও অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন শান্ত ও মুশফিক। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি শান্ত। নাথান লায়নের বলে ৩১ রান করে আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এরপর একে একে ফিরে যান লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজসহ অন্যরা। মুশফিকুর কিছুটা লড়াই করে ২৯ রানে অপরাজিত থাকলেও দলের ইনিংস বাঁচানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩৮.৩ ওভারে ৯৫ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে স্টার্ক নেন আরও ৪ উইকেট। ম্যাচে তাঁর মোট শিকার ১০ উইকেট—প্রথম ইনিংসে ৬/১২ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/৩৯। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর চতুর্থ ১০ উইকেটের ম্যাচ। অন্যদিকে প্যাট কামিন্সও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের লেজ গুটিয়ে দেন।

বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচের বড় প্রাপ্তি অবশ্য শরিফুল ইসলামের বোলিং। প্রথম টেস্টে না খেলা এই বাঁহাতি পেসার দ্বিতীয় টেস্টে ফিরেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন। ৭ উইকেটে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান বাংলাদেশের বিদেশের মাটিতে টেস্টে সেরা ইনিংস বোলিংয়ের নতুন নজির।

তবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা পুরো ম্যাচের ছবিটাই বদলে দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৬৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫—দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫৯। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ইনিংসেই এসেছে ২১০ রান। ফলে ১৪৬ রানের প্রথম ইনিংস লিড নিয়ে বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার ব্যাট করিয়ে ইনিংস ব্যবধানেই ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিকরা।

এ জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো। ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নয় উইকেটের জয় যেমন সিরিজে নতুন ইতিহাস লিখেছিল, ম্যাকেতে অস্ট্রেলিয়ার দুই দিনের এই জয় তেমনই তাদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জবাব হয়ে থাকল।

ক্রিকেট প্রতিবেদক

ক্রিকেট প্রতিবেদক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।