খেলারদেশ

অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট জয়

ডারউইনে বাংলাদেশের ইতিহাস

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় করলো টাইগার বাহিনী।

ডারউইনে বাংলাদেশের ইতিহাস

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ

খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নতুন এক ভোর। ডারউইনের আকাশে তখন যেন নেমে এসেছিলো রাতের আঁধার। কিন্তু মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জ্বলে উঠেছে লাল-সবুজের আলো। যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর আগে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ, সেই অস্ট্রেলিয়াকেই এবার তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে ইতিহাস লিখল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। মাত্র ৫৭ রানের ছোট্ট লক্ষ্য, কিন্তু সেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় তুলে নিল বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৮ রানে। স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের ভিত নাড়িয়ে দেন হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ধসিয়ে দেন তিনি। স্টিভ স্মিথের ৭১ রান ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি। জবাবে বাংলাদেশ ব্যাট হাতে বুঝিয়ে দেয়, এই সফরে তারা শুধু লড়াই করতে আসেনি। তানজিদ হাসানের অসাধারণ সেঞ্চুরি, অধিনায়ক শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে তোলে ৪২৬ রান। তানজিদের ১০১ রানের ইনিংসটি ছিল বিশেষভাবে ঐতিহাসিক—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হন তিনি।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের লিড ছিল ২২৮ রান। অস্ট্রেলিয়ার সামনে তখন ম্যাচে ফেরার কঠিন চ্যালেঞ্জ। তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ছিল ১৬১ রানে ৪ উইকেট। ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারির প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখালেও বাংলাদেশের বোলাররা শেষ দিনে সেই আশাও নিভিয়ে দেন। গ্রিন অবশ্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন তিনি। ১০৪ রানের ইনিংস খেলেও দলকে নিরাপদ জায়গায় নিতে পারেননি। কারণ অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিনের নায়ক হয়ে ওঠেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একে একে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। নাথান লায়নকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে থামান মিরাজ। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

ছোট লক্ষ্য হলেও ইতিহাসের ভার ছিল বিশাল। সেই ভারে শুরুতে একটু কেঁপে ওঠে বাংলাদেশ। জশ হ্যাজেলউডের বলে তানজিদ হাসান ফিরে যান দ্রুতই। কিন্তু তাতে ম্যাচের গতিপথ বদলায়নি। শাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক ধীরে ধীরে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। নবম ওভারে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ৩৩ রানে—জয়ের জন্য তখন বাকি মাত্র ২৪।

এরপর আর কোনো নাটক নয়। শাদমানের সঙ্গে মুমিনুলের ব্যাটে নিরাপদে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হাতে রেখেই ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত মুমিনুল অপরাজিত ছিলেন ৩০ রানে ও শাদমানের সংগ্রহ ছিলো ২৫. রান।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগে টেস্ট খেললেও জয় ছিল অধরা। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হলো ডারউইনে। হাসান মাহমুদের আগুনঝরা পেস, তানজিদের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, মিরাজের ঘূর্ণি আর পুরো দলের সম্মিলিত লড়াইয়ে বাংলাদেশ পেল ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় জয়। ডারউইনের গরম বাতাসে এদিন যেন অন্যরকম এক ঋতু—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট জয়ের ঋতু।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।