রিয়াল মাদ্রিদ
রিয়ালে দিওমান্দের সাফল্যের সম্ভাবনা
ইয়ান দিওমান্দে: রিয়াল মাদ্রিদের নতুন প্রজন্মের উইঙ্গার হওয়ার সব উপাদানই আছে, তবে এখনও বাকি পরিণত হওয়ার পথ

জোসে মরিনিও ও ইয়ান দিওমান্দে
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইয়ান দিওমান্দে নিজেকে এমন এক উইঙ্গার হিসেবে পরিচিত করিয়েছেন, যার খেলার সবচেয়ে বড় পরিচয় বহুমুখিতা।
দুই পায়েই সমান স্বাচ্ছন্দ্যে বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবল, পাস এবং শট নেওয়ার সক্ষমতা তাঁকে প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জে ফেলবে। ডিফেন্ডাররা সহজে বুঝে উঠতে পারেন না, তিনি কোনো দিকে কাট ইন করবেন নাকি লাইন ধরে এগিয়ে যাবেন। আধুনিক ফুটবলে এই অনিশ্চয়তা একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের অন্যতম বড় অস্ত্র।
রিয়াল মাদ্রিদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, দিওমান্দের প্রোফাইল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রদ্রিগোর ইঞ্জুরির পর, বহুদিন ধরেই এমন উইঙ্গারের খোঁজে ছিল ক্লাবটি। যে উইঙ্গার প্রয়োজনে দুই উইং-এই খেলতে পারেন, একই সঙ্গে ডান উইংয়েও ধারাবাহিকভাবে প্রভাব রাখতে পারেন। যদিও তিনি দুই উইং-এই সমান স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে তাঁর স্বাভাবিক পজিশন রাইট উইং-এ। আর এই পজিশনেই গত কয়েক মৌসুম ধরে কাঙ্ক্ষিত ধারাবাহিকতা পায়নি রিয়াল।
দিওমান্দের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। একক নৈপুণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে তিনি প্রায়ই ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে এনে ফাঁকা জায়গায় থাকা সতীর্থকে বল বাড়িয়ে দেন। ফলে তিনি শুধু সুযোগই তৈরি করেন না, সতীর্থদের জন্যও আক্রমণের নতুন পথ খুলে দেন। এই গুণ তাঁকে প্রচলিত উইঙ্গারের চেয়ে অনেক বেশি ‘টিম-ওরিয়েন্টেড’ ফুটবলার হিসেবে আলাদা পরিচয় দেয়।
বল পায়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসও চোখে পড়ার মতো। ছোট স্পেসে বল ধরে রাখা, দ্রুত দিক পরিবর্তন করা এবং প্রথম স্পর্শেই প্রতিপক্ষকে ছিটকে দেবার সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা তাঁকে বিপজ্জনক খেলোয়াড়ে করে তোলে। খোলা জায়গা পেলে তাঁর গতি আরও কার্যকর হয়ে ওঠে। আবার ছোট ছোট পাসের সমন্বয়েও আক্রমণের ছন্দ বজায় রাখতে পারেন।
তবে লা লিগায় তাঁর সামনে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে ‘লো ব্লক ডিফেন্স’-এর বিপক্ষে খেলা। স্পেনের অনেক দলই রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে নিজেদের অর্ধে নেমে গিয়ে রক্ষণ সাজায়। এমন পরিস্থিতিতে শুধু গতি বা ড্রিবল না, ধৈর্য, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং ছোট ছোট মুহূর্তকে কাজে লাগানোর ক্ষমতাই পার্থক্য গড়ে দেয়। দিওমান্দের সৃজনশীলতা সেই পরীক্ষায় কতটা কার্যকর হবে, তা দেখার বিষয়।
দিওমান্দের উন্নতির জায়গাও কম না। কখনো কখনো মাঠে আবেগ তাঁকে প্রভাবিত করে। প্রত্যাশিত পাস না পেলে কিংবা কোনো ড্রিবল বা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য সফল না হলে হতাশা তাঁর শরীরী ভাষায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাঝে মাঝে সেই হতাশা মনোযোগেও প্রভাব ফেলে। ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সফল হতে হলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি মুহূর্তে একই মাত্রার মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
অফ-দ্যা-বলেও দিওমান্দের ইতিবাচক দিক রয়েছে। প্রতিপক্ষের ওপর প্রেস করে চাপ সৃষ্টি করা, রক্ষণে নেমে ফুলব্যাককে সহায়তা করা, প্রয়োজনে দ্রুত নিচে নেমে দলের রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করার মানসিকতা তাঁর মধ্যে স্পষ্ট। আধুনিক ফুটবলে এই গুণগুলো একজন কমপ্লিট উইঙ্গার হয়ে উঠতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে, জোসে মরিনিয়োর মতো কোচের অধীনে খেলতে হলে এই বৈশিষ্ট্যগুলো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মরিনিয়োর দর্শনে উইঙ্গারদের শুধু আক্রমণে নয়, রক্ষণেও সমান ভূমিকা রাখতে হয়। হাই প্রেসিং, শারীরিক লড়াইয়ে দৃঢ়তা এবং কৌশলগত শৃঙ্খলা—এসব ক্ষেত্রে দিওমান্দের বর্তমান সক্ষমতা তাঁকে মরিনিয়োর পরিকল্পনার সঙ্গে ভালোভাবেই মানিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।
সব মিলিয়ে ইয়ান দিওমান্দে এখনও পরিপূর্ণ ফুটবলার নন। তাঁর খেলায় যেমন আবেগের নেতিবাচক দিক আছে, তেমনি রয়েছে অসাধারণ সম্ভাবনার ঝলক। সঠিক পরিবেশ, নিয়মিত খেলার সুযোগ এবং মানসিক পরিপক্বতা অর্জন করতে পারলে তিনি শুধু রিয়াল মাদ্রিদের ভবিষ্যৎ নন, ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আলোচিত উইঙ্গারেও পরিণত হতে পারেন।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।