এমএলএস-এর ঘাড়েও মেসির অবসরের ভয়
মেসির অবসর শুধু একটি ক্লাবের জন্য নয়, মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) জন্যও বড় শূন্যতা তৈরি করতে পারে।

লিওনেল মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে এসেছিলেন শুধু একজন তারকা হিসেবে নয়, বরং পুরো খেলাটির চেহারা বদলে দেওয়ার মতো এক মহাতারকা হয়ে। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর গত তিন বছরে মাঠ ও মাঠের বাইরে যে প্রভাব তৈরি করেছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড, তাঁর অবসর তাই শুধু একটি ক্লাবের জন্য নয়, মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) জন্যও বড় শূন্যতা তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মেসি চলে গেলে সেই শূন্যতা পূরণ করার মতো প্রস্তুতি কি আছে আমেরিকান ফুটবলের?

৩৯ বছর বয়সে পা রাখা মেসি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর শেষ বিশ্বকাপও হয়ে গেছে। এখন বাকি ক্লাব ফুটবল। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও, ক্যারিয়ারের শেষ বাঁকটি কখন আসবে, সেটি নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর।
তবে মেসির বিদায়ের আলোচনা শুরু হতেই ফুটবলবিশ্বে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—তাঁকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রভাব ছিল এতটাই ব্যাপক যে, তাঁর অনুপস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে লিগের দর্শক, বাণিজ্যিক আয়, সম্প্রচার এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতিতেও।

২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে মেসি যেন নতুন এক অধ্যায় শুরু করেন। তাঁর আগমনের কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ামি জেতে লিগস কাপ। এরপর সাপোর্টার্স শিল্ড এবং এমএলএস কাপও ঘরে তোলে দলটি। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মেসির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও মায়ামিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত ক্রীড়া ব্র্যান্ডে পরিণত করে।
মেসির প্রভাব অবশ্য শুধু ইন্টার মায়ামির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর ম্যাচ দেখতে প্রতিপক্ষের মাঠেও দর্শকের উপস্থিতি বেড়েছে। টিকিটের চাহিদা, জার্সি বিক্রি এবং ক্লাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা—সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য উত্থান। এমএলএসের বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও তাঁর আগমন বড় ভূমিকা রেখেছে। গোল ডট কম-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মেসি যুক্তরাষ্ট্রে আসার পরের ১২ মাসে এমএলএসের স্পনসরশিপ আয় ১৭ শতাংশ বেড়েছিল।
এই কারণেই মেসির সম্ভাব্য অবসরকে ঘিরে উদ্বেগ। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল যখন ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের পর নিজেদের বাজার আরও বড় করার সুযোগ পেয়েছে, তখন সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ফুটবল তারকার বিদায় সেই অগ্রযাত্রায় ধাক্কা দিতে পারে।

মেসির আগমনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে আরও অনেক তারকাদের উপস্থিতি বেড়েছে। সন হিউং-মিন, আঁতোয়ান গ্রিজমান ও রবার্ট লেভানডফস্কির মতো তারকারাও এমএলএসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন বা লিগে এসেছেন। ফলে মেসির তৈরি করা বৈশ্বিক আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে লিগ আরও তারকা আকর্ষণ করতে পারে—এমন প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।
কিন্তু সমস্যা হলো, মেসির বিকল্প হিসেবে কাউকে দাঁড় করানো প্রায় অসম্ভব। ব্রাজিলের সাবেক তারকা কাকার মন্তব্যেও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে মেসির প্রভাব ছিল অনন্য। তাঁর মতো জনপ্রিয়তা, মাঠের পারফরম্যান্স এবং বাণিজ্যিক আবেদন একসঙ্গে খুব কম খেলোয়াড়েরই আছে।
তাই মেসির অবসরের পর এমএলএসের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হবে একজন নতুন ‘মেসি’ খোঁজা নয়; বরং মেসিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা। তারকা খেলোয়াড় আনা, স্থানীয় প্রতিভা গড়ে তোলা, লিগের প্রতিযোগিতামূলক মান বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার দিকেই দিতে হবে গুরুত্ব।

খেলার দেশ ডেস্ক
খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।
সম্পর্কিত আরও খবর
ক্লাব ফুটবলবায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়
ক্লাব ফুটবলঅভিষেকেই কোমোর বড় জয়
ক্লাব ফুটবলমেসি-লেওয়ানডফস্কির ম্যাচে নেই জয় পরাজয়
ক্লাব ফুটবলবার্সেলোনার গোলবন্যায় বিধ্বস্ত ফেইনুর্দ
ক্লাব ফুটবললিভারপুলের প্রত্যাবর্তন, পিএসজির গোলবন্যার রাতে আর্সেনালের কষ্টার্জিত জয়
ক্লাব ফুটবল
মন্তব্যসমূহ (0)
মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।