খেলারদেশ

ইনফান্তিনো

ইনফান্তিনোর গোপন প্রেমিকা-কান্ড

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন অভিযোগ উঠেছে। দ্য টেলিগ্রাফ দাবি করেছে, উয়েফার মহাসচিব থাকাকালে এক নারী কর্মীর সঙ্গে তার কথিত সম্পর্ক ছিল।

ইনফান্তিনোর গোপন প্রেমিকা-কান্ড
খেলার দেশ ডেস্ক
By খেলার দেশ ডেস্ক

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন অভিযোগ উঠেছে। দ্য টেলিগ্রাফ দাবি করেছে, উয়েফার মহাসচিব থাকাকালে, তার এক নারী কর্মীর সঙ্গে গোপন সম্পর্ক ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনফান্তিনো ২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিফার সভাপতি হন তিনি। এর আগে প্রায় ১৬ বছর উয়েফার মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী তখন উয়েফার জুনিয়র কর্মী ছিলেন এবং ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার তথাকথিত গোপন সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক চলাকালে ইনফান্তিনো তাকে প্রশাসনিক পদ থেকে বেশি বেতনের পদে উন্নীত করা হয়।

টেলিগ্রাফের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন সাবেক সহকর্মী ও উয়েফার জ্যেষ্ঠ সূত্রের দাবি, ওই নারীর দ্রুত পদোন্নতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছিল। একপর্যায়ে উয়েফার তৎকালীন সভাপতি মিশেল প্লাতিনি নাকি বিষয়টি নিয়ে ইনফান্তিনোর মুখোমুখি হন। একাধিক সূত্রের দাবি, প্লাতিনি তাকে কার্যত জানিয়ে দিয়েছিলেন, 'হয় তিনি, নয়তো ওই নারীকে উয়েফা ছাড়তে হবে।' এরপর ওই নারী প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দেন। আর তখন তাকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই নারীর চাকরি ছাড়ার প্যাকেজের অংশ হিসেবে উয়েফা একটা স্থানীয় বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ কোর্সের খরচও বহন করে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক কোর্স ফি ছিল প্রায় ৪৫ হাজার পাউন্ড।

উয়েফা শুক্রবার রাতে ওই অর্থপ্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে সংস্থাটি বলেছে, সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ীই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। এক বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, ওই নারীকে চাকরি ছাড়ার সময় অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় এক বিজনেস স্কুলে এমবিএ করার ফিও পরিশোধ করা হয়েছিল। সংস্থাটির দাবি, তৎকালীন কর্মী-সংক্রান্ত বিধিমালা মেনেই এসব করা হয়েছিল এবং ২০১৬ সালের পর সেই নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কথিত সম্পর্ক চলাকালে ওই নারীর বেতন প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে বছরে ১ লাখ ৬০ হাজার সুইস ফ্রাঁ করা হয়েছিল। যা বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার পাউন্ডের সমান। পরে ইনফান্তিনো নিজের যোগাযোগ ব্যবহার করে ওই নারীর জন্য একই ধরনের খাতে একটি আকর্ষণীয় চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে ফিফা সভাপতি এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। ফিফার এক মুখপাত্র বলেছেন, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনো তার আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইনফান্তিনো এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর বলে মনে করেন। কর্মীদের চাকরি ছাড়ার প্যাকেজসহ সংশ্লিষ্ট সব সিদ্ধান্ত যথাযথ পরিচালকরা বিধিমালা অনুসারে অনুমোদন করেছেন বলেও ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইনফান্তিনো তার স্ত্রী লিনা আল-আশকার

ইনফান্তিনো তার স্ত্রী লিনা আল-আশকার

ইনফান্তিনো তার স্ত্রী লিনা আল-আশকারের সঙ্গে ফুটবলের মাধ্যমেই পরিচিত হন। লিনা তখন লেবানন ফুটবল ফেডারেশনে কাজ করতেন। ২০০১ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের চার মেয়ে রয়েছে। কথিত সম্পর্কের বিষয়ে তার স্ত্রী অবগত ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

টেলিগ্রাফের অনুসন্ধানে একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ইনফান্তিনোর অবস্থান নিয়ে উয়েফার ভেতরে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। অভিযুক্ত নারীকেও প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ করে শনাক্ত করা হয়নি।

ইনফান্তিনোকে ঘিরে এই নতুন অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ফিফা সভাপতির নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি ফিফার বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে দেওয়ার একটি অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে উয়েফার সঙ্গে ফিফার তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশই পরবর্তী বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে ভোট দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে নতুন এই অভিযোগ, ফিফার বিতর্কিত অর্থায়ন পরিকল্পনা এবং নেতৃত্ব নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিরোধ, সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। যদিও এসব বিতর্কের মধ্যেও তিনি পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলার দেশ ডেস্ক

খেলাধুলার সব খবর ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন খেলারদেশে।

সম্পর্কিত আরও খবর

এই বিভাগের সব খবর →

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।